স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জে একাধিক ভবনে নকশা লঙ্ঘন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ; ঘুষ বাণিজ্য, বিদেশ ভ্রমণ, সম্পদ অর্জন ও পদোন্নতি নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ নারায়ণগঞ্জে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৮-এর একাধিক কর্মকর্তা ও ভবনমালিকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে এসব অনিয়ম দেখেও না দেখার ভান করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও জননিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে রাজউক জোন-৮-এর পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির শুরুতে যথাযথ অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ, চাকরির পরীক্ষায় নিজের বোনকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরও তাঁর পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, জোন-৮-এ রাজিয়া সুলতানার প্রভাব এতটাই বেশি যে তাঁকে সংস্থাটির ‘একাই একশো’ ক্ষমতাবান কর্মকর্তা বলেও অভিহিত করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রাজিয়া সুলতানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণে বাড়ছে ঝুঁকি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ভবন নির্মাণে অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াশফি ডেভেলপার লিমিটেড, সুফিয়া কমপ্লেক্স, সেন্ট্রাল প্লাজা, আছিয়া ম্যানশন, টিপিএল টাওয়ার ও কেএমএস টাওয়ারসহ একাধিক ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাড়ির মালিকদের অভিযোগ, রাজউক জোন-৮ কার্যালয়ে প্রাথমিক ছাড়পত্র থেকে শুরু করে ভবনের নকশা অনুমোদন পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, আগে এসব অনিয়ম কিছুটা গোপনে হলেও বর্তমানে তা প্রকাশ্য আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভবন নির্মাণের নিয়মনীতি অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, নিয়মিত তদারকিও হচ্ছে না। নয় তলার নকশায় ১০ তলা সুফিয়া কমপ্লেক্স নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ার ৬৯ নম্বর প্লটে সুফিয়া কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নয়তলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে ১০ তলা। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে সেন্ট্রাল প্লাজার বিরুদ্ধেও। অনুসন্ধানে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ভবনটির গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় গোডাউন তৈরি করে দোকান ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ভবনটিতে অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভবনের মূল অংশ থেকে নির্ধারিত দূরত্বে রাস্তা রাখার নিয়মও মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা, ট্রান্সফরমার, জেনারেটর ও বিদ্যুতের সাবস্টেশন স্থাপনের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে ভবনগুলোর বাসিন্দা ও ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়। টিপিএল ও কেএমএস টাওয়ার ঘিরে অভিযোগ নারায়ণগঞ্জে রাজউক জোন-৮-এর কার্যালয়ও টিপিএল টাওয়ারে অবস্থিত। ভবনটিতে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। রাজউক একাধিকবার জরিমানা করলেও ভবনটির অনিয়ম সংশোধন করাতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। টিপিএল টাওয়ারের পাশেই অবস্থিত কেএমএস টাওয়ারের বিরুদ্ধেও ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সেন্ট্রাল প্লাজার মালিকের সঙ্গে কর্মকর্তাদের সম্পর্কের অভিযোগ সেন্ট্রাল প্লাজার মালিক আলমগীরের সঙ্গে রাজউক জোন-৮-এর কয়েকজন কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংস্থাটির এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে ভবনমালিককে নকশাবহির্ভূত নির্মাণকাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, একই ধরনের অনিয়মে আরও দুটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ভবনগুলোর নাম, অনুমোদিত নকশা ও সংশ্লিষ্ট নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। চাকরির শুরুতে বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে প্রশ্ন রাজিয়া সুলতানা ২০১১ সালের ২৪ মার্চ রাজউকে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, চাকরিতে যোগদানের পরপরই যথাযথ ছুটি ও সরকারি আদেশ (জিও) ছাড়াই তিনি বিদেশ ভ্রমণ করেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি যুক্তরাজ্যে যান। এ ভ্রমণের অনুমোদন ও ছুটিসংক্রান্ত নথি যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজিয়া সুলতানার ধারাবাহিক বিদেশ ভ্রমণ নিয়েও রাজউকের অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে বলে জানা গেছে। মালয়েশিয়া, দুবাই, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ভ্রমণের তথ্য উল্লেখ করেছেন কয়েকটি সূত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র দাবি করেছে, দেশের বাইরে রাজিয়া সুলতানার একাধিক ব্যবসায় বিনিয়োগ রয়েছে। তবে এসব বিনিয়োগের কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বিদেশ ভ্রমণের নথি পর্যালোচনা করলে বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে ওই সূত্রের দাবি। সম্পদ অর্জন ও পূর্বাচলের প্লট নিয়ে অভিযোগ রাজিয়া সুলতানার নামে ও বেনামে বিপুল সম্পদের অভিযোগ নিয়েও অনুসন্ধান চলছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পূর্বাচলে বিশেষ ব্যবস্থায় একটি প্লট পেয়েছেন। এ ছাড়া হাজী ক্যাম্পের বিপরীতে দক্ষিণখানে তাঁর পাঁচতলা বাড়ি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পূর্বাচলের প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাটাগরিতে বরাদ্দ পাওয়া একটি প্লট কৌশলে নিজের নামে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব সম্পদ ও প্লট বরাদ্দের বিষয়ে দলিল, বরাদ্দপত্র, আয়কর নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নথিপত্র পর্যালোচনা প্রয়োজন। বোনকে চাকরির পরীক্ষায় সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রাজউকের প্রশাসন বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে নিজের বোনকে সংস্থাটির চাকরির পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন রাজিয়া সুলতানা—এমন অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ ঘটনায় তৎকালীন পরিচালক (প্রশাসন) মুহম্মদ কামরুজ্জামান জড়িয়ে পড়েন এবং বিষয়টি নিয়ে সে সময় রাজউকে আলোচনা তৈরি হয়। বর্তমানে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মুহম্মদ কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি অনেক দিন আগের; তাঁর ঠিক মনে নেই। তবে ওই ঘটনায় কোনো বিভাগীয় তদন্ত, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কিংবা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পদোন্নতি ও চলতি দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রাজিয়া সুলতানার পদোন্নতি ও চলতি দায়িত্ব পাওয়া নিয়েও রাজউকের অভ্যন্তরে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজউকে উপপরিচালক (প্রশাসন) পদে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১১টি। এর মধ্যে আটটি পদ পূরণ করা হয়েছে এবং তিনটি পদ শূন্য ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই শূন্য পদের বিপরীতে রাজিয়া সুলতানাকে গুরুত্বপূর্ণ জোন-৮-এর পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) পদে অনুমোদিত ১২টি পদই শূন্য রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, এসব শূন্য পদে দায়িত্ব প্রদানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন রাজিয়া সুলতানাকে জোন-৮-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হলো? তবে পদসংখ্যা, পদোন্নতি ও চলতি দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিমালা এবং সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ যাচাই করা প্রয়োজন। দায়িত্ব প্রদানের সিদ্ধান্তে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য এসব নথি গুরুত্বপূর্ণ। পরিচালকের নীরবতা, জবাবদিহি কোথায়? নারায়ণগঞ্জে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ, অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি এবং রাজউক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে জোন-৮-এর পরিচালক রাজিয়া সুলতানার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁকে ক্ষুদে বার্তাও পাঠানো হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, চাকরির শুরুতে বিদেশ ভ্রমণ, সম্পদ অর্জন, চাকরির পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা এবং পদোন্নতি নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে রাজউক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে ভবন নির্মাণের অনুমোদন, নির্মাণকাজের তদারকি এবং অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্পাঞ্চলে এসব ক্ষেত্রে অবহেলা জননিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা।
ঢাকায় স্ত্রী ও বোনের নামে পাঁচ ফ্ল্যাট # হবিগঞ্জ ও কুড়িগ্রামে পেট্রোল পাম্প # যুক্তরাষ্ট্রে গড়েছেন অঢেল সম্পদ গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) ডিপ্লোমা প্রকৌশলী মো. রফিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ এবং দেশে-বিদেশে বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার অভিজাত এলাকা বসুন্ধরায় স্ত্রী ও বোনের নামে পাঁচটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, হবিগঞ্জ ও কুড়িগ্রামে দুটি পেট্রোল পাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রে বোনের নামে ফ্ল্যাটসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির (বাপিডিপ্রকৌস) ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রফিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এসব অভিযোগ জমা দিয়েছেন একই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারী। গত ২৬ অক্টোবর দুদকে দেওয়া অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, কাজের ব্যয় বাড়িয়ে বিল উত্তোলন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ঢাকায় সর্বশেষ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে মুগদা হাসপাতালের ভবন নির্মাণ ও সংস্কার, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কার এবং পুলিশের বিভিন্ন ভবন নির্মাণকাজে অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে কাজের মান, ব্যয় নির্ধারণ, দরপত্র ও বিল পরিশোধের বিষয়গুলো তদন্ত করা হলে অনিয়মের চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ভেরিয়েশন বা কাজের পরিমাণ ও ব্যয় পরিবর্তনের সময় কয়েক গুণ বেশি দর দেখিয়ে সরকারের ২০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় একপর্যায়ে তদন্ত শুরু হলেও প্রভাব ও উৎকোচের মাধ্যমে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। দেশে-বিদেশে সম্পদের পাহাড়ের অভিযোগ: অভিযোগে রফিকুজ্জামানের সম্পদের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগকারীর দাবি, ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্ত্রী ও বোনের নামে পাঁচটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি। এ ছাড়া নিজের জন্মস্থান হবিগঞ্জ এবং কুড়িগ্রামে দুটি পেট্রোল পাম্পের মালিকানার সঙ্গেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাঁর বোনের নামে একটি ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে বলেও অভিযোগকারীর দাবি। এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস এবং বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। পদায়ন যেখানে, দুর্নীতির অভিযোগও সেখানে: অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, রফিকুজ্জামান পিডব্লিউডির বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি নির্মাণ ও সংস্কারকাজে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি তাঁকে হবিগঞ্জে বদলি করা হয়েছে। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর দরপত্র, কার্যাদেশ, প্রকল্প ব্যয়, ভেরিয়েশন, বিল-ভাউচার ও কাজের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরূপণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দুদকে অভিযোগ, চলছে যাচাই-বাছাই: দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ডেকে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য ও ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন তদন্ত, কথিত সম্পদের প্রকৃত মালিকানা যাচাই এবং সরকারি প্রকল্পের নথিপত্র পরীক্ষা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সড়ক প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোর বিষয় এবং দেশে-বিদেশে কথিত সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুদকের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী মো. রফিকুজ্জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পাঠানো খুদে বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
৩৫ হাজার টাকা শুল্ক-কর নির্ধারণে খালাস, পরে ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন **শ্রমিকের এনআইডি ব্যবহার করে পাঁচ দিনে ৪০টি বিল অব এন্ট্রি খালাসের অভিযোগ কাস্টম হাউস ঢাকার কুরিয়ার ইউনিটে দায়িত্ব পালনকালে সুবিধা নিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য চালান খালাস করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার সাকিব আনাম খানের বিরুদ্ধে। বিসিএস ৪০তম ব্যাচের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই ছাড়াই পণ্য চালান খালাস, সরকারের রাজস্ব ক্ষতি এবং ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে পণ্য ছাড়ের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ একটি চালানে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা শুল্ক-কর নির্ধারণ করে পণ্য খালাসের পর কাস্টম হাউসের তদন্তে প্রায় ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি উঠে এসেছে। এ ছাড়া একজন শ্রমিকের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে পাঁচ দিনে প্রায় ৪০টি বিল অব এন্ট্রির পণ্য খালাসের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঢাকা কাস্টম হাউস ও তাঁর সাবেক কর্মস্থল রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারেটের বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে এসব অভিযোগের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। সূত্র জানায়, গত ২৩ আগস্ট ঢাকা কাস্টম হাউসের কুরিয়ার ইউনিট দিয়ে ফুলএভার বিডি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান পণ্য চালান আমদানি করে। চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৯৯২৬২৩। প্রতিষ্ঠানটি কাগজ ঘোষণা দিয়ে আরএফ লেভেল খালাস করে নিয়ে যায়। এ চালানে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা শুল্ক-কর নির্ধারণ করে পণ্য খালাসের অনুমতি দেন কুরিয়ার ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার সাকিব আনাম খান। বিষয়টি কাস্টম হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে তাঁরা তদন্ত শুরু করেন। তদন্তে বেরিয়ে আসে, প্রতিষ্ঠানটি কাগজের আড়ালে আরএফ লেভেল নিয়ে গেছে। এতে সরকারের প্রায় ৭৬ লাখ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। তবে পণ্য চালানটি সাকিব আনাম খান খালাস করে দেওয়ার পর মামলা হওয়ায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে কোনো শুল্ক-কর আদায় করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া কুরিয়ারের আরও ৩১টি চালানে লক দিয়েছে প্রিভেন্টিভ টিম। সার্বিক অনিয়মের বিষয়ে কাস্টম হাউস ঢাকা অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। কাস্টম হাউসের কুরিয়ার ইউনিট মূলত নমুনা পণ্য আমদানির জন্য নির্ধারিত। অর্থাৎ ঋণপত্র (এলসি) ছাড়া যেসব নমুনা পণ্য আমদানি করা হয়, সেগুলো কুরিয়ারের মাধ্যমে খালাস করার নিয়ম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি বছরে প্রায় পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করতে পারেন। কিন্তু সাকিব আনাম খান দায়িত্ব নেওয়ার পর কুরিয়ার ইউনিট বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের পণ্য খালাসের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে ফ্রেইটের তুলনায় কুরিয়ার ইউনিটে বেশি বিল অব এন্ট্রি দাখিল হচ্ছে। অথচ বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের পণ্য সাধারণত ফ্রেইটের মাধ্যমে আমদানির কথা। সুবিধার বিনিময়ে পণ্য চালান খালাসের সুযোগ থাকায় বিভিন্ন ধরনের পণ্য কুরিয়ার দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাস্টম হাউস ঢাকার কমিশনার রইচ উদ্দিন খান কালবেলাকে বলেন, কুরিয়ার ইউনিটে একজন আমদানিকারক মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য চালান খালাস করেছেন। পরে কাস্টম হাউসের তদন্তে সেখানে আরএফ লেভেল পাওয়া গেছে। এতে সরকারের প্রায় ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী পণ্য চালান পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, শুধু ফুলএভার বিডির চালান নয়, সাকিব আনাম খানের বিরুদ্ধে কুরিয়ার ইউনিটে দায়িত্ব পালনকালে নিয়মিত এ ধরনের পণ্য চালান খালাসের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে পাঁচ দিনে প্রায় ৪০টি পণ্য চালান খালাসের অভিযোগ উঠেছে। ডেল্টা কার্গো মিডিয়ার নামে এসব পণ্য চালান খালাস করা হয়। ভুয়া এনআইডি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠা চালানগুলোর বিল অব এন্ট্রি নম্বর হলো—১০৯৯৬৯৫, ১০৯৯৭৫৬, ১০৯৯৭৪৫, ১০৮৮৭৩০, ১০৮৮৭৩০, ১০৮৮৭০২, ১০৮৮৭১২, ১০৮৪৬৪২, ১০৮৪৫৪৮, ১০৮৩৩৪৫, ১০৮৩৩৩৯, ১০৮৩৩৫৪, ১০৮৩৩৫১, ১০৭৯৬৯২, ১০৮০৯৩৭, ১০৭৮৭১৮, ১০৮০৯৮২ ও ১০৭৯৪৭৮সহ প্রায় ৪০টি বিল অব এন্ট্রি। এসব অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সাকিব আনাম খানকে ঢাকা কাস্টম হাউসের অন্য একটি শাখায় বদলি করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, তিনি কুরিয়ার ইউনিটে দায়িত্ব নেওয়ার পর সেখানে দুটি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। এসব সিন্ডিকেট বিভিন্ন সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে তাঁর মাধ্যমে পণ্য চালান খালাস করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বন্ডের ফেব্রিকস থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক পণ্য পর্যন্ত মিথ্যা ঘোষণায় কুরিয়ার ইউনিট দিয়ে খালাসের বিষয়টি ঢাকা কাস্টম হাউসে ওপেন সিক্রেট বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কুরিয়ার ইউনিটে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে পণ্য খালাসের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে এক প্রতিষ্ঠানমালিকের নামে কুরিয়ারের মাধ্যমে নকল সিগারেটের ব্যান্ডরোল আমদানি করা হয়। ব্যান্ডরোল আটকের পর পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে শুল্ক ফাঁকির মামলা করে কাস্টম হাউস। পরে দেখা যায়, যাঁর নামে ব্যান্ডরোল আমদানি করা হয়েছে, তিনি প্রকৃতপক্ষে পণ্যটি আমদানি করেননি। তাঁর পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। পরে নিজের পরিচয় ব্যবহার করে অনিয়মের ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানমালিক থানায় মামলাও করেন। এ ছাড়া কুরিয়ার ইউনিটের আগে অ্যাসেসমেন্ট গ্রুপে দায়িত্ব পালনকালে সুবিধা না পেলে প্রতিষ্ঠানের ফাইল আটকে রেখে হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে সাকিব আনাম খানের বিরুদ্ধে। এর আগে রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারেটে দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) পদায়ন করা হয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি করে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর দুই মাসের মাথায় তৎকালীন রাজশাহী ভ্যাট কমিশনার তাঁকে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন বলে সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সাকিব আনাম খান ফুলএভার বিডিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি কালবেলাকে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কম মূল্য ঘোষণা দিয়েছে। এ কারণে শুল্ক ফাঁকির মামলা হয়েছে। তবে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, পণ্য চালানে এত টাকা শুল্ক-কর আদায়যোগ্য হওয়ার পরও কীভাবে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে খালাস দেওয়া হলো? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বাঘারচর বাজারে গৃহবধূ ফারহানা ইয়াসমিন শিলার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকালে পুলিশ তার বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয়।স্থানীয় যুবনেতা এম. রাশেল মাহমুদকে তার মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে আটক করা হয়েছে। ফারহানা ছিলেন সাবেক বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সাজাদুল ইসলাম শামীমের স্ত্রী এবং রাশেলের দ্বিতীয় স্ত্রী।ফারহানার ছোট ভাই ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাইসুল ইসলাম কামাল অভিযোগ করেছেন, রাশেল জমি ও অর্থের জন্য ফারহানাকে হুমকি দিয়ে হত্যা করেছে। তিনি দাবি করেছেন, জমি ও ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘ বিরোধের পর ফারহানা তার জমি হস্তান্তর করতে অস্বীকার করলে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে আত্মহত্যার ছদ্মবেশে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।রাশেলের প্রথম স্ত্রী লাবিবা আকতার, যার বয়স ১১ বছর, অভিযোগ করেছেন যে রাশেলের বাবা তাকে বিভিন্নভাবে কষ্ট দিয়েছেন এবং এক বছর ধরে তার মায়ের সঙ্গে থাকতে বাধ্য করেছেন।শনিবার দুপুরে নিহতার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয় এবং তারা পুলিশ স্টেশনের সামনে অবস্থান নেয়। তারা রাশেলের গ্রেফতার এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানায়।পুলিশ ইন্সপেক্টর ইলিয়াস হোসেন মুন্সি জানান, মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা এলাকায় গত ২৫ জুন জুনায়েদ ইসলাম নামের এক ব্যক্তির মা শাহিনুর বেগম (৪০) ও তিন বোন সাইমা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার (ওরফে ইকরা, ১৭) ও ফাতেমা আক্তার (ওরফে সিফাকে, ১০) হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে জুনায়েদ ইসলাম বেঁচে থাকা একমাত্র সদস্য হিসেবে অন্য বাসায় অবস্থান করছেন। তিনি ধানহাটা এলাকার একটি রড সিমেন্টের দোকানে কাজ করেন এবং দিনের বেলা সেখানে সময় কাটান। গত শনিবার জুনায়েদের সঙ্গে অন্তর মজুমদার (২৮) নামের এক যুবকের কথা হয়, যাকে পরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অন্তর মজুমদার নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। হত্যার পর পুলিশ তাকে আটক করে পিটুনি দেয়, পরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশ অন্তর মজুমদারের বাসায় অভিযান চালিয়ে দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে এবং ফোন দুটি নিয়ে অন্তরই বের হয়েছেন কি না তা যাচাই করছে। মা ও তিন বোনের জানাজা ২৬ জুন বিকেলে ধানহাটা এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে তাদের লাশ কুমিল্লার হোমনায় দাফন করা হয়। রায়পুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জানান, দুটি মামলা গুরুত্বপূর্ণ এবং তদন্তে সাক্ষ্য, আলামত, ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। রায়পুর থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, এই মামলা বহুল আলোচিত হওয়ায় তদন্তে তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি বিষয় সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে প্রেমঘটিত বিরোধ, অর্থ লেনদেন, স্বর্ণালংকার লুট বা ব্যক্তিগত বিরোধের দিক খতিয়ে দেখছে, তবে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। চার মাসেও হত্যার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হয়নি এবং তদন্ত চলছে।
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার দক্ষিণ এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাইদা আক্তার রিলা নামে ১৮ বছর বয়সী এক ছাত্রী বুধবার দুপুরে চাঁদের আলো হোটেলের একটি কক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।রিলা পাবনা শহীদ বুলবুল সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।পুলিশ জানিয়েছে, কক্ষের দরজা ভেঙে তারা রিলার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে।ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।পুলিশ ঘটনার পেছনে আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কিনা তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পূর্ব আদালতপাড়া এলাকার ২২ বছর বয়সী বিপুলকে রবিবার দুপুরে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে বিপুল ওই সাত বছরের শিশুকে টাঙ্গাইল শহরের একটি ভবনে চিপস খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটি抵抗 করলে তার মুখ ও নাক ইট দিয়ে পেটানো হয়। পরে একটি রিকশাওয়ালা শিশুটিকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।শিশুটির মা টাঙ্গাইল সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। শনিবার ইন্টার্ন ডাক্তার আল আমিন সিদ্দিকী জানান, প্রাথমিক চিকিৎসায় শিশুটির নাক ভেঙে গেছে এবং ঠোঁটের বেশ কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে।শিশুটিকে গুরুতর অবস্থায় শনিবার সকাল ১০টায় ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবদুল কুদ্দুস জানান, নাক ও মুখের আঘাত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে। ধর্ষণের বিষয়টি চিকিৎসা রিপোর্টে স্পষ্ট হবে।গ্রেফতারের সময় বিপুল সিটি কলেজপাড়া পার্ক বাজার মোড়ে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আগে স্থানীয়রা তাকে পিটিয়ে আহত করেন। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি আশরাফ মুকতার জানান, বিপুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং সোমবার আদালতে হাজির করা হবে। পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, এই ঘটনার তদন্ত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চলছে।বিপুল শিশুটির মায়ের সঙ্গে পরিচিত ছিল এবং তার দোকানে যাতায়াত করতো। তিনি মাদকাসক্ত বলে জানা গেছে এবং গ্রেফতারের পর পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।শনিবার রাত ১১:৪৫ মিনিটে মন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুটির চিকিৎসা পরিদর্শন করেন এবং উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে চিকিৎসার সব খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি দেন।
১৩ বছর বয়সী সিমির মা চান্দানী তার মেয়ের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্টতা চান। তিনি অভিযোগ করেছেন, মৃত্যুর পূর্বে তার মেয়েকে নির্যাতন, যৌন হয়রানি ও জোরপূর্বক মাদক সেবনের মতো ঘটনা ঘটেছে।চান্দানী জানান, তিনি বনানী থানায় সিমির নিখোঁজের অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তাকে সহায়তা করেনি। এই অভিযোগগুলো জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরাম খান হলে এক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।মাহাখালীতে বসবাসরত চান্দানীর বাড়িতে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে সাইদুর ও টুম্পা নামের দম্পতি তাদের দুই সন্তানসহ ভাড়া থাকতেন। তারা ১ মে বাড়ি ছেড়ে যান। পরে জানতে পারেন, ওই দম্পতির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।মে ২০, ২০২৬ সকাল ৭:৩০ টায় সিমি স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। দুপুর পর্যন্ত সে ফেরেনি এবং স্কুলও তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিতে পারেনি। সন্ধ্যায় চান্দানী বনানী থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করেন।রাত ৩:৩০ টায় বনানী থানার একজন উপ-পরিদর্শক সিমিকে ফিরিয়ে দেন, কিন্তু চান্দানীকে সিমির উদ্ধার স্থান বা পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। সিমির সঙ্গে কথা বলে চান্দানী জানতে পারেন, তাকে নির্যাতন, ভয় দেখানো, জোরপূর্বক মাদক সেবন করানো, ধর্ষণ এবং ভিডিও রেকর্ড করে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হতে হয়েছে।জুলাই ৮, ২০২৬ তারিখে চান্দানী সিমিকে নিয়ে বনানী থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তাকে পরের দিন আসতে বলেন। এরপর কয়েক দিন তাকে অফিস থেকে অফিসে পাঠানো হয় বলে চান্দানী অভিযোগ করেন। তবে পুলিশ এই দাবিকে অস্বীকার করেছে।জুলাই ১৫, ২০২৬ সন্ধ্যায় চান্দানী বাড়ি ফিরে সিমির অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করেন। সিমি শোবার ঘরের দরজা লক করে। প্রতিবেশীদের সাহায্যে দরজা খুলে দেখা যায় সিমি সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।সিমির মৃত্যুর পর পরদিন চান্দানী বনানী থানায় গেলে পুলিশ তার অভিযোগের পরিবর্তে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করেছে বলে তিনি জানান। বর্তমানে এই ঘটনায় তদন্ত চলছে।চান্দানী একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন, যাতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, ফরেনসিক বিশ্লেষণ, মোবাইল ফোনের তথ্য ও ডিজিটাল প্রমাণ। তিনি বলেছেন, তার লক্ষ্য মিথ্যা অভিযোগ নয়, সত্য উদঘাটন এবং যেকোনো অবহেলার জন্য দায়িত্বশীলদের accountability নিশ্চিত করা।
কেশবপুরে ঘটে যাওয়া জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য পুলিশ সমাধান করেছে। গত ৩১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের ধানক্ষেতে আলেক সরদার (৪৬) ও তাঁর স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৮) নামে দম্পতির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত দম্পতির মেয়ে সাবিনা খাতুন থানায় মামলা করেন। তদন্তে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গত ২ নভেম্বর জেসমিন বেগম (৩৮) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোস্তফা কামাল (৪৫) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।জেসমিন বেগম কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের সরদারপাড়ার নুর ইসলাম সরদারের স্ত্রী এবং মোস্তফা কামাল একই এলাকার মৃত কেসমত সরদারের ছেলে।পুলিশ জানিয়েছে, জেসমিন ও মোস্তফার প্রায় চার-পাঁচ মাস ধরে একটি বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। গত ৩০ অক্টোবর সকালে জেসমিন ও মাজেদা মাঠে ঘাস কাটতে গেলে মোস্তফার সঙ্গে জেসমিনের দেখা হয়। পরে মাজেদা আপত্তিকর অবস্থায় তাদের দেখে ফেলেন।বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মোস্তফা ও জেসমিন আলেক ও মাজেদাকে নুর ইসলামের ঘেরের পাশে নিয়ে যান। সেখানে মোস্তফা হাতে থাকা পাসনি দিয়ে আলেককে আঘাত করেন এবং মাজেদার গলায় ফাঁস দেন। এরপর আলেককে মারধর করে একটি পুরোনো স্যালো মেশিনের গর্তে ফেলে দেন। মাজেদাকে কাঁচি দিয়ে তলপেট ও পা কেটে হত্যা নিশ্চিত করার পর তাকে একই গর্তে ফেলে দেওয়া হয়।পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জেসমিন ও মোস্তফার ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রকাশের আশঙ্কা ছিল। গ্রেপ্তারদের তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঁচিও উদ্ধার করা হয়েছে।মঙ্গলবার দুপুরে সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক এই তথ্য জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম ও কেশবপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদপুরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের মাধবপুর এলাকার দেলোয়ার হোসেন (৩৫) নামের এক যুবককে দুর্বৃত্তরা হাত-পা ভেঙে এবং চোখ উপড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে।সোমবার সকালে বাইটকুমারী বিলের পাশের ধানখেত থেকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম জানান, সোমবার সকালে বিলের পাশে লোকজন দেলোয়ারকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।জানা গেছে, রোববার রাতে দুর্বৃত্তরা দেলোয়ারকে ধরে বাইটকুমারী বিলের নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা বিলের পাশের ধানখেতে তাকে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।দেলোয়ার হোসেন কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের মাধবপুর এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে।কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে এম বাদশা মিয়া বলেন, পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি আগেই হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছেন এবং তিনি কী ঘটেছে তা জানেন না।
১০০ টন প্যারাসিটামল কাঁচামালের মান পরীক্ষার প্রতিবেদন পরিবর্তন এবং টেন্ডার নং ৮৭-এ ৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ দেশের একমাত্র সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে (EDCL) কাঁচামাল ক্রয় ও টেন্ডার কার্যক্রমে অনিয়ম, কারসাজি এবং আর্থিক ক্ষতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্তের আবেদন করেছেন পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ জানানো এক নাগরিক। গত ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর দাখিল করা অভিযোগপত্রে প্যারাসিটামল বিপি কাঁচামাল ক্রয়, গ্লাস ভায়াল সরবরাহের টেন্ডার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, M/s Pharhome Trading Company-এর সরবরাহ করা ১০০ টন প্যারাসিটামল বিপি কাঁচামালের পরীক্ষায় মানের ঘাটতি পাওয়া যায়। পরে EDCL-এর মান নিয়ন্ত্রণ (QC) বিভাগ কাঁচামালটি বাতিল করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক বছর পর আগের নেতিবাচক পরীক্ষার প্রতিবেদন বাতিল করে নতুন প্রতিবেদন তৈরি করা হয় এবং কাঁচামালটিকে উত্তীর্ণ হিসেবে দেখানো হয়। এরপর দ্রুত ওই কাঁচামাল উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়। অভিযোগটি সত্য হলে সরকারি ওষুধের গুণগত মান ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, টেন্ডার নম্বর ৮৭-এর গ্লাস ভায়াল ক্রয় নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে উন্মুক্ত দরপত্রে মোট আটটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। কারিগরি মূল্যায়নে তিনটি প্রতিষ্ঠানের নমুনা অনুমোদিত ও বৈধ এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নমুনা অনুত্তীর্ণ হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বৈধ প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে কয়েকটিকে বাদ দিয়ে শুধু M/s Marks Corporation-এর আর্থিক প্রস্তাব উন্মুক্ত করা হয়। এতে প্রতিযোগিতা ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে অভিযোগকারীর দাবি। এ ঘটনায় সরকারের আনুমানিক ২ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের আশঙ্কার কথাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি নির্ধারণে দরপত্রের নথি, বাজারদর ও মূল্যায়ন প্রতিবেদন যাচাই করা প্রয়োজন। এ ছাড়া টেন্ডার নম্বর ৩১/২০২৫-এর Desogestrel USP ক্রয়সংক্রান্ত বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান কাজ না পাওয়ার পর তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তাঁর একান্ত সচিবকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনার সঙ্গে ক্রয়প্রক্রিয়ার কোনো প্রভাব বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগপত্রে EDCL-এর QC বিভাগের জিএম ইসমাইল হোসেন, Procurement বিভাগের ডিজিএম মানভুবন মারমা, QC কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন এবং Purchase কর্মকর্তা জুয়েলের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনার অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদ ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাঁদের বৈধ আয়ের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়। দুদকে দেওয়া আবেদনে টেন্ডার নম্বর ৮৭-এর কার্যাদেশ স্থগিত, দরপত্র মূল্যায়ন ও উন্মুক্তকরণ প্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই, প্যারাসিটামল কাঁচামালের মূল ও পরবর্তী পরীক্ষার প্রতিবেদন সংরক্ষণ এবং টেন্ডার নম্বর ৩১/২০২৫-এর পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন সোহাগের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, জন্মনিবন্ধন অনুমোদন ও সংশোধনকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন, টিসিবির আবেদন তদন্তে অর্থ আদায়, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম, সরকারি অর্থ বণ্টনে কমিশন দাবি এবং অধস্তন কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া কুমিল্লা টাউন হল এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা মিনিস্টেরিয়াল অফিসার্স ক্লাবে জুয়ার আসর পরিচালনা ও তাতে নিয়মিত অংশগ্রহণের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রাম পুলিশদের প্রশিক্ষণ বাবদ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে অর্থ সংগ্রহ এবং বিতরণ করা অর্থের হিসাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগকারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রশিক্ষণের জন্য ছয়টি ইউনিয়ন থেকে মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হলেও ৪৩ জন গ্রাম পুলিশকে জনপ্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা করে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সে হিসাবে বিতরণ করা অর্থের পরিমাণ ৬০ হাজার ২০০ টাকা। অবশিষ্ট ৪ লাখ ১৯ হাজার ৮০০ টাকা কোথায় ব্যয় হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তর করের এক শতাংশ খাত থেকে ছয়টি ইউনিয়নে প্রায় ১০ কোটি টাকা বণ্টনের প্রক্রিয়ায় চার শতাংশ কমিশন দাবির অভিযোগও সামনে এসেছে। অন্যদিকে, প্রায় ১৬০টি টিসিবির আবেদন তদন্তের সময় আবেদনকারীদের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। চাকরিতে যোগদান ও বদলি নিয়ে প্রশ্ন অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মো. আমির হোসেন সোহাগ ২০১২ সালে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনে চাকরিতে যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালে কুমিল্লার ঠিকানা ব্যবহার করে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনে বদলি হয়ে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর ব্যবহৃত ঠিকানাটি যথাযথ ছিল কি না, বদলির আবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিতে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সরকারি রেকর্ডের কোনো অসংগতি ছিল কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। সোহাগের অফিসে উপস্থিতি ও কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহাগের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সঙ্গে প্রায়ই অশোভন আচরণের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর আচরণের কারণে অধস্তন কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত দাপ্তরিক সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের একাংশের দাবি, তিনি সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লা মিনিস্টেরিয়াল অফিসার্স ক্লাবে অবস্থান করেন এবং পরদিন দুপুরের দিকে অফিসে আসেন। কুমিল্লা মিনিস্টেরিয়াল অফিসার্স ক্লাবে জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ মো. আমির হোসেন সোহাগের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, কুমিল্লা টাউন হল এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা মিনিস্টেরিয়াল অফিসার্স ক্লাবে মাহবুব নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে জুয়ার আসর পরিচালিত হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই আসর থেকে সোহাগ প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার টাকা করে পান। পাশাপাশি প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তিনি নিজেও সেখানে জুয়া খেলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্লাবের ভেতরে তাঁর জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রিত একটি কক্ষ বরাদ্দ রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। টিসিবির আবেদন তদন্তে অর্থ আদায়ের অভিযোগ সোহাগের বিরুদ্ধে টিসিবির পণ্যপ্রাপ্তির আবেদন যাচাই ও তদন্তের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহাগের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৬০টি টিসিবির আবেদন তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আসে। এসব আবেদন যাচাইয়ের সময় প্রত্যেক আবেদনকারীর কাছ থেকে অফিস খরচের নামে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ সোহাগের বিরুদ্ধে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী রানী হরিজনের মেয়ে রাশিকে ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে উপজেলা পরিষদে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি, পরীক্ষা নেওয়া হয়নি এবং উপজেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট সদস্য ও কর্মকর্তাদের অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। অভিযোগকারীদের দাবি, উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহাগের তদবিরে নিয়োগটি সম্পন্ন হয় এবং নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার টাকা। অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে আগে থেকেই দুজন অফিস সহায়ক, একজন মালি ও একজন আনসার সদস্য কর্মরত রয়েছেন। এ অবস্থায় নতুন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা, অনুমোদিত জনবল কাঠামো এবং বেতন-ভাতার অর্থের উৎস পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সম্পত্তি হস্তান্তর করের অর্থ বণ্টনে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ সোহাগের বিরুদ্ধে সম্পত্তি হস্তান্তর করের এক শতাংশ খাত থেকে ছয়টি ইউনিয়নে প্রায় ১০ কোটি টাকা বণ্টনের প্রক্রিয়ায় চার শতাংশ কমিশন বা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন সোহাগের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, অর্থ বণ্টনের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও অন্যদের কাছে কমিশন দাবি করা হয়। এ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশদের প্রশিক্ষণের অর্থের হিসাব নিয়ে গুরুতর অভিযোগ সোহাগের বিরুদ্ধে গত ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে গ্রাম পুলিশদের কর্মদক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই প্রশিক্ষণের অর্থ সংগ্রহ ও বিতরণ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন সোহাগ ছয়টি ইউনিয়ন থেকে প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য ৮০ হাজার টাকা করে মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন। অন্যদিকে, অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি ইউনিয়নের মোট ৪৩ জন গ্রাম পুলিশকে প্রশিক্ষণ ভাতা ও যাতায়াত ভাতা বাবদ জনপ্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা করে দেওয়া হয়। হিসাবটি হলো: ছয়টি ইউনিয়ন থেকে সংগৃহীত অর্থ: ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া গ্রাম পুলিশ: ৪৩ জন। জনপ্রতি প্রদত্ত অর্থ: ১ হাজার ৪০০ টাকা। মোট বিতরণ করা অর্থ: ৬০ হাজার ২০০ টাকা। সংগৃহীত ও বিতরণ করা অর্থের পার্থক্য: ৪ লাখ ১৯ হাজার ৮০০ টাকা। জন্মনিবন্ধন অনুমোদন ও সংশোধনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সোহাগের বিরুদ্ধে জন্মনিবন্ধন অনুমোদন এবং বয়স সংশোধনের কাজকে কেন্দ্র করেও উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহাগের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জন্মনিবন্ধন-সংক্রান্ত কাজে প্রতিদিন ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থ লেনদেন হয়। ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, হিসাব সহকারী ও উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে এসব লেনদেন পরিচালিত হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আমির হোসেন সোহাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে যেসব নথি ও বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন ১. মো. আমির হোসেন সোহাগের চাকরিতে যোগদান, ব্যক্তিগত নথি, ঠিকানাসংক্রান্ত তথ্য ও বদলির সরকারি আদেশ। ২. কুমিল্লা মিনিস্টেরিয়াল অফিসার্স ক্লাবে জুয়ার আসর পরিচালনা, অর্থ লেনদেন এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ। ৩. টিসিবির প্রায় ১৬০টি আবেদন তদন্তের সময় আবেদনকারীদের কাছ থেকে কোনো অননুমোদিত অর্থ নেওয়া হয়েছিল কি না এবং তদন্ত প্রতিবেদন কীভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল। ৪. ২০২৬ সালের আগস্টে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের বৈধতা, নিয়োগবিধি, অনুমোদন, নিয়োগ আদেশ এবং বেতন-ভাতার অর্থের উৎস। ৫. সম্পত্তি হস্তান্তর করের এক শতাংশ খাত থেকে ছয়টি ইউনিয়নে অর্থ বণ্টনের অনুমোদন, বরাদ্দ ও ছাড়ের নথি এবং চার শতাংশ কমিশন দাবির অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না। ৬. গ্রাম পুলিশদের প্রশিক্ষণের জন্য সংগৃহীত ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার পূর্ণাঙ্গ হিসাব, ব্যয়ের ভাউচার, অর্থ বিতরণের তালিকা এবং অবশিষ্ট অর্থের অবস্থান। ৭. জন্মনিবন্ধন অনুমোদন ও বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে অনিয়ম, সরকারি ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ। ৮. অধস্তন কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং দাপ্তরিক সময়ে উপস্থিতি-সংক্রান্ত অভিযোগ যাচাইয়ে হাজিরা রেজিস্টার, দায়িত্ব বণ্টনের নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য। ৯. অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন সোহাগের লিখিত বক্তব্য এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা। একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগে অনিয়ম এবং সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের মতো অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে গ্রাম পুলিশদের প্রশিক্ষণের অর্থের হিসাব, টিসিবির আবেদন তদন্তে কথিত অর্থ আদায়, জন্মনিবন্ধন অনুমোদনকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর করের অর্থ বণ্টনে কমিশন দাবির বিষয়গুলো নথিনির্ভর তদন্তের দাবি রাখে। আমির হোসেন সোহাগের অনিয়মের বিষয়ে কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব তালুকদার জানান, ‘আপনি যে অভিযোগগুলো উপস্থাপন করেছেন, এই অভিযোগগুলো আমি এই উপজেলা অফিসটিতে যোগদান করার আগের বিষয়।’ তিনি জানান, ‘আমি আসার আগে কী হয়েছে, তা তো জানি না। তবে যোগদান করার পর স্বচ্ছতার সঙ্গে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করার চেষ্টা করছি।’ অভিযোগের বিষয়ে আমির হোসেন সোহাগের বক্তব্য জানতে হোয়াটসঅ্যাপে নক দিলেও তিনি কোনো রিপ্লাই দেননি। কুমিল্লা সদর উপজেলায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িত আমির হোসেন সোহাগ এবং মোর্শেদ-এর বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। তাঁদের অনিয়ম বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে নিউজ চলমান থাকবে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়ে নিম্নমানের ঔষধ বাজারে বহাল তবিয়তে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এবং লাইসেন্সিং অথরিটি মোহা. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মেসার্স বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সঙ্গে যোগসাজশ, ঘুষ-দুর্নীতি এবং মান-বহির্ভূত ঔষধর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য। ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের এপ্রিল মাসে। জাতীয় ঔষধ নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগার (NDCL), মহাখালী, ঢাকা কর্তৃক বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালসের উৎপাদিত বহুল ব্যবহৃত দুটি ঔষধ—Maxcoral-DX Tablet এবং Maxcoral-D Tablet-এর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। গত ৬ এপ্রিল প্রকাশিত পরীক্ষাগারের প্রতিবেদনে উভয় ঔষধর নির্দিষ্ট ব্যাচকে নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মান-বহির্ভূত হিসেবে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, Maxcoral-DX Tablet-এর (ব্যাচ নং- 5K17274) ঘোষিত ভিটামিন-ডি৩ প্রতি ট্যাবলেটে ৪০০ IU থাকার কথা থাকলেও পরীক্ষায় পাওয়া গেছে মাত্র ২৭৩.৮১ IU, যা প্রায় সাড়ে একত্রিশ শতাংশ কম। একইভাবে Maxcoral-D Tablet-এর (ব্যাচ নং- 5K12276) ঘোষিত ভিটামিন-ডি৩ ২০০ IU-এর বিপরীতে পাওয়া যায় ১৩৫.৫২ IU, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে বত্রিশ শতাংশ ঘাটতি। ড্রাগ অ্যানালিস্ট তার প্রতিবেদনে সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, পরীক্ষিত নমুনাগুলো নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী নয় এবং সম্পূর্ণ মান-বহির্ভূত। এই ভয়াবহ মানহীনতা প্রমাণিত হওয়ার পর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ওই ঔষধ দুটির নিবন্ধন সাময়িকভাবে স্থগিত করে এবং অবিলম্বে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মান-বহির্ভূত ঔষধর বিষয়ে ঔষধ আদালতে মামলা দায়েরের উদ্যোগ নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিপত্তি ঘটে এরপর থেকেই। অভিযোগ উঠেছে, লাইসেন্সিং অথরিটি মোহাঃ আলমগীর হোসেনের দায়িত্বকালীন সময়ে এই আদেশের পরবর্তী বাস্তবায়ন রহস্যজনকভাবে থমকে যায়। ঔষধ আদালতে নিয়মিত মামলা দায়েরের কথা থাকলেও তা ফাইলবন্দী করে রাখা হয় কিংবা নামমাত্র পদক্ষেপে ঝুলিয়ে রাখা হয়। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, নিবন্ধন স্থগিত থাকার পরেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি অবৈধ উপায়ে তাদের উৎপাদিত মানহীন ঔষধ বাজারে সরবরাহ ও বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি পরীক্ষাগারে প্রমাণিত মানহীন ও জীবনঘাতী উপাদানের ঘাটতিযুক্ত ঔষধ জব্দের পর এবং আদালতের মামলার নির্দেশ থাকার পরেও কোন অদৃশ্য শক্তির বলে দায়িত্বরত মহাপরিচালক এই প্রভাবশালী ঔষধ কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলেন না? এর নেপথ্যে মোহাঃ আলমগীর হোসেন ও বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালসের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো অনৈতিক আর্থিক লেনদেন, ঘুষ বা বড় ধরনের যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন চারদিকে গুঞ্জন চলছে। জনস্বাস্থ্য ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার এমন নগ্ন লঙ্ঘন রোধে এবং দুর্নীতির মূল উদঘাটন করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের আবেদন দাখিল করা হয়েছে। আবেদনে দাপ্তরিক নথি সংগ্রহ, মামলা না হওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও ব্যাংক হিসাব যাচাই এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করা এই চক্রের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে জানতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর মহাপরিচালক মোহা. আলমগীর হোসেন সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শরীয়তপুরের দামুড়িয়া উপজেলার কনাশ্বর ইউনিয়নের কনাশ্বর গ্রামে সোমবার সন্ধ্যা ৮টায় লামিয়া আক্তার বৃশ্চি (২০) নামে এক নারীকে স্বামী রোবিউল শায়াল (২৫) হত্যার অভিযোগ উঠেছে।জানা গেছে, লামিয়া তার স্বামীকে মাদক সেবন ও বিক্রি বন্ধ করতে বলেছিলেন এবং না মানলে তালাক দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।ঘটনার দিন পারিবারিক সালিশের জন্য লামিয়াকে স্বামীর বাড়িতে ডাকা হয়। সালিশ চলাকালে অন্যান্য সদস্যরা চলে যাওয়ার পর লামিয়া ও রোবিউলের মধ্যে পুনরায় বাকবিতণ্ডা হয়।প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রোবিউল একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে লামিয়াকে পুকুরের পাশে আঘাত করে এবং ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।লামিয়ার ভাই ওবায়দুল মদবর তাকে খোঁজার সময় পুকুরে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পথেই তার মৃত্যু হয়।দামুড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন, রোবিউলকে মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অনুসরণ করে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামুনুর রশিদ (৪৫) ২৮ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।রোববার রাত ৮টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মামুনুর রশিদের মৃত্যু হয়। তিনি যশোর সদরের বাজে দুর্গাপুর গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন মাস্টারের ছেলে।মামুনুর রশিদের মায়ের নাম আনোয়ারা বেগম (৫৮)।প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মামুনুর রশিদ দুইবার বিবাহিত ছিলেন এবং উভয় বিবাহের পর বিচ্ছেদ ঘটে। তিনি প্রায় তিন বছর আগে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং ২৭ আগস্ট বাড়িতে ফিরে আসেন।২৭ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মামুন তার মায়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করেন এবং ধারালো বটি দিয়ে আঘাত করেন, যার ফলে আনোয়ারা বেগমের মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ তাকে আটক করে। এই ঘটনার পর কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ছোট শালঘর এলাকায় সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে একটি ট্রাকের চাপায় ৮ বছর বয়সী মিনহা আক্তার মারা গেছেন।মৃত মিনহা আক্তার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাড়ানী এলাকার মনির হোসেনের মেয়ে। তার মা জুলেখা আক্তার দেবিদ্বারের ছোট শালঘর গ্রামের মো. শাহ আলমের মেয়ে।জানা গেছে, মিনহা তার মা ও বোনের সঙ্গে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। সোমবার সকালে জুলেখা আক্তার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করান। চিকিৎসা শেষে তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ছোট শালঘরে ফেরার সময় মিনহা মহাসড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। তখন একটি দ্রুতগতির ট্রাক তাকে চাপা দেয়।মিরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ট্রাকটি আটক করা হয়েছে এবং নিহত শিশুর লাশ দেবিদ্বার থানায় রাখা হয়েছে।এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার পদ্মা বাজার এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় সাকিব ব্যপারি নামে ২১ বছর বয়সী এক ছাত্র নিহত হয়েছেন। তিনি ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।সাকিব ব্যপারি বক্স আলী ব্যপারি পরিবারের একমাত্র সন্তান এবং এনায়েতপুর এলাকার আনিসুর রহমানের ছেলে। তিনি লামচরী রায়পুর করমাটিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন।প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সাকিব একটি মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন লক্ষ্মীপুর-রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সড়কে একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। বাসটি দুর্ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।সাকিব রামগঞ্জের লাইফ সাপোর্ট আইটি ইনস্টিটিউটে কর্মরত ছিলেন।স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা রামগঞ্জের প্রধান সড়কে বিক্ষোভ করে যথাযথ তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।রামগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন, পুলিশ দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং তদন্ত চলছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগ-৬-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ ইসকান্দার আলী বিরুদ্ধে জালিয়াতি, ঘুষ বাণিজ্য, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ ছাড়, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ গুরুতর নানা অভিযোগ উঠেছিল প্রায় এক বছর আগে। আধুনিক সভ্যতার অন্তরালে ভদ্রতার লেবাসধারী অদৃশ্য মুখোশ পড়া দুর্নীতিবাজ (ই/এম) বিভাগ-৬-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ ইসকান্দার আলী গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রকৌশলীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরীর নেপথ্য গডফাদার। আ’লীগ আমলে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় আ’লীগার, অন্তরবর্তী সরকারের আমলে প্রেসিডেন্ট এর ছেলের বন্ধু ও ব্রিগেডিয়ার ভায়রা ভাইয়ের প্রভাব বিস্তার আর বর্তমানে মির্জা আব্বাসের পরিচয়ে জাতীয়তাবাদের নব্য রক্ষাকারী। সহকর্মীদের ল্যাং মেরে দেশ জাতি তথা মানবতার সর্বনাশ করে বহুরূপী এই গণপূর্ত প্রকৌশলী যখন যেভাবে প্রয়োজন ডিপার্টমেন্টকে সিড়ি বা চাকরিকে শক্ত হ্যামার হিসেবে ব্যবহার করে নিজের আখের গুছিয়ে নিয়েছেন বা নিচ্ছেন। পদ পদবী ও প্রভাব টিকিয়ে রাখতে সহকর্মীদের ঘাড়ে পাড়া দিয়ে ঘোল খাইয়ে অন্যদিকে ব্যতিব্যস্ত রেখে একের পর এক লোভনীয় চেয়ারগুলো দখল করে দুর্নীতি আর লুটপাটের চুড়ান্ত শিখরে আরোহন করেছেন তিনি। তার ইচ্ছেকৃত খামখেয়ালিপনা ও লোভাতুর শ্যেন দৃস্টিতে পুড়ে ছাড়খার হয়েছে অসংখ্য ঠিকাদারের জীবন-জীবিকা ও সাধারণ প্রকৌশলীর চাকরিজীবন। সে পরিসংখ্যান নিয়ে লিখতে গেলে প্রকৌশলী (ই/এম) বিভাগ-৬-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ ইসকান্দার আলীর কাহিনী নিয়ে (A tale of white-color corruptionist Engineer Masud Rana) কয়েকটি পদ্য বা উপন্যাস লেখা যাবে। নিয়ম-কানুন ও সততার বুলি আউড়িয়ে মোহমুগ্ধ করে সবার চোখে ধুলো ছিটিয়ে আড়ালে আবডালে তিনি বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসাসহ বড় বড় প্রকল্পগুলোতে কথিত ভ্যারিয়েশন ও ফ›ন্টলোডিং বা ম্যাজারমেন্ট জালিয়াতি প্রকৌশলগত দুর্বোধ্য টার্মের ব্যবহার করে কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছেন শতাধিক কোটি টাকা। এমনই কৌশলে জালিয়াতি ও দুর্নীতির সর্বশেষ সংস্করণ কথিত লটারির মাধ্যমে বিতর্কিত উপায়ে গণপূর্ত ঢাকা ৬ নং ডিভিশন থেকে ২নং ই/এম গণপূর্ত বিভাগের বদলী। তথ্য সংশ্লিস্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের। কোন কাজ না করে ফাইলওয়ার্কের মাধ্যমে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের • প্রকল্পের দুর্নীতির ধরন: ই/এম (ইলেক্ট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল) বিভাগের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে সাধারণত বিভিন্ন বড় সরকারি ভবনের লিফট স্থাপন, জেনারেটর কেনা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (AC) সরবরাহ এবং কাঠের কারখানার বিভিন্ন আসবাবপত্র ও অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার (Interior) সরকারি টেন্ডারে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ থাকে। সৈয়দ ইসকান্দার আলী যেহেতু ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ 'ই/এম বিভাগ-৬' এবং 'ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগ'-এর মতো বড় বাজেটের সংস্থায় পদায়ন পেয়েছেন, তাই এই বিভাগগুলোর অধীনস্থ সাম্প্রতিক প্রকল্পগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে দুদকে জমা পড়া অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার অবৈধ সম্পদের মধ্যে আছে বসুন্ধরা ব্লক কে রোড নাম্বার ১০২ বাসা নং ২৩/৩ মাগুরা ৭ নং পলাশবাড়িয়া ইউনিয়ন শত বিঘা জমি গুলিস্তান হল মার্কেট, দোকান ২৭টা বসুন্ধরা মার্কেট দোকান ৪ টা পূর্বাচলে প্রবাসী পল্লী গ্রুপে ৩০ কাঠা জমি । অর্ধশতাধিক বিঘা জমি-জমাসহ নামে-বেনামে শতাধিক কোটি টাকার সহায়-সম্পদের মালিক তিনি। নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ ইসকান্দার আলী অবৈধ ভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করে টাকার বিনিময়ে বদলি সময় ১৫ দিন সময় বারিয়ে নিয়ে বিভিন্ন ভাবে নিজের হাতে থাকা টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে যাবেন বলে জানা যায় । এতে করে কয়কে জন নির্বাহী প্রকৌশলী তার উপর অসন্তষ্ট খবর পাওয়া যায় ।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং শত শত কোটি টাকা লেনদেন ও অর্থপাচারের অভিযোগে করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২ নভেম্বর) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ দেন। আদালতে দেওয়া দুদকের আবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির এই নেতার বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ২৮ হাজার ৪০৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। এছাড়া তার ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৭৫৫ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন (জমা ও উত্তোলন) হয়েছে, যার মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থেই তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো জরুরি বলে আদালতকে জানায় দুদক। উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।
রপ্তানিমুখী দুটি পোশাক কারখানার বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা কাপড় অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রি, কম মূল্যে রপ্তানি দেখানো এবং মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ও লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেড। পৃথক অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠান দুটির মোট ১০২ কোটি ৫৭ লাখ ১৩ হাজার ১২৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করেছে সংস্থাটি। সোমবার (২ নভেম্বর) সিআইসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকা এবং লিশা টেক্সের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে। সিআইসির অনুসন্ধানে দেখা যায়, রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ৪১টি ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশনের (ইউডি) আওতায় বন্ড সুবিধায় মোট ২ হাজার ৮৬২ মেট্রিক টন ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় আমদানি করে। কিন্তু আমদানি করা কাপড়ের প্রায় ৭৮ শতাংশ বা ২ হাজার ২৩৭ মেট্রিক টনের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এসব কাপড় কারখানার গুদামে নেই, এমনকি রপ্তানির হিসাবেও পাওয়া যায়নি। সিআইসির ধারণা, বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে কাপড়গুলো অবৈধভাবে সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, যে ৩১টি ইউডির বিপরীতে কোনো রপ্তানি হয়নি, সেগুলোর মধ্যে ৩০টিতে আমদানি করা কাপড়ের পুরোটাই অবৈধভাবে অপসারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আংশিক রপ্তানির ১০টি এন্ট্রিতেও আমদানি করা কাপড়ের প্রায় ৫৩ শতাংশের হিসাব মেলেনি। কারখানার পুরো প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করে সিআইসি ৬৯ হাজার ৩৮২ কেজি সুতা, ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯৭ পিস তৈরি পোশাক এবং মাত্র ২৫ হাজার ৫৩৩ দশমিক ৫০ কেজি ওভেন পলিয়েস্টার কাপড়ের মজুদ পেয়েছে। অথচ আমদানি করা কাপড়ের তুলনায় অবশিষ্ট মজুদের পরিমাণ মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধির লিখিত বক্তব্যের সঙ্গেও আমদানি তথ্যের অসংগতি পাওয়া গেছে। প্রতিনিধি জানান, গত এক মাসে এ ধরনের কাপড় দিয়ে কোনো পোশাক উৎপাদন বা রপ্তানি হয়নি। অথচ বিল অব এন্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই সংশ্লিষ্ট ইউডিগুলোর বিপরীতে প্রায় ৩৯০ মেট্রিক টন কাপড় আমদানি করা হয়েছে। সিআইসির অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ৪১টি ইউডির আওতায় আমদানি করা মোট কাপড়ের প্রায় ৮২ শতাংশ ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের শুরুর মধ্যে আমদানি করা হয়েছে। অবৈধভাবে অপসারিত কাপড়ের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ১৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেডের ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে। অন্যদিকে, লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেডের বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার কেজি পলিয়েস্টার কাপড়ের হদিস না পাওয়ার তথ্য পেয়েছে সিআইসি। এসব কাপড় বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে অবৈধভাবে সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। শুধু এ খাতেই প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনুমোদনের চেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করলেও চুক্তিমূল্যের চেয়ে কম রপ্তানিমূল্য দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউডির বাইরে স্থানীয় ঋণপত্রের মাধ্যমে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত পূরণ না করার তথ্যও পেয়েছে সিআইসি। অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, চার লাখের বেশি পিস পোশাকের আনুষঙ্গিক কাঁচামাল অনুমোদন ছাড়াই স্থানীয় বাজার থেকে কেনা হয়েছে এবং এসব ক্রয়ের বিপরীতে মূসক দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার কিট ব্যাগ সরবরাহ করে মূসক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে লিশা টেক্সের মোট ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে। সিআইসি জানায়, দুটি প্রতিষ্ঠানের কারখানায় সরেজমিন পরিদর্শন করে কাঁচামালের মজুদ যাচাই করা হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি ও রপ্তানির তথ্যের সঙ্গে কারখানার মজুদের হিসাব মিলিয়ে দেখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক, অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়েছে। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, শুল্কমুক্ত কাঁচামাল অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রি এবং রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ও অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে দপ্তরে প্রবেশ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে একটি মামলা এখন নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে। মামলাটি করেছেন বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী তমাল দাস। আসামি করা হয়েছে চট্টগ্রামের আবাসন ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার মোহাম্মদ আলমগীর, তাঁর সহযোগী মো. মনির হোসেন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ছয়-সাতজনকে। তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মামলার নেপথ্যে রয়েছে পাঁচ কোটি টাকার উন্নয়নকাজের ঠিকাদারি কার্যাদেশকে ঘিরে কথিত ৫০ লাখ টাকা লেনদেনের একটি অভিযোগ, যা পুরো ঘটনাকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের চান্দগাঁও থানায় মামলাটি (নম্বর ০৯) দায়ের হয় ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি। এজাহারে ঘটনার তারিখ দেখানো হয়েছে ৪ জানুয়ারি। মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩ ও ৫০৬ ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এজাহারের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিরা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে দপ্তরের উঁচু দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখান ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। দেয়াল টপকে প্রবেশের এই দাবির পক্ষে প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নথি বা অন্য কোনো দালিলিক প্রমাণ আছে কি না, তা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। মামলার তদন্তভার চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ ফয়সলের ওপর ন্যস্ত। মামলার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রথম প্রশ্নটি উঠেছে এখতিয়ার নিয়ে। এজাহারে ঘটনাস্থল হিসেবে পাঁচলাইশ থানাধীন বিএডিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরের ঠিকানা উল্লেখ আছে, অথচ মামলা নেওয়া হয়েছে চান্দগাঁও থানায়। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৬(১) ধারায় থানার স্থানীয় এখতিয়ারের ভিত্তিতে আমলযোগ্য অপরাধ তদন্তের বিধান আছে, আর ১৭৭ ধারায় সাধারণত অপরাধ সংঘটনের এলাকার আদালতেই বিচার ও অনুসন্ধানের কথা বলা হয়েছে। অপরাধের স্থান অনিশ্চিত হলে, একাধিক এলাকায় ঘটলে কিংবা ধারাবাহিক প্রকৃতির হলে ১৮২ ধারায় ভিন্ন এলাকার এখতিয়ার খাটতে পারে। কিন্তু এই মামলায় সেরকম কোনো ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। পাঁচলাইশ থানায় আগে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, সেখান থেকে চান্দগাঁওয়ে পাঠানো হয়েছিল কি না, নাকি ঘটনার সঙ্গে অন্য এলাকার সংশ্লিষ্টতা ছিল, তা স্পষ্ট নয়। যথাযথ তথ্যপ্রমাণ ছাড়া পাঁচলাইশ থানাকে নিষ্ক্রিয় বলার সুযোগও নেই। দুই থানার রেকর্ড, অভিযোগ গ্রহণের তথ্য ও এখতিয়ারসংক্রান্ত নথি দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে, আর সে জন্য বাদী, সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা প্রয়োজন। মামলার পেছনের ঘটনা খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, হাসিমপুরের বাসিন্দা আলমগীরের সঙ্গে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক নুরুল ইসলামের ব্যবসায়িক যোগাযোগ ছিল। আলমগীরের দাবি, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার কাজের কার্যাদেশ পাওয়ার আশায় তিনি তিন কিস্তিতে মোট ৫০ লাখ টাকা দিয়েছেন। তাঁর হিসাবে প্রথম কিস্তিতে একজন ঠিকাদারের মাধ্যমে পাঁচ লাখ, পরে সরাসরি ৩৫ লাখ এবং সবশেষ আরও ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার সময় দুজন ঠিকাদার উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন। আলমগীরের অভিযোগ, টাকা দেওয়ার পরও কার্যাদেশ না মেলায় তিনি একাধিকবার বিষয়টি জানতে চেয়েছেন, তাতেই বিরোধের সূত্রপাত, এবং এর জেরেই তাঁকে ফাঁসাতে মামলাটি করা হয়েছে। তবে এই অর্থ লেনদেন, এর উৎস, গ্রহণকারী ও কথিত কার্যাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এখনো স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি। উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ এবং দরপত্র ও কার্যাদেশের নথি যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। সবচেয়ে বিস্ময়কর বক্তব্য এসেছে খোদ মামলার বাদীর কাছ থেকে। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপে সহকারী প্রকৌশলী তমাল দাস দাবি করেন, এ ধরনের মামলা করার ব্যক্তিগত আগ্রহ তাঁর ছিল না; তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল ইসলামের চাপের মুখেই তিনি মামলা করেছেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি ঊর্ধ্বতনের চাপে এজাহারে স্বাক্ষর করে থাকেন, তবে সেই চাপের স্বরূপ ও প্রেক্ষাপট কী ছিল, তা জানা জরুরি। বাদীর এই বক্তব্য এজাহারের অভিযোগের সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ এবং তিনি কেন এমন বলছেন, তা-ও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার দাবি রাখে। আর্থিক অভিযোগের ক্ষেত্রে অনুসন্ধানের সূত্র হিসেবে সামনে এসেছে চট্টগ্রাম শহরের দুটি ব্যাংক শাখা। অভিযোগ আছে, নুরুল ইসলাম তাঁর দুই-তিনজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে কথিত অর্থ জমার ব্যবস্থা করতেন; কখনো নিজে শাখায় যেতেন, কখনো একান্ত সহকারীদের দিয়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে পাওয়া টাকা জমা দেওয়াতেন। শাখা দুটির একটি এনসিসি ব্যাংকের কামাল বাজার, অন্যটি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মুরাদপুর। অভিযোগের নির্দিষ্ট তারিখ ও লেনদেনের সময় মিলিয়ে এই দুই শাখার সিসিটিভি ফুটেজ দেখা গেলে তাঁর বা তাঁর সহকারীদের উপস্থিতির দৃশ্যমান প্রমাণ মিলতে পারে। তবে শুধু ব্যাংকে উপস্থিতি ঘুষ গ্রহণের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়; এর সঙ্গে জমা স্লিপ, জমাদানকারীর পরিচয়, লেনদেনের পরিমাণ, হিসাবধারীর সঙ্গে সম্পর্ক ও ব্যাংকের সংরক্ষিত অন্যান্য নথিও যাচাই করতে হবে। ফুটেজ নির্দিষ্ট সময় পর মুছে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় আইনগত প্রক্রিয়ায় দ্রুত তা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তবে—নুরুল ইসলাম এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছেন। ৫০ লাখ টাকা গ্রহণ, আত্মীয়দের হিসাব ব্যবহার এবং বাদীকে চাপ দেওয়ার প্রতিটি অভিযোগই তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অভিযোগ বা তাঁর বক্তব্যের সত্যতা নিরূপণে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, ব্যাংক নথি, ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করাই একমাত্র পথ। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), কৃষি মন্ত্রণালয় ও বিএডিসির নিজস্ব তদন্ত কর্তৃপক্ষের সমন্বিত অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে। দাবিকারীদের মতে, নুরুল ইসলামের চাকরিজীবনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তাঁর নিজের, পরিবারের সদস্যদের ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের ব্যাংক হিসাব এবং সম্পদের উৎস আইনগতভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। বিডিসি সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈধ আয়ের সঙ্গে লেনদেনের সামঞ্জস্য, অস্বাভাবিক জমা, নগদ লেনদেন ও কথিত ঠিকাদারি অর্থের প্রবাহ এর আওতায় আসবে। একই সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের ভূমিকা, প্রকল্পের ব্যয়ের সঙ্গে কোনো অস্বাভাবিক আর্থিক সম্পর্ক আছে কি না, তাও দেখতে হবে। অবশ্যই মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনসহ প্রযোজ্য বিধিবিধান মেনে এবং যথাযথ আইনগত অনুমোদন নিয়ে এই অনুসন্ধান চালাতে হবে। কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া এই সেচ প্রকল্পে দরপত্র মূল্যায়ন, কার্যাদেশ, বিল পরিশোধ ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কথিত পাঁচ কোটি টাকার কাজের দরপত্র, ঠিকাদার নির্বাচন, অনুমোদিত ব্যয় ও অগ্রগতির নথি পরীক্ষার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, কে কোন কাজের জন্য দরপত্রে অংশ নিয়েছেন, কার্যাদেশ কে পেয়েছেন, কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। বিশেষ করে ৫০ লাখ টাকার কথিত লেনদেনের সঙ্গে কোনো কার্যাদেশ বা আর্থিক সিদ্ধান্তের যোগসূত্র আছে কি না, সেটিই নির্ধারণের মূল প্রশ্ন। এদিকে আসামি আলমগীর আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন বলে জানা গেছে। জামিনের পর বাদীপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু অভিযোগ যদি সত্যিই একজন সরকারি কর্মকর্তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর হয়, তবে ব্যক্তিগত সমঝোতায় তার নিষ্পত্তি কতটা আইনসম্মত ও গ্রহণযোগ্য, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। আবার ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে যদি মামলা সাজানো হয়ে থাকে, তাহলে সেটিও তদন্তে উন্মোচিত হওয়া দরকার। নিরপরাধ কাউকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি যেমন মেনে নেওয়া যায় না, তেমনি সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলা বা হত্যার হুমকির অভিযোগও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মোহাম্মদ ফয়সল যোগাযোগ করলে জানান, প্রচলিত বিধিবিধান ও আইন অনুসরণ করে নিরপেক্ষভাবে মামলাটির তদন্ত চলছে এবং নির্ধারিত সময়ে ফলাফল আদালতে দাখিল করা হবে। সব মিলিয়ে ঘটনাটি আর একটি থানার মামলার গণ্ডিতে আটকে নেই। একদিকে সরকারি প্রকৌশলীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, অন্যদিকে বাদীর নিজের মুখে ঊর্ধ্বতনের চাপের কথা এবং ৫০ লাখ টাকা লেনদেনের গুরুতর দাবি, এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহির প্রশ্ন। দপ্তরে হামলার ঘটনা সত্যিই ঘটেছিল, নাকি ঠিকাদারি কার্যাদেশ ও অর্থ লেনদেনের বিরোধ থেকেই মামলার জন্ম, বাদী কেন বলছেন তিনি নিজে মামলা করতে চাননি, পাঁচলাইশের বদলে চান্দগাঁওয়ে মামলা হলো কেন, পাঁচলাইশ থানার ভূমিকাই বা কী ছিল, আর দুই ব্যাংকের সিসিটিভিতে কথিত অর্থ জমার সময় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর উপস্থিতির কোনো চিহ্ন মিলবে কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর কেবল নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্তেই মিলতে পারে। তাই মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের পাশাপাশি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া, প্রকল্পের ঠিকাদারি কার্যক্রম, কথিত আর্থিক লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের আইনসম্মত অনুসন্ধান নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।