রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
সংখ্যাগুলো ছোট নয়। মাত্র সাড়ে সাত মাসে ঠাকুরগাঁওয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে জব্দ হয়েছে ৬ হাজার ৪৯১ পিস ইয়াবা। এর সঙ্গে রয়েছে ৪ হাজার ৬৬ পিস টাপেন্টাডল, ৩২ বোতল ফেনসিডিল, ৭ কেজি ৩৮ গ্রাম গাঁজা, ৪৪২ লিটার দেশি মদ, ১০৫ বোতল ফেন্সিবিল, ২ বোতল ইস্কফ সিরাপ ও ৩ বোতল এমকেড্রিল।
শুধু মাদকদ্রব্য জব্দেই শেষ নয়, চলতি বছরের মার্চ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন মামলায় ৫১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। একই সময়ে মাদক সেবনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে করা হয়েছে ৮৪টি মামলা। এসব মামলায় ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং ৮৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে দেওয়া মাসভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বছরের মাঝামাঝি সময়ে মাদক উদ্ধারের পরিমাণও বেড়েছে। বিশেষ করে জুন ও জুলাই মাসে ইয়াবা ও টাপেন্টাডল উদ্ধারের পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য। মার্চে ডিবির অভিযানে জব্দ করা হয় ১ হাজার ৫৩৭ পিস ইয়াবা। একই সময়ে ৭৮৩ পিস টাপেন্টাডল, ৩২ বোতল ফেনসিডিল, ৬২৫ গ্রাম গাঁজা, ১৬১ লিটার দেশি মদ এবং ৭৮ বোতল ফেন্সিবিল উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় ৬৭টি মামলায় ৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এপ্রিলেও অভিযান অব্যাহত ছিল। ওই মাসে ৪২৪ পিস ইয়াবা, ১৬১ পিস টাপেন্টাডল, ৫৩৩ গ্রাম গাঁজা ও ২ বোতল ইস্কফ সিরাপ জব্দ করা হয়। এ সময় ৩২টি মামলায় গ্রেপ্তার হন ৪৬ জন। মে মাসে ইয়াবা উদ্ধারের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭১৬ পিস। এ ছাড়া ৫৩১ পিস টাপেন্টাডল, ফেনসিডিল, ৭৮৬ গ্রাম গাঁজা ও ২৩৫ লিটার দেশি মদ জব্দ করা হয়। এসব ঘটনায় ৬০টি মামলায় ৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে জুনে এসে ইয়াবা উদ্ধারের পরিমাণ এক লাফে বেড়ে যায়। ওই মাসে জব্দ হয় ২ হাজার ১৫৯ পিস ইয়াবা। সঙ্গে ছিল ৩৫০ পিস টাপেন্টাডল ও ২ কেজি ৮৫২ গ্রাম গাঁজা। এসব ঘটনায় ৬৬টি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় ৮৫ জনকে। জুলাইয়ে আবার টাপেন্টাডল উদ্ধারে বড় পরিমাণ দেখা যায়। ওই মাসে ১ হাজার ৩১১ পিস ইয়াবার পাশাপাশি ১ হাজার ৭৫৫ পিস টাপেন্টাডল, ২৭ বোতল ফেনসিডিল, ২ কেজি ১৫২ গ্রাম গাঁজা, ২৫ লিটার দেশি মদ ও ৩ বোতল এমকেড্রিল জব্দ করা হয়। এ সময় ৬৮টি মামলায় ৯৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আগস্টের প্রথম ১৪ দিনেও অভিযান থামেনি। এ সময়ে ৩৪৪ পিস ইয়াবা, ৪৮৬ পিস টাপেন্টাডল, ৯০ গ্রাম গাঁজা ও ২১ লিটার দেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ২১টি মামলায় ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এতে দেখা যায় এক মাসেই দুই হাজারের বেশি ইয়াবা জব্দ করেছে পুলিশ।
পুলিশের মাসভিত্তিক হিসাবের সবচেয়ে বড় চিত্রটি পাওয়া যায় জুন মাসে। ওই এক মাসেই জব্দ হয়েছে ২ হাজার ১৫৯ পিস ইয়াবা। মার্চের ১ হাজার ৫৩৭ পিসের তুলনায় জুনে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ ৬২২ পিস বেশি। আবার টাপেন্টাডল উদ্ধারের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ছিল জুলাই মাস। ওই মাসে ১ হাজার ৭৫৫ পিস টাপেন্টাডল জব্দ করা হয়। এর আগের মাস জুনে উদ্ধার হয়েছিল ৩৫০ পিস। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে টাপেন্টাডল উদ্ধারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এ হিসাব ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র সামনে আনছে মাদকদ্রব্যের ধরন ও উদ্ধারের পরিমাণ মাসভেদে পরিবর্তিত হলেও ইয়াবা ও টাপেন্টাডল পুলিশের অভিযানে নিয়মিতভাবে উঠে আসছে।
মার্চ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশের মাসভিত্তিক হিসাবে বিভিন্ন মাদক মামলায় অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর মধ্যে মার্চে ৮৮ জন, এপ্রিলে ৪৬ জন, মে মাসে ৮১ জন, জুনে ৮৫ জন, জুলাইয়ে ৯৩ জন এবং আগস্টের প্রথম ১৪ দিনে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দেওয়া সামগ্রিক হিসাবে, চলতি বছরের এই সময়ে জেলা পুলিশ ও ডিবির অভিযানে বিভিন্ন মামলায় মোট ৫১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মাদক সেবনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৮৪টি মামলায় ৮৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসব মামলায় ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ এবং শত শত মানুষ গ্রেপ্তারের পর স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসছে একটি প্রশ্ন, এত অভিযান ও গ্রেপ্তারের পরও ঠাকুরগাঁওয়ে মাদক সরবরাহ ও সেবন কতটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে? মাদকের উৎস কোথায়, কীভাবে এসব মাদক জেলায় প্রবেশ করছে, কারা সরবরাহ করছে এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মূল হোতারা কতটা আইনের আওতায় আসছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে জেলাবাসী।
ঠাকুরগাঁও শহরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ইয়াবা ও টাপেন্টাডলের মতো মাদক বিপুল পরিমাণে জব্দ হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে মাদক উদ্ধার ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে শুধু বহনকারী বা সেবনকারীদের গ্রেপ্তার করলেই মাদকের বিস্তার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
তারা আরও বলেন, এসব মাদক কোথা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে আসছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কারা সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত তা খুঁজে বের করে মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদারের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
কলেজ শিক্ষক মো. আতাউর রহমান বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন। একইসঙ্গে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল কাজল বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে ডিবির অভিযান নিয়মিতভাবেই চলছে। শুধু মাদক উদ্ধার ও মাদক বহনকারীদের গ্রেপ্তার নয়, এর সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার বিষয়েও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। কোথা থেকে মাদক আসছে, কীভাবে তা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে এবং কারা এর পেছনে রয়েছে এসব তথ্য সংগ্রহ করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদকদ্রব্য উদ্ধার, মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মাদকের মূল উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। গত সাড়ে সাত মাসে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ এবং পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও
০১৭৪০৮৬১০৮০
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
আঃজলিল স্টাফ রিপোর্টারঃ-- যশোরের শার্শা বাগআঁচড়া ডক্টর মশিউর রহমান মহিলা কলেজে উৎসব মুখর পরিবেশে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত। বুধবার (৪ নভেম্বর )কলেজের নিজস্ব হলরুম মিলনায়তনে আয়োজিত পবিত্র কোরআন তেলোয়াত ও গিতাপাঠের মধ্য দিয়ে কলেজ শিক্ষক হুমায়ন কবীর ও কলেজ শিক্ষার্থী সাবিয়া আফরোজ মিতু এবং শান্তা আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রায় ১২৫ নবীন শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডক্টর মশিউর রহমান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অনুষ্ঠানের সম্মানিত সভাপতি মোঃঈমান আলী। তিনি বলেন শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখা, নৈতিকতা অনুসরণ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে শিক্ষার প্রতি মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও সৃজনশীলতা চর্চার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন ড.মশিউর রহমান মহিলা কলেজেের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আমেরিকার নাসা বিষ্ণানি ২০১০সালে তিনি নিজস্ব অর্থানে তিন তলা একাডেমি ভবনের কলেজটি প্রতিষ্টিত করেন। পাশাপাশি প্রতিবছর মেয়েদের শিক্ষাবৃত্তি এবং শিক্ষার্থীরদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরন করে থাকেন, এবং এই কলেজ থেকে মিডিকেলে চান্সপ্রাপ্ত ছাত্রীদের খরজের ব্যায়ভার ও বহন করে থাকেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মকর্তা কর্মচারী বৃন্দ। নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীরা নৃত্য, সংগীত, আবৃত্তি ও নাটক পরিবেশন করেন, যা দর্শকদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি, অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আয়োজন পূর্বক বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই মুখরিত হয়ে ওঠে কলেজ ক্যাম্পাস। কেউ এসেছিলেন সেজে, কেউবা সাধারণ পোশাকে। নবীন বরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয় পুরো ক্যাম্পাসে। এছাড়াও নবীন বরণ উপলক্ষে আগত নতুন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় সকাল থেকেই মুখরিত ছিল পুরো ক্যাম্পাস। নতুন পরিবেশে নতুন মানুষদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বিভাগগুলোতে চলছিল পরিচিতি পর্ব। বিভাগগুলোতে আগত নতুন শিক্ষার্থীদের প্রথমেই ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান। শিক্ষার্থীরা এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অত্র কলেজের সুযোগ-সুবিধা, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ও সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন। কলেজের প্রশাসন নবাগত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে সব ধরনের সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে নতুন শিক্ষার্থীদের শুভ কামনা জানিয়ে মধ্যার্ন ভোজের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিক ভাবে সমাপ্তি ঘোষণা করেন। প্রেরক, আঃজলিল স্টাফ রিপোর্টার
ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি, কালো তালিকাভুক্তি বন্ধসহ ৩ দফা দাবি আদায়ে ২ ঘণ্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে বিক্ষুব্ধ পোশাকশ্রমিকেরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে সাভারের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। পরে বেলা ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। সরেজমিনে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুর এলাকা ঘুরে জানা যায়, সকালে পদ্মার মোড় এলাকায় বিক্ষুব্ধ পোশাকশ্রমিকেরা জড়ো হয়ে সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশ ও বিজিবি তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। তখন আন্দোলনরত শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। সাড়ে ১০টার দিকে হেমায়েতপুর-সিংগাইর সড়কে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পর স্টার টেলিভিশনের সাংবাদিক সোহন সিরাজী, ৭১ টিভির সাংবাদিক রায়হান বিন ও ক্যামেরাম্যান উজ্জ্বল হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে শ্রমিক-পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ১০ জন আহত হন। এদিকে, আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় কয়েকটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করেন। পরে কারখানাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলে শ্রমিকেরা সড়কে বেরিয়ে আসেন। এরপর পোশাকশ্রমিকেরা বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। বর্তমানে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর ও সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বেলা ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পোশাকশ্রমিকদের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান নূর জানান, শ্রমিকেরা ৩ দফা দাবি নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
খাগড়াছড়ি-দিঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়কে চলমান অবরোধ রবিবার দশম দিনে প্রবেশ করেছে।রবিবার দুটি সংগঠন অবরোধ সাময়িকভাবে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে, একই দিনে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি নতুন করে সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে।মিতালি চাকমা তার অসুস্থ মাকে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু গত রাতে অপর একটি গ্রুপের পক্ষ থেকে পাল্টা অবরোধের ঘোষণা দেওয়ায় তার জন্য সমস্যা তৈরি হয়েছে।স্থানীয় কলেজের অধ্যাপক মো. মুনিরসহ অনেকেই এই অবরোধের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন।অবরোধের কারণে স্থানীয় জনগণের মৌলিক প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে রবিবার অবরোধ সাময়িকভাবে lifted করা হয়েছে।অপরদিকে, শনিবার ও রবিবার লংগোলমারা এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। তবে, এই গুলিবর্ষণের ফলে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।স্থানীয় পুলিশ স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, গুলিবর্ষণের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতার কারণে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।