জাতীয়

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে ওষুধের উৎপাদন খরচ বেড়েছে, এভাবে চলতে থাকলে দাম আরও বাড়বে
বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে ওষুধের উৎপাদন খরচ বেড়েছে, এভাবে চলতে থাকলে দাম আরও বাড়বে

  বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে ওষুধের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির (বাপি) মহাসচিব হালিমুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে কারখানায় জেনারেটর ও বড় ইউপিএস চালাতে হচ্ছে। গ্যাসের সংকট থাকায় জেনারেটরের জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে ডিজেলের ওপর। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়ছে। এভাবে জ্বালানি ব্যয় বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে উৎপাদন খরচ সমন্বয়ে ওষুধের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাপি কার্যালয়ে মালিক সমিতি ও স্বাস্থ্য বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) আয়োজনে ‘ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। হালিমুজ্জামান বলেন, ওষুধশিল্পের জন্য জ্বালানি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও ডিজেল দুই ক্ষেত্রেই শিল্পটি সমস্যায় পড়ছে। কারখানা চালানোর সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ১৫ টাকা ছিল বিদ্যুতের সরকারি রেট, আমার ফ্যাক্টরির হিসাবে এখন আসছে ৪২ টাকা। অর্থাৎ ১৫ টাকার জায়গায় ৪২ টাকা হচ্ছে। ওষুধশিল্পের সঙ্গে অন্যান্য শিল্পের বড় পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে বাপি মহাসচিব বলেন, ওষুধের উৎপাদনপ্রক্রিয়া একবার শুরু হলে তা মাঝপথে বন্ধ করা যায় না। বিদ্যুৎ চলে গেলে উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে কারখানাগুলোকে ব্যাকআপ হিসেবে জেনারেটর ও বড় ইউপিএস চালাতে হয়। গ্যাসের সংকট থাকায় জেনারেটর চালাতেও ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের ডিজেল মজুতের সক্ষমতাও পর্যাপ্ত নয়। ফলে ট্যাংক শেষ হয়ে গেলে দ্রুত ডিজেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। ওষুধের দাম নির্ধারণে শুধু জ্বালানি খরচ নয়, কাঁচামাল, মান নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সংরক্ষণ এবং গবেষণা ও উন্নয়নসহ (আরঅ্যান্ডডি) বিভিন্ন খরচ যুক্ত রয়েছে বলে জানান হালিমুজ্জামান। তিনি বলেন, ২০ বছর আগে গুডস স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস (জিএসপি) অনুযায়ী পাঁচটি পরীক্ষা করতে হতো। এখন পরীক্ষার সংখ্যা বেড়ে আটটি হয়েছে। আগে অনেক ধরনের ইমপিউরিটি বা অমেধ্য সম্পর্কে জানা ছিল না। এখন কোনো কোনো ওষুধে ১৮ থেকে ২০ ধরনের ইমপিউরিটি শনাক্ত করতে হয়। এসব পরীক্ষা করতে প্রয়োজনীয় রেফারেন্স স্ট্যান্ডার্ডের খরচও অনেক বেশি। ফলে ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণে ব্যয় বাড়ছে। ওষুধ উৎপাদনের পরও দীর্ঘ সময় ধরে নমুনা সংরক্ষণ ও নিয়মিত পরীক্ষা করতে হয় জানিয়ে হালিমুজ্জামান বলেন, কোনো ওষুধ বাজারে চাহিদা হারালেও নির্ধারিত শেলফ লাইফ পর্যন্ত এর নমুনা সংরক্ষণ করতে হয়। এমনকি মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নমুনা রেখে নিয়মিত পরীক্ষা করতে হয়। এসবের পেছনেও ব্যয় হয়। আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ উৎপাদনে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতেও আগের তুলনায় বেশি ব্যয় হচ্ছে বলে জানান বাপি মহাসচিব। আধুনিক ওষুধ উৎপাদনে এখন আরও বেশি বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন হচ্ছে। সব মিলিয়ে জ্বালানি, কাঁচামাল, মান নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সংরক্ষণ এবং গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিটি খাতেই ব্যয় বাড়ছে। এর মধ্যে জ্বালানি ব্যয় দ্রুত বাড়ায় তা সরাসরি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মুনাফায় চাপ তৈরি করছে। হালিমুজ্জামান বলেন, এই সবগুলিই আসলে ওষুধের উৎপাদন খরচ। তবে এটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এর মধ্যে জ্বালানির খরচও যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই আমাদের মুনাফার ওপর প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, জ্বালানির বাড়তি ব্যয় দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তা নিজেদের মুনাফা থেকে বহন করা কঠিন হবে। তখন উৎপাদন খরচ সমন্বয় করতে ওষুধের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।

News আগস্ট ২৪, ২০২৬ 0
রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব পদে ঠাকুরগাঁওয়ের আউয়াল আহমেদ
রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব পদে ঠাকুরগাঁওয়ের আউয়াল আহমেদ

   রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:   ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার জগন্নাথ গ্রামের কৃতিসন্তান আউয়াল আহমেদ রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁর এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্তিতে ঠাকুরগাঁওজুড়ে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। রাণীশংকৈল উপজেলার জগন্নাথ গ্রামের আউয়াল আহমেদের রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার খবরে স্থানীয়দের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী তাঁর এ অর্জনকে ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য গৌরবের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। স্থানীয়রা জানান, আউয়াল আহমেদের এ নতুন দায়িত্ব তাঁর কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, তিনি সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন এবং তাঁর কর্মের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের সুনাম আরও বৃদ্ধি করবেন। আউয়াল আহমেদের নতুন দায়িত্বে সফলতা, সুস্বাস্থ্য ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করেছেন জগন্নাথ গ্রামসহ রাণীশংকৈল ও ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বস্তরের মানুষ। ঠাকুরগাঁওয়ের গর্ব আউয়াল আহমেদের জন্য রইল আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা।  রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও  ০১৭৪০৮৬১০৮০

News আগস্ট ২৩, ২০২৬ 0
গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

  স্টাফ রিপোর্টার,  কবির হোসেন শান্ত  সরকারের কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে, বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যম ও তথ্যসেবায় নিয়োজিতদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। আজ রবিবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং অধীনস্ত দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে পরিচিতি সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। তথ্য মন্ত্রণালয় সচিব মাহবুবা ফারজানা সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সরকার কী করছে, জনগণের স্বার্থে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে- এসব তথ্য জনগণের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের একটি কঠিন সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। জনগণের স্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করছে। আন্দালিভ রহমান বলেন, গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। অতীতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে যে নিয়ন্ত্রণমূলক পরিবেশ ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব গণমাধ্যমব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের অভিজ্ঞতা সরকারের কাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করে জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারের কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান। নবনিযুক্ত মন্ত্রী আন্দালিভ রহমানকে স্বাগত জানিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি ও দেশের প্রেক্ষাপটে আন্দালিভ রহমান সবার কাছেই পরিচিত। তিনি সুসংগঠক, ডায়নামিক মানুষ।’ প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কর্মসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, একই মন্ত্রণালয়ে এখন আমাদের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি এ সুযোগকে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে গতি আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। এর আগে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানরা নতুন মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

News আগস্ট ২৩, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক নৌ ও বিমানবাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন: পদোন্নতিতে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক নৌ ও বিমানবাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন: পদোন্নতিতে

  বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির লক্ষ্যে গঠিত ‘নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে আজ রোববার সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই পর্ষদের শুভ সূচনা করেন তিনি। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে অ্যাডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এবারের নির্বাচনী পর্ষদের মাধ্যমে নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কমান্ডার ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এবং বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন, উইং কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার পদবির যোগ্য কর্মকর্তারা পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পদোন্নতির মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সততা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যোগ্য ও পদোন্নতিপ্রার্থী কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলাপরায়ণতা ও দূরদর্শিতাকেই পদোন্নতির প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।  

News আগস্ট ২৩, ২০২৬ 0
থার্ড টার্মিনালের সফট ওপেনিং ১৬ ডিসেম্বর: বিমানমন্ত্রী
থার্ড টার্মিনালের সফট ওপেনিং ১৬ ডিসেম্বর: বিমানমন্ত্রী

  হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের সফট ওপেনিং আগামী ১৬ ডিসেম্বর করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। তবে কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজন হলে সময় আরও দুই-এক মাস বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন সদ্য মন্ত্রী পদে পদোন্নতি পাওয়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সফট ওপেনিংয়ের পর সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি। রোববার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, ‘থার্ড টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সফট ওপেনিং হলেও করব। সেটার কাজ চলমান। আমাদের বিড বোধহয় এ মাসের মধ্যেই হবে। ২৫ তারিখে জাপানিরা বিড সাবমিট করবে এবং এটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ইভ্যালুয়েশন করে হোপফুলি সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমরা কন্ট্রাক্ট সাইন করতে পারব।’ তিনি বলেন, ‘তারপর আমাদের হাতে থাকবে সাড়ে তিন মাস। সাড়ে তিন মাসে আমরা চেষ্টা করব যে একটা যদি সফট ওপেনিংও করতে পারি, আমরা করলাম। আর যদি মনে করি যে একটু সময় লেগে ভালো হবে, তাহলে দুই-এক মাস সময় বাড়াতেও পারি।’ ‘কিন্তু এখনও আমরা ১৬ ডিসেম্বরেই সফট ওপেনিং করব, এটাতেই আমরা এখনও স্টিক রয়েছি,’ বলেন প্রতিমন্ত্রী থেকে সদ্য মন্ত্রী পদে পদোন্নতি পাওয়া এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।  

News আগস্ট ২৩, ২০২৬ 0
কাশিমপুর কারাগার/চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান ছাড়াই চলছে বন্দিদের হাসপাতাল
কাশিমপুর কারাগার/চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান ছাড়াই চলছে বন্দিদের হাসপাতাল

  কোটি কোটি টাকার আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, অপারেশন থিয়েটার আর প্যাথলজি ল্যাব—সবকিছু থাকলেও শুধু চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানের অভাবে দুই দশকেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর ২০০ শয্যার হাসপাতাল। ফলে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার বন্দির উন্নত চিকিৎসাসেবা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, আর মূল্যবান যন্ত্রপাতিগুলো অব্যবহৃত পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। জানা গেছে, গাজীপুরের কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্সে মোট চারটি কারাগার রয়েছে। এরমধ্যে কারাগার-২ এ সব ধরনের রোগের চিকিৎসার উপযোগী করে নির্মাণ করা হয় ২০০ শয্যার হাসপাতাল। বাকি তিনটি কারাগারের বন্দিদের চিকিৎসাও এখানে হয়। কিন্তু নির্মাণের পর থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ না হওয়ায় এর কার্যক্রম সীমিত রয়েছে। হাসপাতালের জন্য তত্ত্বাবধায়ক, দুজন সিনিয়র কনসালট্যান্ট, নয়জন জুনিয়র কনসালট্যান্ট, পাঁচজন আবাসিক চিকিৎসক, চিকিৎসা কর্মকর্তা, দুজন সহকারী সার্জন, একজন প্যাথলজিস্ট, দুজন রেডিওলজিস্ট, দুজন ফার্মাসিস্ট ও একজন ডিপ্লোমা নার্স কারাগার সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুজন চিকিৎসককে কাশিমপুর কারাগারের হাসপাতালে প্রেষণে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গাজীপুরের সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে আরও দুজন চিকিৎসক দিয়ে কোনোভাবে সেবা চালানো হচ্ছে। তারা সপ্তাহে দু-চারদিন আসেন। সকালে এসে দুপুরে চলে যান। বাকি সময়ে কোনো চিকৎসকই থাকে না। অথচ কারাগারে থাকা বন্দিদের মধ্যে যক্ষ্মা, টাইফয়েড, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। বিশেষ করে হৃদ্রোগে আক্রান্ত বন্দিদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন হলেও কাশিমপুর থেকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে যানজটসহ নানা কারণে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এতে সংকটাপন্ন রোগীদের ঝুঁকি বাড়ে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ২০০ শয্যার হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিভিন্ন বিভাগের জন্য মোট ৮ কোটি ৭৪ লাখ ২৯ হাজার ৪০১ টাকার সরঞ্জাম কেনার হিসাব রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে রেডিওলজি ও ইমেজিং, ল্যাবরেটরি ও প্যাথলজি এবং অর্থোপেডিক বিভাগের সরঞ্জামে। নথি অনুযায়ী, রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের সরঞ্জামের মূল্য ২ কোটি ২৩ লাখ ৯৬ হাজার ৮০৬ টাকা। এর মধ্যে এক্স-রে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, এক্স-রে ফিল্ম প্রসেসরসহ বিভিন্ন যন্ত্র রয়েছে। ল্যাবরেটরি ও প্যাথলজি বিভাগের সরঞ্জামের মূল্য ১ কোটি ৪৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩০০ টাকা। এই তালিকায় ব্লাড গ্যাস অ্যানালাইজার, ইলেকট্রোলাইট অ্যানালাইজার, কোয়াগুলেশন অ্যানালাইজার, মাইক্রোস্কোপ ও ইনকিউবেটরসহ বিভিন্ন যন্ত্র রয়েছে। অর্থোপেডিক বিভাগের সরঞ্জামের মূল্য ১ কোটি ৪১ লাখ ১০ হাজার ৫৬৬ টাকা এবং সার্জারি বিভাগের ৯৮ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭২ টাকা। অপারেশন থিয়েটার ও অ্যানেসথেশিওলজি বিভাগের জন্য ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৫ টাকা, ডেন্টাল বিভাগের জন্য ৬০ লাখ ৬১ হাজার ৮৭৪ টাকা এবং ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের জন্য ৪০ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকার সরঞ্জামের হিসাব রয়েছে। নথিতে ২০১১ সালের ৮ মার্চের একটি সরবরাহসংক্রান্ত কাগজও পাওয়া গেছে। এতে রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের বিভিন্ন সরঞ্জাম সরবরাহের তথ্য রয়েছে। হাসপাতালের ইনভেন্টরি তালিকাতেও এক্স-রে মেশিন, কম্পিউটারাইজড রেডিওগ্রাফি সিস্টেম, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামের উল্লেখ রয়েছে। হাসপাতালটিতে এত চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকার পরও কোনো বন্দি অসুস্থ হলে নেওয়া হয় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তবে সেখানেও বন্দিদের চিকিৎসায় রয়েছে সীমাবদ্ধতা। হাসপাতালটিতে বন্দিদের জন্য আলাদা প্রিজন সেল বা প্রিজন ওয়ার্ড নেই। ফলে গুরুতর অসুস্থ বন্দিদের হাসপাতালে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। কারাগারের কর্মকর্তারা জানান, দেশের অন্যান্য অনেক কারাগার থেকে হাসপাতালের দূরত্ব পাঁচ থেকে সাত মিনিটের। কিন্তু কাশিমপুর কারাগার থেকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে অনেক সময় প্রায় এক ঘণ্টা লাগে। গুরুতর রোগীদের নিয়ে তখন সমস্যায় পড়তে হয়। হাসপাতালে প্রিজন সেল ও প্রিজন ওয়ার্ড থাকলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে আসত। পাশাপাশি কাশিমপুরের কারা হাসপাতালে প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ করা হলে বন্দিদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজ ও কার্যকর হতো। কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারের জেল সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কারারক্ষীদের মধ্যে এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করা কয়েকজনকে বাছাই করে আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন নার্সিং পড়ানো হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে একজনকে রেডিওলজিস্ট, দুজনকে ফার্মাসিস্ট এবং একজনকে ডিপ্লোমা নার্স হিসেবে কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসক সংকটের সমাধান হয়নি। কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রায় ৩ হাজার ৫০০, কারাগার-২ এ প্রায় ৫ হাজার ৪০০, কারাগার-১-এ প্রায় ২ হাজার এবং কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে প্রায় ৭০০ বন্দি রয়েছেন। চার কারাগারে প্রায় ১১ হাজার ৬০০ বন্দির জন্য এত বড় হাসপাতাল ও কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেও জনবল সংকটে তার পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বন্দিরা, আর অব্যবহৃত পড়ে থাকা সরঞ্জাম নিয়ে তৈরি হয়েছে অপচয় ও নষ্ট হওয়ার শঙ্কা। গাজীপুরের সিভিল সার্জন মামুনুর রহমান বলেন, বিভিন্ন উপজেলা থেকে চারজন চিকিৎসককে প্রেষণে দেওয়া হয়েছে। তারা পালা করে দায়িত্ব পালন করেন। কাশিমপুর কারাগার-২ এর জেল সুপার হালিমা খাতুন বলেন, দেশের অন্যান্য অনেক কারাগার থেকে হাসপাতালের দূরত্ব পাঁচ থেকে সাত মিনিটের। কিন্তু কাশিমপুর কারাগার থেকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দূরত্ব অনেক। ফলে গুরুতর রোগীদের নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। কাশিমপুরের কারা হাসপাতালে প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ করা হলে বন্দিদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজ ও কার্যকর হতো।

News আগস্ট ২৩, ২০২৬ 0
পাঁচ ধাপে হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন : ড. মঈন খান
পাঁচ ধাপে হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন : ড. মঈন খান

  জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন ৫ ধাপে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি। রবিবার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান তিনি। ড. মঈন খান বলেন, বিগত সরকার ঠিকমতো নির্বাচন দেয়নি। বিএনপি সরকার প্রতিটি স্তরে সঠিকভাবে নির্বাচন দেবে। আওয়ামী লীগ সরকার ধনিকশ্রেণির সেবা করেছে, কিন্তু বিএনপি সরকার বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলবে। দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কোনো দুর্নীতির তথ্য থাকলে তা খতিয়ে দেখবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকেও সার্বিক সহযোগিতা ও উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের আভাস দিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী উল্লেখ বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, বরং আইনের নীতি ও সুশাসনে বিশ্বাসী। দেশে সত্যিকার অর্থে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ফিরিয়ে আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।  

News আগস্ট ২৩, ২০২৬ 0
মন্ত্রিসভায় রদবদলের পেছনে ‘পারফরম্যান্স মূল্যায়ন’
মন্ত্রিসভায় রদবদলের পেছনে ‘পারফরম্যান্স মূল্যায়ন’

  কাজের মূল্যায়ন, সমন্বয় এবং কাজের গতি বাড়াতে মন্ত্রিসভায় রদবদল এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মাধ্যমে মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাছে একটি বার্তাও দিতে চেয়েছেন তিনি। সেটি হলো মন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়ন হবে নিয়মিত। সরকারের একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। সূত্রগুলো আরও জানায়, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় আরও পাঁচ থেকে ছয়টি নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। এই দফায় পরিবর্তন এসেছে তথ্য ও সম্প্রচার এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা কারণেই প্রধানমন্ত্রী রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে নতুনভাবে। তথ্য মন্ত্রণালয়ে জহির উদ্দিন স্বপনের জায়গায় নতুন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। অন্যদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে। তার জায়গায় গত ছয় মাস ধরে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে পূর্ণ মন্ত্রী করে ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।  সদ্যসাবেক তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা ও সুবিধাসহ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রগুলো জানায়, তথ্য মন্ত্রণালয়ের পারফরম্যান্স, নির্দেশনা বাস্তবায়ন, সংকটের সময় যোগাযোগ এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে অসন্তোষ বাড়ছিল। কয়েকটি নিয়োগ নিয়ে মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কিছু নির্দেশনা ঠিকমতো বাস্তবায়িত হয়নি বলেও সূত্রগুলো জানায়। এ ছাড়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে জহির উদ্দিন স্বপন ও প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর মধ্যে সমন্বয়ে সমস্যার কথাও উল্লেখ করে সূত্রগুলো। সরকার হামের প্রাদুর্ভাব, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট জ্বালানিসংকটের সময় মন্ত্রণালয় থেকে আরও দ্রুত ও ধারাবাহিক যোগাযোগের আশা করেছিল। এ ছাড়া মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমও এই মূল্যায়নে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুটি সূত্র জানিয়েছে, সরকার গঠনের পরপরই আন্দালিব রহমান পার্থ তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি নীতিনির্ধারকদের কাছেও নিজের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, জহির উদ্দিন স্বপনের এই নতুন দায়িত্বকে দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে: প্রধানমন্ত্রী হয়তো তাকে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিজের কাছাকাছি রাখতে চেয়েছেন অথবা তার মন্ত্রণালয়ের পারফরম্যান্স এখানে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, সংকটের সময় সঠিক সময়ে তথ্য সরবরাহ, জনগণকে আশ্বস্ত করা এবং ভুল তথ্য মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়টি পিছিয়ে ছিল। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রগুলো জানায়, কাজের পদ্ধতি ও মন্ত্রণালয় পরিচালনা নিয়ে আফরোজা খানম রিতা এবং রশিদুজ্জামান মিল্লাতের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছায়। এরপরই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী। সর্বশেষ গত শুক্রবারের রদবদলের পর প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে, যার মধ্যে ২৮ জন মন্ত্রী এবং ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫ জনের মন্ত্রীর এবং ৫ জন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় আছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানকে। প্রধানমন্ত্রীর সাবেক পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও টেকনোক্র্যাট সদস্য হুমায়ুন কবীরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে এই মন্ত্রণালয়ে এখন দুজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং রোজকার বিষয়গুলোর দায়িত্ব ভাগ করে দিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মো. খলিলুর রহমান আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম সভাপতি হিসেবে এক বছরের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাজে গতি আনতে এবং মন্ত্রীকে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দায়িত্বে সহায়তার জন্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে সাচিং প্রু জেরীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত জুনে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর পদটি শূন্য ছিল। মন্ত্রিসভার উদ্দেশে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেন, তারেক রহমান শুরু থেকেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ১৮০ দিন পর সরকারের কাজের মূল্যায়ন করা হবে। তিনি বলেন, কাজের গতি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী যাকে যে দায়িত্ব দেওয়া উচিত মনে করেছেন সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখানে কাউকে অবমূল্যায়ন করা হয়নি। যে যে কাজে দক্ষ, তাকে সেখানেই আনা হয়েছে। অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, এই রদবদল থেকে বোঝা যায়, প্রধানমন্ত্রী বেশির ভাগ মন্ত্রীকে আরও কিছুটা সময় দিতে চান। তবে এর মাধ্যমে তিনি এই বার্তাও দিয়েছেন যে পারফরম্যান্স ভালো না হলে সামনে আরও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানউজ্জামান বলেন, প্রশাসনিক গতি বাড়ানো এবং নতুনদের সুযোগ দেওয়ার জন্যই এই রদবদল। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রীরা যদি এটিকে তাদের কাজের মূল্যায়ন হিসেবে দেখেন, তবে যারা স্বপদে আছেন এবং যারা নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন—সবার ওপরই ভালো করার চাপ বাড়বে।’

News আগস্ট ২৩, ২০২৬ 0
রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে: আইনমন্ত্রী
রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে: আইনমন্ত্রী

  রোহিঙ্গা সঙ্কট মূলত মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং এর স্থায়ী সমাধানের মূল উদ্যোগ সে দেশের সরকারকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নীতি গবেষণা কেন্দ্র’ আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট মিয়ানমারের নিজস্ব বিষয় হলেও বাংলাদেশ সম্পূর্ণ মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে লাখ লাখ নির্যাতিত রোহিঙ্গাকে সাময়িক আশ্রয় দিয়েছে। তবে এই সঙ্কটের চিরস্থায়ী সমাধানের দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারকেই পালন করতে হবে। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় ভূখণ্ড রক্ষা করা সরকারের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব। বর্তমান সরকার দেশের সার্বিক নিরাপত্তা এবং জনগণের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগের বিষয়ে তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার এই ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যে পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত নিতে চায়, তাতে দেশের সাধারণ জনগণের পূর্ণ সমর্থন ও আস্থা রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, দেশের ভূখণ্ডতা রক্ষা করা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার রক্ষা করাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমরা হস্তক্ষেপে রাজি না। রোহিঙ্গারা নৃ-তাত্বিকভাবে মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী। সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে এই সমস্যা সমাধানে আমরা আগ্রহী।

News আগস্ট ২৩, ২০২৬ 0
বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাসে হুমকির বিষয়ে কাজ করছে পুলিশ
বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাসে হুমকির বিষয়ে কাজ করছে পুলিশ

  বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাসে হুমকির বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য একটি গ্রুপ এই কাজ করছে। আজ রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। তিনি জানান, ‘আমরা চক্রটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।’

News আগস্ট ২৩, ২০২৬ 0
১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব সরকারি কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ
১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব সরকারি কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ

  সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও সংস্থার আওতায় বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গঠিত বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একই সঙ্গে পুনর্গঠিত কমিটির তথ্য আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-২ মো. আশরাফুল ইসলাম। চিঠিতে বলা হয়, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নের জন্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসব কমিটির অধিকাংশ কয়েক বছর আগে গঠিত হওয়ায় বর্তমানে সেগুলো হালনাগাদ নেই। এছাড়া কিছু কমিটির প্রজ্ঞাপন ও কার্যক্রম সংক্রান্ত তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন করে হালনাগাদ করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার বিদ্যমান কমিটিগুলো পুনর্গঠনের সময় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এতে স্থানীয় পর্যায়ের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব আরো কার্যকর হবে। পুনর্গঠিত প্রতিটি কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ তিনজনের মধ্যে অন্তত একজন নারী প্রতিনিধি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি বা আহ্বায়ক ওই তিনজনকে মনোনয়ন দেবেন। চিঠিতে আরো বলা হয়, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংযুক্ত তালিকায় থাকা ৯৮টি কমিটিসহ মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার আওতাধীন বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য বিদ্যমান সব কমিটি হালনাগাদ করতে হবে। পুনর্গঠন ও হালনাগাদ কার্যক্রম সম্পন্ন করে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করতে বলা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিগুলো দীর্ঘদিন পর পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি কার্যক্রমে অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব, সমন্বয় ও জবাবদিহিতা আরো জোরদার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

News আগস্ট ২০, ২০২৬ 0
২০ মাসেও শেষ হয়নি কোনাবাড়ী-কাশিমপুর সড়কের কাজ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
২০ মাসেও শেষ হয়নি কোনাবাড়ী-কাশিমপুর সড়কের কাজ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

  দীর্ঘ ২০ মাস পার হলেও শেষ হয়নি মাত্র এক কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাবে খানাখন্দে ভরা সড়কটি এখন হাজারো মানুষের চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধুলাবালি, কাদা ও বড় বড় গর্ত পেরিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী, শিক্ষার্থী ও চালকরা। বলছিলাম গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ী-কাশিমপুর আঞ্চলিক সড়কের কথা। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর কোনাবাড়ী থেকে যমুনা গার্মেন্টস পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করে গাজীপুর সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ২০ মাস পরও পুরো কাজ শেষ হয়নি। বর্তমানে কচ্ছপগতিতে চলছে এই নির্মাণকাজ।  স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে রাখায় স্বাভাবিক যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চালকরা এই সড়কে চলাচল করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ফলে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের সময় ও খরচ—দুটিই বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীরা। স্থানীয়দের ভাষ্য, জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় সড়কের বেহাল দশার কারণে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও উড়ন্ত ধুলাবালি আবার কোথাও বড় বড় গর্ত—এসব পেরিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের। এদিকে সড়কের পাশে থাকা হকার্স মার্কেট ও বঙ্গ মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দোকানিদের অভিযোগ, সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ক্রেতা সমাগম কমে গেছে। প্রায় দুই বছর ধরে ব্যবসা মন্দা থাকায় অনেক ব্যবসায়ী কর্মচারীদের বেতন ও দোকান ভাড়া পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। ইতোমধ্যে কেউ কেউ পুঁজি হারিয়ে ব্যবসা গুটিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলেও জানান তারা। স্থানীয়দের প্রশ্ন, মাত্র এক কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ শেষ করতে কেন এত দীর্ঘ সময় লাগবে? কাজের ধীরগতির জন্য দায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৭-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা নাজরাতুন নাঈমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিভিন্ন জটিলতার কারণে দেরি হচ্ছে। বর্তমানে কাজ চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কাজ শেষ করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা না হলে দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হবে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের মান, নির্ধারিত সময়সীমা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তদারকিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

News আগস্ট ১৯, ২০২৬ 0
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গণনা সরাসরি সম্প্রচার হবে : সিইসি
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গণনা সরাসরি সম্প্রচার হবে : সিইসি

  রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গণনা বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রী—সবাই এই নির্বাচনের ভোটার। তাই এটি একটি হাই-প্রোফাইল নির্বাচন হতে চলেছে। ভোটের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিইসি এই ভোটে যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই চূড়ান্ত। যে ফলাফল ঘোষণা করা হবে, সেটিই চূড়ান্ত ফলাফল। ভোটগ্রহণের পর গণনা শেষে তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়ে সিইসি বলেন, স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীর ভোট দেওয়ার দৃশ্য বিটিভির মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এরপর সম্প্রচার বন্ধ থাকবে। ভোট গণনার সময় আবার সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। কারো কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গণনাও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের উপস্থিতিতে কেউ কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা করতে পারবেন না।’ এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। বিশ্ববাসী এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে।’

News আগস্ট ১৯, ২০২৬ 0
মোবাইল অপারেটরদের কলড্রপ কমানোর নির্দেশ মন্ত্রীর
মোবাইল অপারেটরদের কলড্রপ কমানোর নির্দেশ মন্ত্রীর

  মোবাইল ফোনে কলড্রপ কমাতে অপারেটরদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। একই সঙ্গে ডাটা প্যাকেজের দাম ও মেয়াদ নিয়েও গ্রাহকদের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (১৯ আগস্ট) মোবাইল অপারেটর রবি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশ দেন। টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, মোবাইল অপারেটরদের শুধু শহরকেন্দ্রিক নেটওয়ার্ক উন্নয়নে গুরুত্ব দিলে হবে না। গ্রামের মানুষও যেন মানসম্মত মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা পান, সে জন্য গ্রামাঞ্চলে নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করতে হবে। অনুষ্ঠানে কলড্রপের ভোগান্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের হাতে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। এদিকে অনুষ্ঠানে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারী জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে দেশে টুজি সেবা বন্ধ করার পরিকল্পনা নেই। গ্রাহকদের অভিযোগ, কথা বলার সময় হঠাৎ কল কেটে যাওয়া, ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং অনুমতি ছাড়াই ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস চালুর মতো সমস্যায় নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, গত সাড়ে পাঁচ বছরে মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে ৬৬ হাজার ৭০৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে। ফলে কলড্রপ ও অন্যান্য মোবাইল সেবার মান উন্নয়নে অপারেটরদের ওপর নতুন করে চাপ বাড়ছে।

News আগস্ট ১৯, ২০২৬ 0
একনেকে ১০ প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় হবে প্রায় ৯ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা
একনেকে ১০ প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় হবে প্রায় ৯ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা

  জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। সভায় ৬টি নতুন এবং ৪টি সংশোধিত প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে সংস্থান করা হবে ৮৪৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। বুধবার (১৯ আগস্ট) একনেক বৈঠক শেষে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বিস্তারিত জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকী। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনা প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প এবং ১০টি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯টি আধুনিক হোস্টেল ভবন নির্মাণ কাজ। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সেতুসমূহের আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে লালমনিরহাট সদর উপজেলাকে ধরলা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালীকরণ সংক্রান্ত দুটি প্রকল্প রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্পটিও চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে। এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীনে জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও ডেসকো এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রামু সেনানিবাসের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের তালিকায় রয়েছে। একই সঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক পূর্বে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও ৯টি প্রকল্প সম্পর্কে আজকের সভায় একনেক কমিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়।

News আগস্ট ১৯, ২০২৬ 0
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি কেউ, ভোট ২০ আগস্ট
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি কেউ, ভোট ২০ আগস্ট

  দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বহুল কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত শেষ দিনে কোনো প্রার্থীই তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি বলে নিশ্চিত করেছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে বিরতিহীনভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ২০ জন নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সচিব। ভোটগ্রহণের সার্বিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে ইসি সচিব জানান, নির্ধারিত দিনে ভোটগ্রহণের শুরুতে নির্বাচনী কর্মকর্তা উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানিয়ে কার্যক্রম শুরু করবেন। এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্যালট পেপারের বিশেষ নকশা অনুমোদন করা হয়েছে, যার রং হবে সাদার ওপর কালো প্রিন্ট। তিনি বলেন, ভোটগ্রহণ হবে দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আমরা ব্যালট পেপার ছাপিয়ে ওইদিন নিয়ে যাবো। ব্যালট পেপার হবে সাদা ওপর কালো প্রিন্ট। ইসি সচিব বলেন, ভেটগ্রহণ শেষে তখনই প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে। আমরা দেখবেন আমরা কত তাড়াতাড়ি ফলাফল প্রকাশ করতে পারি। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য (আদালতের নির্দেশে নির্বাচিত প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় চট্টগ্রাম-৪ আসন এখনো শূন্য রয়েছে)। আখতার আহমেদ বলেন, বিএনপি ও সমমনাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদের মধ্যে কেউই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করলে ৬ আগস্ট শূন্য পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। একক প্রার্থী না থাকায় ১৯৯১ সালের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার ভোটগ্রহণ করা হবে। ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর বৈধ ও অবৈধ ভোট গণনা শেষে জাতীয় সংসদ কক্ষেই আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী কর্মকর্তা। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদীয় পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের এই ভোটগ্রহণ ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

News আগস্ট ১৮, ২০২৬ 0
চার বছরে মশকনিধনে দুই সিটির ব্যয় ৫৪১ কোটি টাকা
চার বছরে মশকনিধনে দুই সিটির ব্যয় ৫৪১ কোটি টাকা

  মশা নিয়ন্ত্রণে গত চার বছরে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ব্যয় ৫৪১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৮৬ কোটি ২৫ লাখ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা। মশা নিয়ন্ত্রণে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও রাজধানীতে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রকোপ কমছে না। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৭০ জনন। এর মধ্যে ৩২ জনই ঢাকার। আজকের পত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানায়, কীটতত্ত্ব গবেষকদের আশঙ্কা, আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বরজুড়ে রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরো বাড়তে পারে। তাঁদের মতে, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে এডিস মশার যে প্রজনন হয়েছে, তা এখন ডেঙ্গু ছড়ানোর উপযোগী হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিন দশকে এ খাতে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বেশি। এ অর্থ ব্যয় হয়েছে মশা নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রপাতি ও ওষুধ কেনা এবং ওষুধ ছিটানোর কাজে। এরপরও রাজধানীতে মশার উপদ্রব কমছে না। এর আগে ১৯৯৬-৯৭ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত ২৭ বছরে মশার ওষুধ, যন্ত্রপাতি, ওষুধ ছিটানো ও সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যয় হয়েছে ৭৬৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। মশক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় হয়েছে আরো ৫০৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ওই সময়ে ব্যয় হয়েছে এক হাজার ২৭৫ কোটি টাকার বেশি। এত অর্থ ব্যয়ের পরও মশার উপদ্রব ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের মশকনিধন কার্যক্রম এখনো মূলত ওষুধনির্ভর। একই ধরনের কীটনাশক দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে মশার মধ্যে ওষুধপ্রতিরোধী ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি মশার ওষুধ কেনা ও প্রয়োগে অনিয়ম এবং মানহীন ওষুধ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। নগর-পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, শুধু কীটনাশক ছিটানো ও ওষুধ কেনার ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ নিতে হবে। মশা নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনাবিদ, জীববিজ্ঞানীসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আলাদা ইউনিট গঠন করা প্রয়োজন। সনাতনী ওষুধনির্ভর পদ্ধতিতে থাকলে ভবিষ্যতে নগরবাসীর ভোগান্তি আরো বাড়বে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মশকনিধনে ডিএনসিসি ১১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। আগের অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে ১৩১ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে যথাক্রমে ৫০ কোটি ৭৫ লাখ ও ৮৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। চার অর্থবছরে ডিএনসিসির ব্যয় ও বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ৩৮৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে ডিএসসিসি মশকনিধনে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যয় করেছে ৩৩ কোটি, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২২ কোটি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৫ কোটি টাকা। চার বছরে এ সিটির ব্যয় ও বরাদ্দ প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা। মশা নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ড্রেন-নর্দমায় গাপ্পি মাছ, ঝিল-লেক ও পুকুরে হাঁস ও ব্যাঙ ছাড়া, কদমগাছ রোপণ, ফিঙে পাখির মাধ্যমে মশা নিয়ন্ত্রণ এবং মশার উৎস শনাক্তে ড্রোন ব্যবহারের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে এসব উদ্যোগ মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হওয়ার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছেন কীটতত্ত্ববিদরা। কীটতত্ত্ববিদ ও বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির সাবেক সভাপতি মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, হাঁস, ব্যাঙ, পাখি কিংবা কদমগাছ রোপণ মশা নিয়ন্ত্রণে অবৈজ্ঞানিক ও কল্পনাপ্রসূত উদ্যোগ। কার্যকর কীটনাশকের পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেন তিনি।

News আগস্ট ১৮, ২০২৬ 0
মাসিক বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে দিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী
মাসিক বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে দিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী

  এবার সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার–ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বন্ধের সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারের পরিবর্তে রাষ্ট্রের কাজ ও জনস্বার্থ রক্ষার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছে সরকার। সরকারের প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই–বুকে এমনটি বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার মাসিক মূল বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার ১০ শতাংশ অর্থাৎ, প্রতি মাসে ১১ হাজার ৫০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে যাচ্ছেন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের আগে বিএনপি ৩১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে। জনগণের সমর্থন নিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষে সরকারের প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই–বুকে বলা হয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশ ছিল আমদানিনির্ভর ও ঋণনির্ভর অর্থনীতি, ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন এবং দুর্বল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার মধ্যে। সরকার প্রথম দিন থেকেই পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে। তবে প্রথম ১৮০ দিনে প্রতিটি খাতে শতভাগ সাফল্যের দাবি করেনি সরকার। জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের শতভাগ আন্তরিকতা ছিল বলে ই–বুকে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, কৃষির পুনরুজ্জীবন, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং বিশ্ব পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারের দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ন্যায়, জবাবদিহি, মানবিক মূল্যবোধ ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিতে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের কাজ চলছে। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে ধৈর্য ও সহনশীলতার রাজনীতির কথা বলা হয়েছে। সরকারি–বেসরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার–ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার বন্ধ, সরকারি অফিস, আদালত, স্কুল–কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অপ্রয়োজনে নেতার ছবি টাঙানোর সংস্কৃতি বন্ধ, প্রধানমন্ত্রীর চলাচলে ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং গাড়িবহরে প্রটোকলের বাড়াবাড়ি না রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার মূল বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দিচ্ছেন এবং দলীয় এমপিদের বাড়ি–গাড়ির সুবিধা নিতে নিষেধ করেছেন। সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার–ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বন্ধের সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারের পরিবর্তে রাষ্ট্রের কাজ ও জনস্বার্থকে সামনে আনার দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সরকারি ব্যয় সংকোচন, প্রটোকল সরলীকরণ, ব্যক্তিবন্দনার অবসান এবং জনমুখী উদ্যোগের সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন ধরনের চর্চার কথা বলা হয়েছে। সংসদীয় ও সরকারি ব্যয় কমাতে ভোজ, আপ্যায়ন, বিদেশ সফরের প্রতিনিধিদলসহ অপ্রয়োজনীয় খাতে কাটছাঁট করা হয়েছে। দেশীয় পণ্য ব্যবহারে অগ্রাধিকার, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সরল জীবনযাপন এবং প্রশাসনে অপচয় রোধে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের প্রতি সৌজন্যমূলক আচরণ, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতি নিরুৎসাহিত করার কথাও বলা হয়েছে। প্রবাসী কর্মীদের শ্রমিক ঋণ, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ঋণ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, ধর্মীয় ব্যক্তিদের ভাতা, কৃষিঋণ মওকুফ, ‘ওয়ান স্টপ ওয়ান সার্ভিস’, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’, খুদে বৈজ্ঞানিক প্রকল্প এবং ‘নজরুলবর্ষ’সহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মাসিক মূল বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এর ১০ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি মাসে ১১ হাজার ৫০০ টাকা তিনি সরকারি কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন বলেও ই–বুকে উল্লেখ করা হয়

News আগস্ট ১৮, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে জাতীয় সংসদের দেয়ালে কালেমা তাইয়্যেবা
প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে জাতীয় সংসদের দেয়ালে কালেমা তাইয়্যেবা

  বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান হিসেবে ব্যক্তিগত জীবন যাপন করার পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও স্বাধীনতার নীতি অনুসরণ করেন। সরকার প্রধান হিসেবে তার ধর্মের প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত একটি পোস্টে। ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ‘‘২০২৬ সালের ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের ১৩তম অধিবেশন শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের পরামর্শে স্পিকারের আসনের ঠিক পেছনের দেয়ালে আরবি ক্যালিগ্রাফিতে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জাতীয় সংসদের প্রবেশদ্বারগুলোতে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’—এই মূলনীতি খোদাই করে সংযোজন করা হয়েছে।’’  

News আগস্ট ১৮, ২০২৬ 0
রাজস্ব সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
রাজস্ব সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

  জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ‘রাজস্ব সম্মেলন ২০২৬’-এ যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে দিনব্যাপী এ সম্মেলন। এনবিআরের এটি দ্বিতীয় রাজস্ব সম্মেলন। এর আগে ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো রাজস্ব সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। এবারের সম্মেলনে এনবিআরের সদস্য, কমিশনার, মহাপরিচালক, পরিচালক, সচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন করতে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তাদের সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সোমবার অফিস আদেশ জারি করে এনবিআর। দায়িত্ব নেওয়ার পর এনবিআরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম বৈঠক। ফলে সম্মেলনে রাজস্ব আদায় বাড়ানো, করের আওতা সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ এবং মাঠপর্যায়ে এনবিআরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সংস্কার, প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো এবং দেশের অর্থনীতিতে রাজস্ব খাতের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা আসতে পারে।

News আগস্ট ১৮, ২০২৬ 0
দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান, কমিশনার জাহাঙ্গীর ও সাজ্জাদ
দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান, কমিশনার জাহাঙ্গীর ও সাজ্জাদ

  দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া। গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রীপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা এক প্রজ্ঞাপন সূত্র এসব তথ্য জানা গেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭-এর উপধারা (১)-এর বিধান অনুযায়ী নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান, ড. জাহাঙ্গীর আলম খান এবং ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে নিয়োগ দেওয়া হলো। এর মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭-এর উপধারা (১)-এর বিধান অনুযায়ী বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর দুদক আইন, ২০০৪-এর ধারা ১৩-এর বিধান অনুযায়ী কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের এবং কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে আজ বিকেলে সার্চ কমিটি তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তিনি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি দীর্ঘকাল হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া কমিশনার হিসেবে নাম চূড়ান্ত হওয়া ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর কমিশনার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। অপর কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান অবসরপ্রাপ্ত সাবেক সচিব। তিনি ৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন বলে জানা গেছে। গত ৩ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যানসহ তিন কমিশনার পদত্যাগ করার পর নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এরপর নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সদস্যসচিব করে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। সার্চ কমিটি ছয় দফা বৈঠক করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই ও যোগ্যতা পর্যালোচনা করে। পরে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার হিসেবে এ কে আসাদুজ্জামান, ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার নাম চূড়ান্ত করে। ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন দুদকের প্রথম চেয়ারম্যান বিচারপতি সুলতান হোসেন খান থেকে সর্বশেষ মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন পর্যন্ত মোট সাতটি কমিশন দায়িত্ব পালন করে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসহ নানা জটিলতায় মাত্র তিনটি কমিশন পুরো মেয়াদ পূর্ণ করতে পেরেছিল। বাকি চার কমিশন মেয়াদ পূর্ণ করার আগে বিদায় নিতে হয়। সর্বশেষ মোমেন কমিশন মেয়াদ পূরণ না করেই বিদায় নিয়েছে। চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদ শূন্য থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুদকের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়। কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন এমন অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও আটকে আছে। নতুন কমিশন দায়িত্ব নিলে এসব কার্যক্রমে গতি ফেরার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ থেকে অবসরে যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আসাদুজ্জামান হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি থেকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৫৯ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন বিচারপতি আসাদুজ্জামান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। ১৯৮৩ সালে তিনি জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগের এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে স্থায়ী হন তিনি।   

News আগস্ট ১৮, ২০২৬ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

Top week

জ্বালানির অভাবে দুটি জেনারেটর অচল, গরমে রোগীদের হাঁসফাঁস
রাজনীতি

জ্বালানির অভাবে দুটি জেনারেটর অচল, গরমে রোগীদের হাঁসফাঁস

News আগস্ট ১৬, ২০২৬ 0