চ্যালেঞ্জ থাকলেও আগের নির্বাচনের চেয়ে আরও ভালো স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমস (আইএফইএস) আয়োজিত ‘স্ট্র্যাটেজিক লিডারশিপ ফর বাংলাদেশ’স লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশনস’ বিষয়ে এক্সেল এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ ডায়ালগ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন এসময় নির্বাচন কমিশনারগণ ও ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই। আমাদের আগের নির্বাচনে যে মানদণ্ড তৈরি হয়েছে, তার নিচে নামার কোনো সুযোগ নেই। বরং সম্ভব হলে আরও উন্নত করা হবে। এখন আশা করছি সবার কো-অপারেশন নিয়ে আমরা ভালো নির্বাচন করতে পারব, কোনো অসুবিধা হবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, নির্বাচন কবে হবে, সেই দিনক্ষণ এখনই বলা যাবে না। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিনক্ষণ আমরাই ঠিক করব। সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নেব। তিনি আরো বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার জন্য আমরা কিছু আইন-কানুন ও বিধি-বিধান সংশোধন করতেছি। এজন্য এটা একটু সময় লাগবে। এজন্য কমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সংশোধনের কাজ শেষ করে তা মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নির্বাচন আয়োজন শুধু নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে না উল্লেখ করে সিইসি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার প্রস্তুতিও প্রয়োজন। মাঠপর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন। এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন ভিন্ন প্রকৃতির এবং অতীতে এসব নির্বাচনে সহিংসতা তুলনামূলক বেশি হয়েছে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব এবার আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে। এখানে ভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বটা একটু বেশি থাকবে। আশা করি আমরা সবাইকে নিয়ে এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন আয়োজনের সময় দুর্গাপূজা, বর্ষা ও বন্যার সম্ভাবনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োগের মতো বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। এসব বিষয় সমন্বয় করে উপযুক্ত সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা হবে। তবে নির্বাচন অযথা বিলম্বিত হবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে উপ-নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। ৯০ দিনের মধ্যে এটা হয়ে যাবে। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি।
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে রাসায়নিক সার বিক্রি ও অতিরিক্ত সার মজুদের অভিযোগে এক সার ডিলারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্স নামের একটি খুচরা ডিলারের দোকানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের অধিক দামে রাসায়নিক সার বিক্রি এবং অবৈধভাবে ২৫৯ বস্তা ইউরিয়া, ১০৬ বস্তা ডিএপি ও ৪৫ বস্তা টিএসপি মজুদ রাখার অপরাধে দোকানের মালিক মো. নুর ইসলাম (৫০), পিতা মো. নুরফসালীকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকরামুল হক নাহিদ। অভিযানে উদ্ধারকৃত সারগুলো সরকার নির্ধারিত মূল্যে যথাযথভাবে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ দোকান মালিককে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ঝিলিম ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযানে সদর উপজেলা কৃষি বিভাগ ও সদর মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে সমাজসেবা অফিসের শিশু পরিবার ও এনএসআই অফিসের সামনে নতুন রাস্তার উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) এ রাস্তার উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশিদ। আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম। উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. হারুনুর রশিদ বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ অব্যাহত রয়েছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা মানুষের চলাচল সহজ করার পাশাপাশি এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন রাস্তা নির্মাণের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সরকারি শিশু পরিবারের নিবাসী শিশু, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এনএসআই অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আসা সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে। স্থানীয়রা জানান, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি চালু হওয়ায় দীর্ঘদিনের যাতায়াতের সমস্যা অনেকটাই কমবে। তারা এ উন্নয়নমূলক কাজকে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। এর আগে একই দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)-এর নিবাসী শিশুদের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশিদ। তিনি শিশুদের পড়ালেখা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সার্বিক কল্যাণের বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং তাদের উৎসাহ ও দিকনির্দেশনা দেন। অনুষ্ঠানে সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), চাঁপাইনবাবগঞ্জের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
রংপুরের একটি বাসা থেকে স্কুলশিক্ষক ও তার পরিবারকে শ্বাসরোধে হত্যার মর্মান্তিক খবর পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে ঢাকা ও ময়মনসিংহে চিকিৎসকদের ওপর হামলা এবং চাঁদা দাবির ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনা তুলে ধরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর দায় নিতে হবে বলেও আখ্যায়িত করেন। বাংলাদেশ টাইমসের পাঠকদের জন্য ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো- গতরাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতরা হলেন- জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং মেয়ে আগামী চক্রবর্তী। গোটা পরিবারকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়, বেদনাদায়ক ও লোমহর্ষক। সম্প্রতি দেশে সামাজিক অপরাধ, খুন-খারাবি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ঢাকায় একজন চিকিৎসকের কাছে ডলারে চাঁদা দাবি এবং পরবর্তীতে তার ওপর হামলা করে তাকে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছে। ময়মনসিংহে একজন পশুচিকিৎসকের কাছেও অনুরূপভাবে চাঁদা দাবি করে হামলা করা হয়েছে। আর সর্বশেষ রংপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা মারাত্মক অবনতি হয়েছে এবং তা কতটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, এই তিনটি ঘটনাসহ অসংখ্য ঘটনা থেকেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জনগণ উদ্বিগ্ন। জনগণ এর সুরাহা চায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর দায় নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্লিপ্ত ভূমিকা জনগণকে শঙ্কিত করে তুলেছে। বিশেষ করে রংপুরের এ ঘটনায় যে দুর্বৃত্তরা এই ভয়ংকর ঘটনা ঘটিয়েছে, দ্রুত তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একটার পর একটা অপরাধ সংঘটিত হয়ে চলেছে। কিন্তু ভুক্তভোগীরা সঠিক বিচার পাচ্ছেন না। আদালতে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা জনগণকে দারুণভাবে হতাশ করছে। এই হতাশা থেকে জনগণকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। তাই সরকারের ব্যর্থতার দিকে তাকিয়ে না থেকে আমাদের নিজেদের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারকে তার ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে বাধ্য করা দরকার। আসুন, সকলে মিলে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করে এসব অপরাধের হাত থেকে আমাদের দেশের প্রিয় জনগণকে রক্ষা করি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এসব অপরাধের হাত থেকে রক্ষা করুন। আমিন।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বঙ্গভবনে উঠেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার বেলা ১১টার দিকে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন তিনি। বঙ্গভবনে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতিকে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের কাছে তিনি শপথ নেন। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আনুষ্ঠানিকভাবে তার দায়িত্ব গ্রহণ সম্পন্ন হয়। এর আগে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। ১৯৯১ সালের পর এটিই ছিল দেশের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এনসিপির কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের গণহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়ে রেখেছে জানিয়ে সারজিস বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইভাবে হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদেরও ফিরিয়ে দিতে হবে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং প্রধানের আকস্মিক সফর এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এখনই ভারতে যেতে হবে পরে গেলে ক্ষতি হবে-এ ধরনের বক্তব্য কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতি মর্যাদাপূর্ণ আচরণের প্রকাশ নয়। এটা ভারতের ‘আধিপত্যবাদের স্টেটমেন্ট’ বলে মনে হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি যে দুটি শক্ত অবস্থানসম্পন্ন বিবৃতি দিয়েছে, তা সাধুবাদ জানাই। তবে, এসব অবস্থান শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত। এসময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের জনগণ ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বলেও উল্লেখ করেন সারজিস। অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সুজা উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা রিফাত রশিদ, আবু বাকের মজুমদারসহ এনসিপির কক্সবাজারের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তাড়াহুড়ো করে নয়, বরং পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। সম্প্রতি রাজধানীর মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। হুমায়ুন কবির বলেন, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে নানা গুঞ্জন থাকলেও এসব খবর অনুমাননির্ভর। জাতীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করে শীর্ষ পর্যায়ের সফরের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট বিষয়ে ঐকমত্য, পারস্পরিক সম্মান এবং মর্যাদাপূর্ণ আমন্ত্রণের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে ঢাকা ইতিবাচকভাবে ভাববে। তবে সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ। শেখ হাসিনাকে নিয়ে ক্ষোভ ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক ব্যক্তিদের ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে নয়াদিল্লির কাছে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে ভারসাম্য বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হচ্ছে। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও বাংলাদেশ নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করছে। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রিয়াদ সফরের প্রস্তুতিও এগোচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং চীনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার কথা জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে আশাবাদ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়েও আশার কথা জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক মনোভাব এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনার কারণে জটিলতা কাটতে শুরু করেছে বলে জানান তিনি। শিগগিরই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার আশা প্রকাশ করেন উপদেষ্টা। আফ্রিকায় নতুন বাজারের সন্ধান আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। আফ্রিকার ৫৪টি দেশের মধ্যে ৫২টি দেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে বলে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। এই সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে আফ্রিকায় বাংলাদেশের পণ্যের নতুন বাজার তৈরি এবং কন্ট্রাক্ট ফার্মিংসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কূটনৈতিক চাপ জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্সিকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কাজে লাগানোর কথাও জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। মিয়ানমার ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করার চেষ্টা চালানো হবে বলে জানান তিনি। হুমায়ুন কবিরের দাবি, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে একটি সুদৃঢ় পররাষ্ট্রনীতি কাঠামো গড়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা ও ভাবমূর্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় রয়েছে নয়াদিল্লি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তবে এ সফর নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটি একেবারেই একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল।’ প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফর নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য নয়াদিল্লি অপেক্ষা করছে। কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিদের মৃত্যু সাক্ষাতের শুরুতে কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নয় বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি জানান, এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করণীয়, তা করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার বিষয়েও সৌজন্য আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কোনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ধানমণ্ডি ৩২ ভাঙচুর রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মাহফুজ আলম, মো. হাসনাত আব্দুল্লাহসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। এতে অজ্ঞাতনামা আরো ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করার আবেদন জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামের এক নারী এ আবেদন করেন। বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন আদালত। এ বিষয়ে আদেশ পরে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আদালত। বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শারীফ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার আবেদনে ড. ইউনূস ও ড. আসিফ নজরুল ছাড়াও সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ড. রেজওয়ানা হাসান, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া আক্তার হোসেন, আব্দুল হান্নান মাসউদ, সারজিস আলম, সামান্তা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম ও ডা. তাসনিম জারাসহ আরো কয়েকজনের নাম রয়েছে মামলার আবেদনে। আবেদনে পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসাইন, কনক সারোয়ার, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নুরনবী, তাহরিমা জান্নাত সুরভী, বুলডোজার জোগানদাতা মো. মিলন, ফাহিম আল চৌধুরী ও আবুল কালাম আজাদকেও আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বেআইনি উদ্দেশ্যে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ভবনে প্রবেশ করেন। কোনো উসকানি ছাড়াই ভবনটির প্রধান ফটক ভেঙে তারা ভেতরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আবেদনে আরো বলা হয়, পরবর্তী সময়ে ১ থেকে ৯ নম্বর আসামির উসকানি, দায়িত্বহীনতা ও নির্দেশনায় বুলডোজার ব্যবহার করে ভবনটিতে ভাঙচুর চালানো হয়। এতে রাষ্ট্র ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবান দলিল, সংগৃহীত স্মৃতিচিহ্নসহ বিপুল সম্পদ লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাদীপক্ষ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নেওয়ার আবেদন করেছে। এর মধ্যে দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ৩৭৯, ৩৮০, ৩৯৫, ৪২৭, ৪৩৫, ৪৩৮, ৪৪৮, ৪২০, ৫০৬ ও ৫০৭ ধারা রয়েছে। এ ছাড়া বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ ও ৪ ধারা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদনও করেছেন বাদীপক্ষ।
আওয়ামী লীগ জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে গেছে, আর এখন যদি বিএনপি দলটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় দলটি রাজনীতি করতে পারবে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিজের ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন। নুরুল হক নুর লিখেছেন, ‘আ.লীগ তো জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেই গেছে। বিএনপি যদি জামায়াতের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, জামায়াত রাজনীতি করতে পারবে?’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘জামায়াতের মূর্খ নেতাকর্মীরা কি এ কথা উপলব্ধি করতে পারে?’ জামায়াত–শিবিরের কর্মীদের সমালোচনা করে নুর বলেন, ‘জামায়াত–শিবিরের অতিউৎসাহী কর্মীরা যতোই লাফালাফি করুক জামায়াত কখনোই এদেশের কোনো মেইনস্ট্রিম রাজনৈতিক দল হয়ে উঠতে পারবে না।’
বর্তমান সরকারের আমলের মতো এত স্বাধীনভাবে গণমাধ্যম চর্চার সুযোগ অতীতে আর কোনো সময় ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে তথ্য ভবনে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। এই পেশাকে যারা ফ্যাসিবাদের দালালি করার কাজে ব্যবহার করতে চান, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার যে অধিকার গণমাধ্যমের রয়েছে, সেটির যেন অপব্যবহার না হয়, সেদিকেও গণমাধ্যমকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ক্ষমতা জনগণের সেবায় ব্যবহার না করা হলে ৫ আগস্টের মতো পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এ সময় ‘ফ্যাসিস্ট’ ও দুর্বৃত্তদের পক্ষে গণমাধ্যমকে ব্যবহার না করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশে (পিআইবি) বাংলাদেশ এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বাটজা) আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এ কথা জানান থার্ড টার্মিনালের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে বিমানমন্ত্রী বলেন, আগের সরকার থার্ড টার্মিনালটি খুব খারাপ অবস্থায় রেখে গেছে। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এতে উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ করেনি। বর্তমান সরকার দ্রুত কাজ শেষ করতে সচেষ্ট রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি এ বছরের মাঝেই থার্ড টার্মিনাল চালু করার। এখন পর্যন্ত আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে আগামী ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনাল উন্মুক্ত করার।’ এ সময় দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাইলট হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন ফ্লাইং একাডেমি চালুর পরিকল্পনা নিয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান বিমানমন্ত্রী।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের ওপর হামলার অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অফিসে প্রবেশ, মারধর, হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত ও ভাঙচুরসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে। রাকসুর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মতিহার আমলি আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলার বাদী সালাহউদ্দিন আম্মারের আবেদনে পাঁচজনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস, সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মো. মাহমুদ হাসান মাহিন ও মামুন মিয়া, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মাহফুজুল ইসলাম নয়ন এবং ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আজহারুল ইসলাম। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিট থেকে ৩টা ১৫ মিনিটের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবনের জিএসের অফিসে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ছাড়াও রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব এবং সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা মেহেদী আহত হন। আদালতে দেওয়া আবেদনে সালাহউদ্দিন আম্মার উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় তিনি রাকসুর জিএসের অফিসে বসে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা লোহার রড, বাঁশ ও লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অবৈধভাবে সমবেত হয়ে তার অফিসের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা রাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় উঠে তার ২০২ নম্বর অফিস কক্ষে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। অভিযোগে বলা হয়, অফিসে প্রবেশের পর অভিযুক্তরা সালাহউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। তিনি এর প্রতিবাদ করলে তাকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয়। একই সঙ্গে তার অফিসের চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আনুমানিক এক লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীদের এ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গেলে রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব এবং মেহেদীকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত আনাসের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে নাজমুস সাকিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়। আঘাত ঠেকাতে গেলে তার ডান হাতে রক্তাক্ত জখম হয় বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নাজমুস সাকিবকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত মাহিন মেহেদীর বাম কানে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে মেহেদীও রক্তাক্ত জখম হন। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, মামলাটি আদালত গ্রহণ করেছে এবং এটি বর্তমানে পিবিআই-এর তদন্তাধীন পর্যায়ে আছে। পিবিআই মামলার তদন্ত শেষ করার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’ মামলার ব্যাপারে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমার সম্পাদকদের ওপর হামলা হয়েছে। এটা আমার কাছে মনে হয় যে, জাস্ট ফর কনসার্ন আর কিছুই না। এটা নিয়ে পরবর্তীতে একটা গেম খেলবে সরকার; এজন্য আমার সম্পাদকদেরকে ইনভল্ভ করে একটা মামলা করেছি।’ আদালতে দেওয়া দরখাস্তে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৪১, ৩৪৮, ৩২৪ ও ৪২৭ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ১৫১ সি/২৬ (মতিহার) বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকার বিভাগের পাঁচটি নির্বাচন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এরমধ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন রয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ভাঙ্গা ব্রিজ এলাকায় মহাসড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা বাজেট ধরা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। কমিশনের প্রস্তুতি শেষ হলে কোন নির্বাচন আগে হবে, তা নির্ধারণ করা হবে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের যেসব স্থানে ময়লা-আবর্জনা রয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার করে বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম, সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব করতে ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস (ইভি বাস) কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১০০টি বাস নারীদের জন্য বিভিন্ন রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশেষ বাসসেবা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি আয়োজিত ‘মহিলা বাস সার্ভিস (পিংক বাস)’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। সড়কমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব বাস সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে বাস কেনার ক্ষেত্রে অনুমোদন, টেন্ডারসহ আন্তর্জাতিক ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত দেড় বছর সময় লাগতে পারে। দ্রুত পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালুর লক্ষ্যেই সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ফসিল ফুয়েলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইভি বাস এখন অত্যন্ত জরুরি। ঢাকায় মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও এসব বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মন্ত্রী বলেন, ২০০টি ইভি বাসের মধ্যে ১০০টি বিভিন্ন রুটে নারীদের জন্য রাখা হবে। এর ফলে নারী যাত্রীদের জন্য বাসসেবার পরিধি বাড়বে। বর্তমানে কয়েকটি জেলায় নারীবান্ধব বাসসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভবিষ্যতে অন্যান্য বিভাগেও এ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, নারীদের জন্য ১৪টি বাস ১৩টি রুটে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি রুটে ১০টি বাস চলবে। একটি বাস একতলা এবং বাকি নয়টি দ্বিতল। চট্টগ্রামে একটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শেখ রবিউল আলম বলেন, নারী যাত্রীদের শুধু বাসে ওঠার পর নয়, অপেক্ষার সময় এবং বাস থেকে নামার সময়ও নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ দিতে হবে। বাসে ওঠা-নামার সময় হয়রানি, অস্বস্তি কিংবা অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি হলে নারীদের গণপরিবহন ব্যবহারে আগ্রহ কমে যায়। তাই নারীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্র বিনির্মাণ ও অর্থনীতিতে নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নারীরা যাতে তাদের সক্ষমতা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে পারেন, সে জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিআরটিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সংস্থাটি বর্তমানে ৫০০টির বেশি বাস পরিচালনা করছে এবং মোট বাসের সংখ্যা ১ হাজার ২০০-এর কাছাকাছি বা তারও বেশি। বর্তমানে বিআরটিসি লোকসানে নেই, বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থায় রয়েছে। তবে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা, অপারেশন ও সেবার মানে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। নারীদের জন্য চালু করা বাসসেবা যাতে অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের মতো কয়েক মাস পর বন্ধ হয়ে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আজ যে সেবা চালু হচ্ছে, দুই মাস পর এর মান আরও বাড়াতে হবে। প্রতিদিন ব্যবস্থাপনার উন্নতি করে সেবাকে আরও নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করতে হবে। এই উদ্যোগকে শুধু উদ্বোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সেবাটি ধরে রাখা, টেকসই করা, সমৃদ্ধ করা এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রস্তুত রয়েছেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ, সড়ক সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা প্রমুখ।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর একক অর্জন নয়,এটি ছিল বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও মতের মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ও অংশগ্রহণের ফসল। তাই কোনো পক্ষকে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের একক মালিকানা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না। গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জুলাইয়ের কন্ঠস্বর : তারুণ্য, প্রত্যয়, প্রতিরোধ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে শুধু একটি নির্দিষ্ট আন্দোলন হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করা যাবে না। বিভিন্ন দাবি, প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুরু হওয়া একাধিক আন্দোলন একপর্যায়ে বৃহত্তর গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। কেউ চাকরির দাবিতে, কেউ গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে, আবার কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছিলেন। ভিন্ন ভিন্ন দাবি ও অবস্থান থাকলেও শেষ পর্যন্ত জনগণের আকাঙ্ক্ষার একটি অভিন্ন জায়গা তৈরি হয়েছিল রাষ্ট্র ও সরকারব্যবস্থা যেন জনগণের জন্য পরিচালিত হয় এবং নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হয়। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মতো ঐতিহাসিক অর্জনের চেতনাও একসময় রাজনৈতিক মালিকানার মধ্যে চলে গিয়েছিল। ফলে একটি মহান জাতীয় অর্জনের চেতনাকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। একই ধরনের পরিস্থিতি যেন জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তরুণদের দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু সরকার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নাগরিকের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং সরকার গঠনের পর তাকে জবাবদিহির মধ্যে রাখার দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা শুধু দাবি করবেন না, সরকার ও জনপ্রতিনিধিরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন কি না, সেটিও দেখবেন। কোনো মন্ত্রী, এমপি বা জনপ্রতিনিধি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছেন কি না সেটি প্রশ্ন করা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা নাগরিকের দায়িত্ব। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিটের ওপর মঙ্গলবার আদেশ দেবেন হাইকোর্ট। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন। গত বৃহস্পতিবার আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ রিটটি করেন। রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব। রিটকারী আইনজীবী বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না। এতে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাহত হচ্ছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে। এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। ভোটগ্রহণ হবে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে। ১৯৯১ সালের পর এবারই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। ইসি কর্মকর্তারা জানান, মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম-৪ আসন শূন্য থাকায় জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ব্যালট পেপারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে। সংসদ সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে স্বাক্ষর করে ব্যালট নির্ধারিত বাক্সে জমা দেবেন। তিনি জানান, ভোটগ্রহণ শেষে সংসদের অধিবেশন কক্ষেই ভোট গণনা করা হবে। পরে ফলাফল ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। ইসি সচিব আরও জানান, ভোটগ্রহণের শুরুতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। গণনা শেষে বৈধ ব্যালটের সংখ্যা এবং প্রার্থীদের পাওয়া ভোটের হিসাব অনুযায়ী নির্বাচনী কর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফলাফল ঘোষণা করবেন। গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
এবার জামায়াতে ইসলামীকে বিরোধীদল হয়েই আওয়ামী লীগের ‘সমস্ত বৈশিষ্ট্য’ অর্জনকারী দল হিসেবে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য রাশেদ খাঁন। তিনি অভিযোগ করেছেন, কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার পর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জামায়াত–শিবিরের ‘পেশিশক্তির মহড়া’ দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ভেরিফায়েড প্রোফাইলে রাশেদ খাঁন লিখেছেন, “পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, জামায়াত–শিবির পুরোপুরি জালিম সংগঠনে পরিণত হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, অতীতে বিরোধী দলগুলোকে মজলুম ও বিনয়ী হিসেবে দেখা গেলেও জামায়াত প্রধান বিরোধী দল হয়েই আওয়ামী লীগের সব বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জামায়াত ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে ভিন্নমতের মানুষকে ন্যূনতম জায়গাও দেবে না। এ অবস্থায় জামায়াতের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান তিনি। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনের প্রশংসা করে রাশেদ খাঁন বলেন, যারা গণঅধিকার পরিষদকে জামায়াতমুখী করতে চেয়েছিল, তাদের বিষয়ে তারা সতর্কতা অবলম্বন করছেন। তার দাবি, জামায়াত–শিবির কতটা ‘ভয়ংকর’, তা এখন গণঅধিকার পরিষদ ও এর অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বুঝতে পেরেছেন। তিনি বলেন, সারাদেশে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদকে তিনি সাধুবাদ জানান। পাশাপাশি দলের কেউ যেন ভবিষ্যতে টকশো বা বক্তব্যে ‘জামায়াতি বয়ান’ না দেন, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন। জামায়াত ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেলের গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও ফ্যাসিবাদের পতনে দল হিসেবে জামায়াতের তুলনায় গণঅধিকার পরিষদের অবদান বেশি। তিনি আরও বলেন, “জামায়াত যখন গুপ্ত ছিল, গণঅধিকার পরিষদ তখন রাজপথে ছিল। কিন্তু আজকে তাদের আস্ফালন দেখে মনে হচ্ছে, তারাই সব করেছে! কিন্তু ইতিহাস তো বদলানো যায় না।
প্রধানমন্ত্রী তথ্য উপদেষ্টা ডা. জায়েদ উর রহমান বলেছেন, স্বাক্ষরিত জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে যা যা আছে তার সব কিছু বাস্তবায়ন করবে বিএনপি সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন। তিনি বলেন, অন্যান্য দলের ও নোট অব ডিসেন্ট ছিলো- তারা যদি ক্ষমতায় আসতো তাহলে তারা বাদ দিতো। ঠিক তেমনি বিএনপিও নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল অনেকটাই চূড়ান্তের পথে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের '১৮০ দিন পূর্তি' উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। মাহদী আমিন বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সুবিধার জন্য নতুন যে পে-স্কেল করা হয়েছে, সেটা অনেকটাই চূড়ান্তের পথে। তিনি আরও বলেন, ইশতেহারের বাইরে গিয়েও সরকার কাজ করেছে। অবসরপ্রাপ্ত এমপিও শিক্ষকদের অবসর ভাতা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের ৭ হাজার কোটি টাকা ফ্যাসিবাদী সরকার লোপাট করে দেওয়া হয়েছিল। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ২০২২ সালের পর থেকে টাকা পাননি। অবহিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী টাকার ব্যবস্থা করে দেন। দুইদিন আগে এক অনুষ্ঠানে আমরা ২ হাজার কোটি টাকা দিয়েছি
সরকারের প্রথম ছয় মাসে আশানুরূপ কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। দলটির দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস–সংকট, ক্যাম্পাসে সহিংসতা, দলীয় নিয়োগ এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতায় জনজীবনে হতাশা বেড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে বলেও দাবি করেছে দলটি। সোমবার রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সরকারের ছয় মাস: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা! জনগণের সামনে পূর্ণাঙ্গ খতিয়ান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারকে মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস কম সময় নয়। সরকারের মেয়াদের ১০ ভাগের ১ ভাগ সময় ইতোমধ্যে পার হয়েছে। তবে ছয় মাসেই সরকারের পূর্ণাঙ্গ সফলতা বা ব্যর্থতার হিসাব করা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, শাসনব্যবস্থা, উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং গণতান্ত্রিক চর্চার উন্নয়নসহ বিভিন্ন সূচকে সরকারের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করা যায়। এসব সূচক বিবেচনায় ছয় মাসে আশানুরূপ উন্নতি দেখা যায়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটে উদ্বেগ মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা বর্তমানে খুবই হতাশাজনক। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে শত শত কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এক হাজারের বেশি নতুন কলকারখানা চালুর বিষয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার নতুন কর্মসংস্থানের আশা দেখিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে বেকারত্ব আরো বেড়েছে। সার্বিকভাবে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও মানুষের জীবনমানের উন্নতি হয়নি। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে আলোচনায় বসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান মঞ্জু। তবে সরকার সেই পরামর্শ শোনেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। মঞ্জু বলেন, ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট আরো ভয়াবহ হতে পারে। কারণ বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের আগের ‘মাফিয়া চক্র’ এখনো বিদ্যমান। ‘সবার আগে দলীয়তন্ত্র’ সরকারের সুশাসন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, প্রশাসনে বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয় লোক নিয়োগ এবং ক্যাম্পাসভিত্তিক সহিংসতা সরকারের সুশাসন নিয়ে গুরুতর সংশয় তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রী মিতব্যয়িতা, সময়ানুবর্তিতা ও সাদামাটা জীবনযাপনের বার্তা দিলেও দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এর প্রতিফলন নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। মঞ্জু বলেন, খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় পুরোহিতদের ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার সামাজিক অর্থনীতিতে গতি আনার চেষ্টা করছে। তবে এসব উদ্যোগের তেমন কোনো প্রভাব সমাজে দেখা যাচ্ছে না। বরং এসব কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। তিনি বলেন, সরকারের কার্যক্রমে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে পারে যে বিরোধী দলের আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না। সাধারণ মানুষই ধৈর্য হারিয়ে রাস্তায় নেমে আসতে পারে। মঞ্জু বলেন, ‘ছয় মাসের সার্বিক মূল্যায়নে বলা যায়, সরকারের গতি ও অগ্রগতি হতাশাজনক।’ তার অভিযোগ, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এর পরিবর্তে সরকার ‘সবার আগে দলীয়তন্ত্রকে’ প্রাধান্য দিচ্ছে। ৩১ দফা নিয়ে বিএনপির সমালোচনা এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতি আবার ফিরে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় থাকা ইতিবাচক দিক। পুরো মেয়াদে এই রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। ভারত সফর নিয়ে সরকারের অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে এবি পার্টি বলেও জানান ফুয়াদ। বিএনপির ৩১ দফা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোট চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলা হলেও ৩১ দফা বিএনপির নিজেদের প্রস্তাব। অথচ ওই দফাগুলোর ৮ থেকে ১০টি বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। দলীয় নিয়োগের বিষয়ে ফুয়াদ বলেন, যোগ্য ব্যক্তিদের নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হলে সমস্যা নেই। তবে বিএনপি ক্রীড়াঙ্গনকে দলীয়করণ না করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা তারা রক্ষা করেনি। তিনি আরো অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠন নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতিও বিএনপি রাখেনি। এমনকি নির্বাচন কমিশনেও দলীয় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, ছয় মাসের মধ্যেই বিএনপি তাদের ৩১ দফা ভুলে গেছে। গুম ও জ্বালানি খাত নিয়েও সমালোচনা গুম ও মানবাধিকার প্রসঙ্গে ফুয়াদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের করা অধ্যাদেশ বাতিল করে আওয়ামী লীগের আমলের আইনের চেয়েও দুর্বল আইন করা হয়েছে। যারা গুমের সঙ্গে জড়িত, তাদেরই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জ্বালানি খাত বেসরকারীকরণের বিষয়েও সতর্ক করেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, সংসদে নীতিমালা প্রণয়ন ছাড়া জ্বালানি খাত বেসরকারি খাতে দেওয়া উচিত নয়। তারা বেসরকারীকরণের বিরোধী নন, তবে তা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হতে হবে। উগ্রবাদ মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এফসিএ, এনইসি সদস্য ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল) গাজী নাসির ও কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশারসহ দলের নেতারা।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন