আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের ভরাডুবি: ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে ৫১, কংগ্রেসেও ব্যাপক এগিয়ে
ট্রাম্পের ভরাডুবি: ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে ৫১, কংগ্রেসেও ব্যাপক এগিয়ে

  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচেনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের রিপাকলিকান পার্টির ভরাডুবি হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে কংগ্রেসের নিন্মকক্ষের ৪৩৫টি আসনে মধ্যে ২২০ আসনে ডেমোক্র্যাটরা আর ১২৬ আসনে রিপাবলিকানরা জয়ী হয়েছে । সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮ আসন। অন্যদিকে ১০০ আসনের সিনেটের ৩৫টিতে এবার নির্বাচন হচ্ছে । বর্তমান সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩ এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭ আসন ছিল । গতকালের নির্বাচনের পর ইতিমধ্যে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা ৫৩তে পৌঁছ গেছে। রিপাবলিকানদের আসনসংখ্যা কমে ৪১-এ দাঁড়িয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা ও সিএনএন

News নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
দক্ষিণ ফ্লোরিডায় একটি লারজেট ৬০ বিমানের বিধ্বস্ত হওয়ার প্রতীকী চিত্র
দক্ষিণ ফ্লোরিডায় লারজেট ৬০ বিমান বিধ্বস্ত, ৯ জন নিহত

দক্ষিণ ফ্লোরিডার পেমব্রোক কাউন্টিতে রবিবার দুপুর ১২:৫০ মিনিটে একটি লারজেট ৬০ মডেলের বাণিজ্যিক বিমান বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে ৯ জন যাত্রী ছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডি সান্টিস জানিয়েছেন, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সময় নিচে থাকা কেউ আহত বা নিহত হয়নি। দুর্ঘটনাস্থলটি গ্রিনাক্রেস শহরে, যা ওয়েস্ট পাম বিচ থেকে প্রায় ৭ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাহামাসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানটি প্রায় ৩৫,০০০ ফুট উচ্চতায় ছিল যখন পাইলটরা তীব্র বৃষ্টি, তুষারপাত এবং ঝড়ের কথা জানিয়ে আরো ২,০০০ ফুট উচ্চতায় ওঠার অনুরোধ করেন।এরপর বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। প্রথমে প্রতি মিনিটে ১০,০০০ ফুট, পরে ২০,০০০ ফুট এবং সর্বশেষ ৩০,০০০ ফুট প্রতি মিনিটের হার দিয়ে অবতরণ করে। এক পাইলট জরুরি সংকেত প্রেরণ করেন এবং বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে ডানদিকে তীব্রভাবে ঝুঁকে পড়ে।দুর্ঘটনার কারণে আশেপাশের একটি মোবাইল হোম পার্ক থেকে প্রায় ৬০০ জন বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশের সড়কটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে।ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) তদন্তে সহায়তা করবে এবং ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন একটি তদন্ত দল পাঠাবে।এদিন এলাকায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল এবং ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সোমবার বিকেল পর্যন্ত বন্যার সতর্কতা জারি করেছে।

Desk Reporter নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
আমিরাতে রেড অ্যালার্ট জারি
আমিরাতে রেড অ্যালার্ট জারি

  ঘন কুয়াশার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দক্ষিণাঞ্চলে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)। মঙ্গলবার সকালে এ সতর্কতা জারি করা হয়। একই সঙ্গে হলুদ সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। কুয়াশার কারণে সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে গাড়িচালকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবুধাবি পুলিশ। এনসিএমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর দেশটির আবহাওয়া সাধারণত পরিষ্কার থেকে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। তবে সকালে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। এতে সড়কে দৃশ্যমানতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবুধাবি পুলিশ গাড়িচালকদের সড়কের ইলেকট্রনিক সাইনবোর্ডে প্রদর্শিত গতিসীমার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ কিছু এলাকায় আর্দ্রতা বাড়তে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও কুয়াশা বা হালকা কুয়াশা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। দেশজুড়ে তাপমাত্রা ১৯ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। আবুধাবিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি এবং দুবাইয়ে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। রাস আল খাইমায় তাপমাত্রা নেমে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। বাতাস দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে হালকা থেকে মাঝারি বেগে বইতে পারে। পরে তা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হতে পারে এবং মাঝে মাঝে গতিবেগ বাড়তে পারে। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার থাকলেও তা সর্বোচ্চ ৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। আরব উপসাগর ও ওমান সাগরে সমুদ্রের অবস্থা শান্ত থাকবে বলে জানিয়েছে এনসিএম।

News নভেম্বর ৩, ২০২৬ 0
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ

  বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সোমবার (০২ নভেম্বর) অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার রাজধানী সেন্ট জনসে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলন (সিএইচওজিএম) উপলক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ আমন্ত্রণ জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈঠকে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন উভয় মন্ত্রী। যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের শক্তিশালী বাণিজ্যিক উপস্থিতি, বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ এবং জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থার জন্য এয়ারবাস কেনার বিষয়ে বাংলাদেশের চুক্তির বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন এবং মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বহুপক্ষীয় ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন দুই মন্ত্রী। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি রো‌হিঙ্গা‌দের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তি‌নি একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাজ্যের অব্যাহত মানবিক সহায়তার আশ্বাস দেন।

News নভেম্বর ৩, ২০২৬ 0
আসামে বেলুনের সঙ্গে বাঁধা যুবদলের ব্যানার, তদন্তে ভারতীয় পুলিশ
আসামে বেলুনের সঙ্গে বাঁধা যুবদলের ব্যানার, তদন্তে ভারতীয় পুলিশ

  ভারতের আসাম রাজ্যের লখিমপুর জেলার একটি গ্রামে গ্যাসভর্তি বেলুনের সঙ্গে বাঁধা বাংলাদেশের বিএনপির যুবসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের একটি ব্যানার পাওয়া গেছে। শুক্রবার নারায়ণপুর থানার অন্তর্গত লেটেকুজান গ্রামের একটি ধানখেতে বেলুনগুলো দেখতে পান স্থানীয় এক কিশোর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকালে পাশের মাঠে গরু চরানোর সময় কিশোরটি বেলুনগুলো দেখতে পায়। পরে সেগুলো একটি বাঁধের কাছে নেমে এলে সে সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে যায়। বেলুনের সঙ্গে লাগানো ফ্লেক্স ব্যানারে জাতীয়তাবাদী যুবদলের মৌলভীবাজার জেলা শাখার ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছাবার্তা লেখা ছিল। এতে বিএনপির নেতা ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ছবিও ছিল। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের সময় একই ধরনের দলীয় ব্যানারযুক্ত বেলুন ওড়ানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রামবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে ধলপুর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল লেটেকুজান গ্রামে যায়। পরে বেলুন ও ব্যানারটি নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। এই সময় পুলিশ জানায়, ব্যানার ও বেলুনগুলো কোথা থেকে উড়ে এসেছে এবং কীভাবে ভারতের এই গ্রামে পৌঁছেছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করা হচ্ছে।

News নভেম্বর ১, ২০২৬ 0
দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভ শুরু, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার
দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভ শুরু, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার

  দিল্লিতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভ-মিছিল শুরু হয়েছে। ভিড় বাড়ছে রামলীলা ময়দানে। রোববার ভোর থেকে সেখানে জমায়েত হতে শুরু করেন বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সমর্থকেরা। ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। বিরোধীদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শুধু প্রতিবাদস্থলেই মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কনট প্লেস-মিন্টো রোডের সংযোগস্থল থেকে মিছিল নিয়ে বের হবেন বলে কথা রয়েছে । এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনদেরও মিছিলে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। মিছিল শেষ হবে রামলীলা ময়দানে গিয়ে। দিল্লির রাস্তায় রাস্তায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য সব রকম প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। ২৫০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে শহরজুড়ে। রামলীলা ময়দানে ইতোমধ্যে অনেকেই জড়ো হয়েছেন। সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের মিছিল এরই মধ্যে সেখানে পৌঁছে গেছে। কর্মসূচির জন্য দিল্লির একাধিক রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। রামলীলা ময়দানে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৫৫ হাজার মানুষের জমায়েত সম্ভব। পুলিশ জানিয়েছে, তার বেশি জমায়েতের সম্ভাবনা তৈরি হলে গন্তব্যে পৌঁছোনোর আগেই ভিড় আটকে দেওয়া হতে পারে। বিরোধীদের দাবি, ১০ লাখ মানুষের জমায়েত হবে। ‘ইন্ডিয়া’র কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে রোববারই দিল্লিতে মিছিল করবে বিজেপি। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার স্মরণে পাল্টা সমাবেশের ডাক দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ।

News নভেম্বর ১, ২০২৬ 0
মোদি-আদানি নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ঘিরে তোলপাড়, কী আছে তাতে
মোদি-আদানি নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ঘিরে তোলপাড়, কী আছে তাতে

  ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও দেশটির শীর্ষ ধনী শিল্পপতি গৌতম আদানির সম্পর্ক ও ব্যবসায়িক উত্থান নিয়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্রকে কেন্দ্র করে ভারতজুড়ে তোলপাড় চলছে। ‘দ্য ফ্রেন্ডশিপ ফাইলস: হাউ মোদি অ্যান্ড আদানি স্টোল ইন্ডিয়া’ শীর্ষক ৩৬ মিনিটের এই তথ্যচিত্রটি নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর এর প্রচার ও শেয়ারের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। একইসঙ্গে প্রামাণ্যচিত্রটি ঘিরে ৫০ কোটি রুপির মানহানির মামলা ঠুকেছে আদানি গ্রুপের মূল প্রতিষ্ঠান আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড। হটমেইলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সাবির ভাটিয়ার ইউটিউব চ্যানেল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) গত ৯ অক্টোবর প্রথম প্রকাশিত হয় প্রামাণ্যচিত্রটি। প্রকাশের পরপরই এটি ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। কী আছে বিতর্কিত এই প্রামাণ্যচিত্রে? প্রামাণ্যচিত্রটিতে মূলত গত দুই দশক ধরে নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক ক্ষমতার বিস্তার এবং সমান্তরালে গৌতম আদানির বিশাল করপোরেট সাম্রাজ্য গড়ে ওঠার মধ্যকার পারস্পরিক যোগসূত্রকে তুলে ধরা হয়েছে: • নীতিমালা উপেক্ষা করে সুবিধা প্রদান: প্রামাণ্যচিত্রে অভিযোগ করা হয়, বিদ্যমান সরকারি বিধিনিষেধ ও নীতিমালা উপেক্ষা করে আদানি গ্রুপকে বন্দর, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, সড়ক অবকাঠামো এবং কয়লা খনি ইজারার মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে একচ্ছত্র সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। • গুজরাট থেকে দিল্লি যাত্রা: নরেন্দ্র মোদি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকেই আদানির সঙ্গে তাঁর সখ্য শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দিল্লির মসনদে বসার পর কীভাবে একটি আঞ্চলিক ব্যবসা থেকে আদানি গ্রুপ বিশ্বমঞ্চের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট জায়ান্টে রূপান্তরিত হলো—তার ধারাবাহিক বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে এতে। • ক্রোনি ক্যাপিটালিজমের অভিযোগ: এতে দাবি করা হয়, সরকারি প্রভাব ও নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে একটি বিশেষ শিল্পগোষ্ঠীকে অন্যায্য সুবিধা দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগণের করের অর্থের অপব্যবহার করা হয়েছে, যাকে ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজম’ বা সুবিধাভোগী পুঁজিবাদ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আদালতের স্থগিতাদেশ ও ৫০ কোটি রুপির মামলা ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে বিরোধী শিবির এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড কলকাতা হাইকোর্টে মানহানির মামলা দায়ের করে। আদালতের শুনানিতে উল্লেখ করা হয়, প্রামাণ্যচিত্রটিতে যেসব গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলোর সপক্ষে কোনো উপযুক্ত আইনি প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রামাণ্যচিত্রটির প্রচার, পুনঃপ্রচার ও শেয়ার করার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে কলকাতা হাইকোর্ট। পাশাপাশি ইউটিউব, এক্স ও ইনস্টাগ্রাম কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্ট সব ভিডিও ও ক্লিপ অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং আদানি গ্রুপ শুরু থেকেই এই প্রামাণ্যচিত্রে আনা সব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন, মনগড়া এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

News অক্টোবর ২৯, ২০২৬ 0
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড ভারত
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড ভারত

  ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হেনেছে অত্যন্ত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার বা ৮৪ মাইল বেগে বাতাস বইছে।  বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে অর্ণব অতিক্রম করার পর মহাসড়কে গাছপালা ভেঙে পড়ে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। ঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অন্ধ্র প্রদেশ ও ওড়িশা রাজ্য থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বিমান ও ট্রেন চলাচল বাতিল করার পাশাপাশি কিছু বিদ্যালয় বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ঝড়ের কবলে থাকা অন্ধ্র প্রদেশের কাকিনাড়া জেলার এক বাসিন্দা বলেন, ‘কার বাড়িতে যে পানি কখন ঢুকে পড়বে কিংবা কার ঘর যে ডুবে যাবে, তা কেউ জানত না।’ ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জোয়ারের পানির চেয়ে দেড় মিটার পর্যন্ত উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস দিয়ে অন্ধ্র প্রদেশের নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। স্থলভাগে প্রবেশ করার পর তীব্রতা কিছুটা হ্রাস পেলেও অর্ণব ‘অত্যন্ত তীব্র ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে উপকূলে আঘাত হানে। প্রতিবেশী দেশ নেপালে এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ভারী বর্ষণ, তুষারঝড় ও তুষারধসের আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের উচ্চ উচ্চতার অঞ্চলে প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ তিন দিনের জন্য ট্রেকিং পারমিট ইস্যু করা স্থগিত রেখেছে, যেখানে এটি ছিল শীর্ষ হাইকিং মৌসুম এবং প্রতিদিন প্রায় ৭৫০ জন হাইকার পারমিট পেয়ে আসছিলেন।  উল্লেখ্য, নেপাল গত আগস্টে সংঘটিত হিমবাহ ধসের বিপর্যয় থেকে এখনও পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, যে দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল এবং অন্তত ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়াও শ্রীলঙ্কাতেও বিদ্যালয়গুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং দেশটির আবহাওয়া বিভাগ এই ঝড়ের কারণে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের সতর্কতা জারি করেছে। সূত্র: আল জাজিরা

News অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন নির্দেশনা
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন নির্দেশনা

  মার্কিন বি১/বি২ ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কতামূলক এক নতুন বার্তা দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। বার্তায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, বি১/বি২ ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে চাকরি বা কাজ করার কোনো অনুমতি নেই। এজন্য উপযুক্ত ভিসায় আবেদন করতে বলা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজেদের ওয়েবসাইটে এ বার্তা প্রকাশ করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়েছে, ভ্রমণের আগে নিয়মকানুন জেনে নিন। বি১/বি২ ভিজিটর ভিসায় ব্যবসায়িক বৈঠকে অংশ নেওয়া এবং চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে হলে আপনার ভিন্ন ধরনের ভিসার প্রয়োজন হবে।

News অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0
তেহরানে ইরান-সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের বৈঠক
তেহরানে ইরান-সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের বৈঠক

  ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা বৈঠক হয়েছে। আজ সোমবারের এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়। ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, বৈঠকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন অংশ নেন। পাকিস্তানের প্রস্তাবে এবং ইরানের সম্মতিতে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পরিণতি এবং ফিলিস্তিন ও লেবাননের জনগণকে সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়। আল অ্যারাবিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠক শেষে রেজায়ি আলোচনাকে ‘খুবই ভালো’ বলে বর্ণনা করেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনকে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে নতুন একটি পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং আলোচনায় তিনি ইতিবাচক পরিস্থিতি অনুভব করেছেন। সৌদি আরব জানিয়েছে, সামরিক উত্তেজনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আলোচনার পথ খোলা রাখাই এ সফরের উদ্দেশ্য। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার করতে এ ধরনের আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে চার দেশ। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি উপস্থিত ছিলেন। পেজেশকিয়ান বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাড়াতে যেকোনো সমঝোতাকে সমর্থন করে ইরান। আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার ও বিরোধ নিষ্পত্তিতেও দেশটি প্রস্তুত। সূত্র: তাসনিম; আল অ্যারাবিয়া

News অক্টোবর ২৭, ২০২৬ 0
গালিবাফকে ছাড়াই ভারতে ব্রিকসের বৈঠকে অংশ নিচ্ছে ইরান
গালিবাফকে ছাড়াই ভারতে ব্রিকসের বৈঠকে অংশ নিচ্ছে ইরান

  ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১২তম পার্লামেন্টারি ফোরামে অংশ নিচ্ছেন না। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির’ কারণে তিনি বৈঠকে যোগ দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছে ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস। তবে গালিবাফ না গেলেও ইরানের একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেবে। গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের দূতাবাস এ তথ্য জানায়। তবে গালিবাফের অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি’ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বিবৃতিতে দূতাবাস বলেছে, ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন ও বিভিন্ন বৈঠকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সক্রিয় ও কার্যকরভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই ধারাবাহিকতায় দেশটির সংসদীয় প্রতিনিধিদল ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ চালিয়ে যাবে। ২০০৬ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীনের উদ্যোগে ব্রিকসের যাত্রা শুরু হয়। তখন জোটটির নাম ছিল ‘ব্রিক’। চার বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকা যোগ দিলে এর নাম হয় ‘ব্রিকস’। পরে জোটটি সম্প্রসারিত হয়। বর্তমানে এর সদস্যদেশের মধ্যে রয়েছে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়াও।

News অক্টোবর ২৫, ২০২৬ 0
ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভে যোগ দিল থালাপতি বিজয়ের দল
ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভে যোগ দিল থালাপতি বিজয়ের দল

  ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। গতকাল চেন্নাইয়ে ভোটার তালিকার অনিয়ম ও বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভ হয়। বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ জোটে গত ৩ অক্টোবর যোগ দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এটিই টিভিকে ও দলটির প্রধান, মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের প্রথম বিক্ষোভে অংশগ্রহণ। গণতন্ত্র রক্ষা’ ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য বি মানিকাম ঠাকুর ও তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটি (টিএনসিসি)। ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে নয়াদিল্লিতেও বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যে চেন্নাইয়ের কর্মসূচিতে ইন্ডিয়া জোটের সাতটি শরিক দলের নেতারা অংশ নেন। গত ১০ অক্টোবর চেন্নাইয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও টিভিকে প্রধান সি জোসেফ বিজয়। এর কয়েক দিন পরই কংগ্রেসের ডাকা বিক্ষোভে অংশ নিল তার দল। কংগ্রেসের নেতৃত্বের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম সাউথ ফার্স্ট জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে বিভিন্ন আলোচনা, প্রচার ও বিক্ষোভে অংশ নিতে বিজয় ও তার দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাহুল। বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের শহরতলি নীলাঙ্করাইয়ে বিজয়ের বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন রাহুল। বৈঠকে দুই নেতা বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সম্প্রতি ধারাপুরাম ও মাদুরান্তাকাম উপনির্বাচনে টিভিকের সাফল্যের জন্য বিজয়কে অভিনন্দন জানান রাহুল। তামিলনাড়ুতে ‘সেক্যুলার সোশ্যাল জাস্টিস ভিক্টরি অ্যালায়েন্স’ গঠনের পর দুই নেতার মধ্যে এটিই ছিল প্রথম বৈঠক। চেন্নাইয়ের বিক্ষোভে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়া ভোটারদের বড় অংশ মুসলিম, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ বলে দাবি করেন তারা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, শুধু তামিলনাড়ুতেই ৯৭ লাখের বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, এসআইআরের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার মধ্য দিয়ে সংবিধানের মূল চেতনার ওপর আঘাত করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় মুসলিম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, ভোটার তালিকা সংশোধনের আড়ালে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে এমনভাবে প্রভাবিত করা হচ্ছে, যাতে ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়। এ কারণে তাঁরা পুরো প্রক্রিয়াকে ‘গণতান্ত্রিক হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেন। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
বিশ্ব কারিগরি শিক্ষা সম্মেলনে ‘বেইজিং এগ্রিমেন্ট’ প্রকাশ
বিশ্ব কারিগরি শিক্ষা সম্মেলনে ‘বেইজিং এগ্রিমেন্ট’ প্রকাশ

  বৈশ্বিক দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে ‘ফ্রেমওয়ার্ক অব ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন স্ট্যান্ডার্ডস (বেইজিং এগ্রিমেন্ট)’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। শনিবার তিয়ানজিন মেইজিয়াং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে ২০২৬ সালের ‘বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলন’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এই বৈশ্বিক কাঠামোর ঘোষণা দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পক্ষে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই ঐতিহাসিক বৈশ্বিক কাঠামোকে সমর্থনকারী দেশগুলোর অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এই সম্মেলনে ৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০০টিরও বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশ নেন। বেইজিং এগ্রিমেন্টের পাশাপাশি সম্মেলনে ‘চীনে বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক শ্বেতপত্র’, ‘লুবান ওয়ার্কশপের জাতীয় মানদণ্ড’ এবং আন্তর্জাতিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা এগিয়ে নিতে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ উন্মোচন করা হয়। বেইজিং এগ্রিমেন্টে বাংলাদেশের সমর্থন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা-প্রশিক্ষণের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই বৈশ্বিক ঘোষণার পাশাপাশি সম্মেলনের যৌথ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী ওয়াং গুয়াংইয়ান এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই সমঝোতা স্মারক এবং বেইজিং এগ্রিমেন্ট একত্রে বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়নে গতি সঞ্চার করবে। তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক কারিগরি শিক্ষার মানদণ্ড এবং বাস্তবধর্মী দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা তরুণ বাংলাদেশিদের জন্য বাস্তব কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।’ এই সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশ-চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে, মানবসম্পদ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করে।

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
এবার লন্ডনে বিক্ষোভের ডাক দিলেন ধ্রুব রাঠি
এবার লন্ডনে বিক্ষোভের ডাক দিলেন ধ্রুব রাঠি

  ভারতে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে লন্ডনে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি । শনিবার ব্রিটিশ রাজধানীতে পার্লামেন্ট স্কয়ারের বাইরে আয়োজিত এ বিক্ষোভে অংশ নিতে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাঠি জানান, তিনি লন্ডনে পৌঁছেছেন। সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিদের শনিবার দুপুর ১২টায় পার্লামেন্ট স্কয়ারে মহাত্মা গান্ধীর ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পোস্টে রাঠি লেখেন, ‘আপনারা যদি এখানে থাকেন, তাহলে আগামীকাল দুপুর ১২টায় পার্লামেন্ট স্কয়ারে মহাত্মা গান্ধীর ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভে যোগ দিন।’ এ সময় বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পোস্টে হিন্দিতে রাঠি লেখেন, ‘আন্তর্জাতিক মহলে ঢাক পেটানোর সময় এসে গেছে।’ পোস্টের শেষে তিনি ‘জয় হিন্দ’ লেখেন। লন্ডনে বিক্ষোভের এ ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যার এক সপ্তাহ আগে দিল্লিতে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে ধ্রুব রাঠিকে আটক করেছিল পুলিশ। গত সপ্তাহে হরিয়ানার গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এলাকায় তার বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে ওই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল। সূত্র: ইকোনমিক টাইমস

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
আমরা বাংলাদেশ বা নেপাল নয়, সরকার পরিবর্তন করতে চাই গণতান্ত্রিক উপায়ে: প্রকাশ রাজ
আমরা বাংলাদেশ বা নেপাল নয়, সরকার পরিবর্তন করতে চাই গণতান্ত্রিক উপায়ে: প্রকাশ রাজ

  অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ শুক্রবার সরকার পরিবর্তনের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, এই পরিবর্তন অবশ্যই নির্বাচন ও সাংবিধানিক পদ্ধতির মাধ্যমে হতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ ও নেপালের তুলনা করেন, যেখানে যথাক্রমে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল। প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাই এবং এ দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তা করব।” উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াইয়ের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন। আমাদের গান্ধী আছেন। আমাদের ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোট দেয়ার অধিকার আছে।” প্রকাশ রাজ অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করতে সরকারের অস্বীকৃতিই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা শক্তি প্রয়োগ করছেন।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তনের দাবিকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার ধারণা প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, নাগরিকেরা প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোট দেয়ার সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করছেন। তিনি বলেন, “আমরা অস্ত্রধারী নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের অস্ত্র হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।”  

News অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
মক্কায় মসজিদে অনৈতিক কাজ, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
মক্কায় মসজিদে অনৈতিক কাজ, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

  সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজের দায়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির সরকার। গতকাল বুধবার মক্কা অঞ্চলে তাদের এ দণ্ড কার্যকর করা হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আক্তার। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজ করার দায়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়। পরে মামলাটি সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পেয়ে দোষী সাব্যস্ত করে এবং মৃত্যুদণ্ড দেয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, অপরাধের গুরুতরতা এবং সময় ও স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তি হিসেবে এ দণ্ড দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখার পর রাজকীয় আদেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হিজরি ১৪৪৮ সালের ৩ জমাদিউল আউয়াল, অর্থাৎ ১৪ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার মক্কা অঞ্চলে নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। বিবৃতিতে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন বা অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সৌদি সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নিরাপত্তা বজায় রাখা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামী আইন কার্যকর করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের অপরাধে জড়িত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়। সূত্র: আজেল নিউজ

News অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
বিশ্বনেতারা ব্যাংককে, জি-২০ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক শুরু আজ
বিশ্বনেতারা ব্যাংককে, জি-২০ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক শুরু আজ

  ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, সুদের হার এবং বিভিন্ন দেশের ঋণের বোঝা নিয়ে আলোচনায় বসছেন বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা। বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হচ্ছে জি-২০-এর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠক। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পাশাপাশি ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অঞ্চলজুড়ে হামলার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে। গত আট মাসের বেশির ভাগ সময় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ছিল। এতে বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকারি ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের পারিবারিক বাজেটে চাপ বেড়েছে।  জি-২০-এর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের এই বৈঠকে অংশ নেবেন অধিকাংশ সদস্যদেশের প্রতিনিধিরা। থাকবেন আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। তবে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী ও জি-২০-এর বর্তমান সভাপতি দেশের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা স্কট বেসেন্ট বৈঠকে থাকছেন না। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যস্ততার কারণে বেসেন্ট বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না। তাঁর বদলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন উপঅর্থমন্ত্রী ফ্রান্সিস ব্রুক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি এরিন ব্রাউন। জি-২০-এর অর্থমন্ত্রীদের নিয়মিত বৈঠকগুলোর একটি এটি। এ বৈঠকের আলোচনা আগামী ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামিতে অনুষ্ঠেয় জি-২০ নেতাদের মূল সম্মেলনের আলোচ্যসূচি নির্ধারণেও ভূমিকা রাখবে। অস্ট্রেলিয়ার কোষাধ্যক্ষ জিম চালমার্স বৈঠকের আগে বলেছেন, তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার আহ্বান জানাবেন। তাঁর ভাষায়, বিশ্ব অর্থনীতির এখন এটাই জরুরি প্রয়োজন। এক বিবৃতিতে চালমার্স বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। এটি বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে।’ ঋণের বোঝা ও বাণিজ্যবিরোধও আলোচনায় বৈঠকে বিভিন্ন দেশের ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, ইতালি ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর সরকারি ঋণ তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১০০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। বুধবার এক বক্তব্যে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেন, ক্রমবর্ধমান ঋণ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। সরকারের কর বাড়ানো বা ব্যয় কমানোর প্রয়োজন এড়ানোর কোনো ‘জাদুকরি’ সমাধান নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জি-২০-এর সদস্যদেশগুলো তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আরো কিছু বিষয় বৈঠকে তুলবে। এর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। এর মধ্য দিয়ে মূলত চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত শিল্পব্যবস্থার সমালোচনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এ ব্যবস্থার কারণে চীনের রপ্তানিকারকেরা কম দামে পণ্য বিদেশের বাজারে ছাড়তে পারছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, চীনের বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত প্রমাণ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকদের বিরুদ্ধে কাজ করছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনের ক্রমপুঞ্জীভূত বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ৯৩৮ বিলিয়ন ডলার। বুধবার আইএমএফের উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে বেসেন্ট বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে অ-বাজারভিত্তিক নীতি ও চর্চা এবং বিনিময় হার কীভাবে বৈদেশিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে, তা নিয়ে আইএমএফের বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা জোরদার করা প্রয়োজন।’ বেসেন্ট আরো বলেন, ‘কিছু অর্থনীতির বাজার বিকৃতকারী নীতি প্রতিযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং কর্মসংস্থানের ক্ষতি করছে। বাজারভিত্তিক ব্যবস্থা কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায়, তা নিয়ে বিশ্বের নীতিনির্ধারকদের কঠিন আলোচনা করতে হচ্ছে।

News অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
ভোট গণনার ভিডিও ফুটেজ পাচ্ছে না কমিশন, তিরস্কার সুপ্রিম কোর্টের
ভোট গণনার ভিডিও ফুটেজ পাচ্ছে না কমিশন, তিরস্কার সুপ্রিম কোর্টের

  এসআইআর প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়ম ও ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ উঠেছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। চলছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। এরমধ্যেই কর্ণাটকের একটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনার ভিডিও ফুটেজ দেখাতে না পারায় ভারতের নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ২০২৩ সালে কর্নাটকের শ্রীনগেরি বিধানসভা কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। প্রথমে এই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী টিডি রাজেগৌড়াকে জয়ী বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। বিজেপি প্রার্থী ডিএন জীবারাজ এই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে আইনি পদক্ষেপ নেন। এরপর এই কেন্দ্রে ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ দেওয়া হয়। পোস্টাল ব্যালটের গণনায় ২০১ ভোটে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী। এই ফলাফল নিয়ে মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টেও। কংগ্রেস প্রার্থী গণনা এবং পুনর্গণনার ভিডিয়ো ফুটেজ দেখানোর আবেদন জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সঞ্জিব সচদেবের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য নথি প্রকাশ্যে আনা উচিত কমিশনের। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী শেষাদ্রী নায়ডু আদালতে জানান, গণনার ভিডিও ফুটেজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কমিশনের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি দেশটির শীর্ষ আদালত। কমিশনের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দুই বিচারপতি। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কমিশনের উদ্দেশে বলে, ‘কীভাবে আপনারা বলতে পারেন যে আমরা (ভিডিও রেকর্ডিং) খোঁজার চেষ্টা করছি? যা তথ্যপ্রমাণ আপনাদের কাছে আছে, পরের শুনানিতে তা জমা করুন। না হলে আমরা হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হব। আমরা এ ধরনের বাজে অজুহাত শুনব না।’ এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৫ ফেব্রুয়ারি। সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

News অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
ওপেনএআইয়ের কার্যালয়ে গোপন রেকর্ডিং যন্ত্র, সৌদি নাগরিক গ্রেপ্তার
ওপেনএআইয়ের কার্যালয়ে গোপন রেকর্ডিং যন্ত্র, সৌদি নাগরিক গ্রেপ্তার

  ওপেনএআইয়ের সান ফ্রান্সিসকো কার্যালয়ে গোপন রেকর্ডিং যন্ত্র বসানোর অভিযোগে এক সৌদি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩৫ বছরের আবদুল রহমান আলফোজানকে গত ৯ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়। তার আগে ৩০ সেপ্টেম্বর ওপেনএআইয়ের সান ফ্রান্সিসকোর দপ্তরের একটি কক্ষে গোপন রেকর্ডিং যন্ত্র খুঁজে পান সংস্থার কর্মীরা। আলফোজানের বিরুদ্ধে সংস্থার সান ফ্রান্সিসকোর কার্যালয়ে গোপন অডিও রেকর্ডিং যন্ত্র বসিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথাবার্তা শোনার চেষ্টা করার অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই। তবে এখন পর্যন্ত ওপেনএআইয়ের গোপন প্রযুক্তিগত তথ্য বা গ্রাহকদের তথ্য চুরি হওয়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আমেরিকার বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যন্ত্রটি ঘরের একটি টেলিভিশনের পেছনে ইউএসবি সংযোগে লাগানো ছিল। বাইরে থেকে যাতে সহজে বোঝা না যায়, সে জন্য সেটিকে টিস্যু পেপারের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই রুমে সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, নতুন পণ্য তৈরির পরিকল্পনা, ব্যবসায়িক কৌশল এবং ভবিষ্যতের প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হতো। ফলে সেখানে গোপনে কথাবার্তা রেকর্ড করার চেষ্টা কেন করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

News অক্টোবর ১৪, ২০২৬ 0
বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভা শুরু, আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট
বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভা শুরু, আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট

  মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, নজরবিহীন জ্বালানি সরবরাহের সংকট ও উচ্চ সুদহারের চাপে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশে দেশে চলছে সংকট উত্তরণের পথ খোঁজার উদ্যোগ। এমন পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আজ সোমবার শুরু হয়েছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভা। বৈঠকে মূল্যস্ফীতি, সরকারি ঋণের বোঝা ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে বলে জানা গেছে। নিয়ম অনুযায়ী, তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে নিজেদের সদর দপ্তরের বাইরে হচ্ছে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা। ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এ আয়োজনে বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারকেরা অংশ নিচ্ছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাব এবারের বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। জ্বালানি ও খাদ্যের দাম নিয়ে উদ্বেগ বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা রয়টার্সকে বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিশ্ব অর্থনীতি যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল, ততটা হয়নি। বিশ্ব অর্থনীতি এত বড় ধাক্কা এককভাবে সামলাতে পারছে। তবে নতুন করে চাপ বাড়ছে। ডিজেলের দাম বৃদ্ধি, সারে খরচ বেড়ে যাওয়া ও এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এল নিনোর কারণে তীব্র তাপপ্রবাহসহ প্রতিকূল আবহাওয়া আসতে পারে। জনস্বাস্থ্য ও কৃষি উৎপাদনে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে বিশ্বের সাতটি বৃহৎ অর্থনীতির জোট জি-৭ জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল বাজারে সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বলেন, শুধু এল নিনো নয়, জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি এবং ঋণের চাপে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে হবে। বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কা আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ শতাংশ। তবে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, এই পূর্বাভাস কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি দেশের প্রবৃদ্ধি কমতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া ইউক্রেন এবং ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ। আইএমএফ আরও বলছে, খাদ্য ও জ্বালানির দাম অনেকটা বেড়ে গেলে উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাস্তবতা দীর্ঘায়িত হতে পারে। এতে দারিদ্র্য বাড়বে। হুমকির মুখে পড়বে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি ঋণও নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। আইএমএফের হিসাবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বর্তমানে বিশ্বে সরকারি ঋণের পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ২০৩০ সালের আগেই বৈশ্বিক সরকারি ঋণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ-জিডিপি অনুপাত বেশি। তবে উদীয়মান ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোও ঝুঁকিতে আছে। যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বেশি থাকায় এসব দেশ থেকে পুঁজি বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। জলবায়ুজনিত ঝুঁকি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মনে করে আইএমএফ। বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। চাপ পড়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। একই সঙ্গে সুদের হার বৃদ্ধি ও ঋণমান সংস্থার পূর্বাভাস ইতিবাচক না হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক ঋণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো বড় বাজারে চাহিদা কমে গেলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল ব্যাংককের আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের এই সম্মেলনে বৈঠকে অংশ নিচ্ছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের যৌথ বার্ষিক বৈঠকের মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ১৬ অক্টোবর। এ ছাড়া ১৫ অক্টোবর উন্নয়ন কমিটির বৈঠক এবং ১৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক মুদ্রা ও আর্থিক কমিটির পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

News অক্টোবর ১৩, ২০২৬ 0
রাজনৈতিক চাপে মোদি সরকার, দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার
রাজনৈতিক চাপে মোদি সরকার, দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার

  ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সোমবার তারা সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করেন। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয় প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং তরুণদের নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আন্দোলনের সমর্থকেরা। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে কয়েক দিন ধরে চলা উত্তেজনার মধ্যে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভকারীরা নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। মিছিলের সময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং প্ল্যাকার্ড বহন করেন। ২৮ বছর বয়সি এক বিক্ষোভকারী অভয় আরিয়ান বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন কত বড় জনসমাগম হয়েছে। সরকারকে জনগণের কথা শুনতে হবে।’ সমালোচকদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার ব্যাপক সংশোধনের ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ ভোটার তালিকা সংশোধনের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত বছর শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি নাম বাদ গেছে। সমালোচকদের দাবি, এ পদক্ষেপে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে মুসলিমরা তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, নির্বাচন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে মৃত ব্যক্তি, একই ব্যক্তির একাধিক নিবন্ধন এবং ভুয়া এন্ট্রি বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই সংশোধন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মেহভাইশ নামের এক ব্যক্তি বলেন, মোদি সরকারের অধীনে গত ১২ থেকে ১৩ বছরে যে অন্যায়-অবিচারের শিকার হয়েছেন, তা আর সহ্য করতে পারছেন না তাঁরা। তার ভাষায়, ‘এখন যদি আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে আমাদের আর কী থাকে?’ মানবাধিকারকর্মী ও সরকারের সমালোচকেরা অভিযোগ করে আসছেন, মোদি সরকারের এক দশকের বেশি সময়ের শাসনে সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের সংগঠন ও রাজনৈতিক বিরোধীদের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে সরকার। নিরাপত্তা জোরদার, আটক হাজারো বিক্ষোভকারী টানা তৃতীয় দিনের মতো সোমবার দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বসানো হয় ভারী ধাতব ব্যারিকেড। বন্ধ রাখা হয় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন। সোমবারের মিছিলে নেতৃত্ব দেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি সংবিধানের একটি কপি হাতে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে এগিয়ে গেলে বিক্ষোভকারীরা তাকে স্বাগত জানান। পরে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে রিট আবেদন করেন তিনি। এর আগে সপ্তাহান্তে বিক্ষোভ চলাকালে আয়োজকসহ হাজারো মানুষকে আটক করা হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরে আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ‘ককরোচ’ আন্দোলনের তিনজন শীর্ষ নেতাও রয়েছেন। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, ব্যাপক ধরপাকড়ের মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা ও প্রতিবাদ দমনের চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-এর সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস অভিযোগ করেন, রোববারের বিক্ষোভের সময় পুলিশ তাকে হেনস্তা, টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া এবং মারধর করেছে। তার ভাষায়, এটি শুধু একজন সংসদ সদস্যের ওপর হামলা নয়, বরং গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ওপর আঘাত। বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও আটক হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের দাবি, পরিচয়পত্র দৃশ্যমান থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাদের আটক করে। ডিজিটাল সাংবাদিক নীতিন কাটিয়ার ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে জানান, পুলিশ তাঁর চোখে ঘুষি মেরেছিল। আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে এবং বিক্ষোভের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রোববারের সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলেও পুলিশ কোনো জবাব দেয়নি। মোদি সরকারের জন্য রাজনৈতিক চাপ ভোটার তালিকা সংশোধনবিরোধী আন্দোলন এখন মোদি সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন অধিকারকর্মীরাও এতে যুক্ত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী থাকা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আন্দোলনের নেতারা নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার দিল্লি পুলিশ জানায়, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জন্তর মন্তরকে আর আনুষ্ঠানিক বিক্ষোভস্থল হিসেবে নির্ধারিত রাখা হচ্ছে না। এর পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন সংগঠনটির নেতারা। আন্দোলনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, জন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে বন্ধ করে দিলেই প্রতিবাদ থামবে না। তার ভাষায়, ‘জন্তর মন্তর শুধু একটি জায়গা নয়, এটি প্রতিরোধের চেতনা—যা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।’ এদিকে, বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান সোমবার কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা এবং রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যেই কংগ্রেস এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে। ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ভোটাধিকার এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। আন্দোলন আরো বিস্তৃত হলে তা মোদি সরকারের জন্য রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। সূত্র: এএফপি ও রয়টার্স

News অক্টোবর ১৩, ২০২৬ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সম্ভাবনার নতুন শ্রমবাজার সার্বিয়া

মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক  

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

Top week

ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা
অর্থনীতি

ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা

News অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0