দেশজুড়ে

শার্শার বাগআঁচড়ায় ডক্টর মশিউর রহমান মহিলা কলেজে নবীন বরন অনুষ্ঠিত।
শার্শার বাগআঁচড়ায় ডক্টর মশিউর রহমান মহিলা কলেজে নবীন বরন অনুষ্ঠিত।

  আঃজলিল স্টাফ রিপোর্টারঃ--  যশোরের শার্শা বাগআঁচড়া ডক্টর মশিউর রহমান মহিলা কলেজে উৎসব মুখর পরিবেশে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত।  বুধবার  (৪ নভেম্বর )কলেজের নিজস্ব হলরুম মিলনায়তনে আয়োজিত পবিত্র কোরআন তেলোয়াত ও গিতাপাঠের মধ্য দিয়ে কলেজ শিক্ষক হুমায়ন কবীর ও কলেজ শিক্ষার্থী সাবিয়া আফরোজ মিতু এবং শান্তা আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রায় ১২৫ নবীন শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডক্টর মশিউর রহমান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অনুষ্ঠানের সম্মানিত সভাপতি মোঃঈমান আলী। তিনি বলেন শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখা, নৈতিকতা অনুসরণ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে শিক্ষার প্রতি মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও সৃজনশীলতা চর্চার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন ড.মশিউর রহমান মহিলা কলেজেের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আমেরিকার নাসা বিষ্ণানি ২০১০সালে তিনি নিজস্ব অর্থানে তিন তলা একাডেমি ভবনের কলেজটি প্রতিষ্টিত করেন। পাশাপাশি প্রতিবছর মেয়েদের শিক্ষাবৃত্তি এবং শিক্ষার্থীরদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরন করে থাকেন, এবং এই কলেজ থেকে মিডিকেলে চান্সপ্রাপ্ত ছাত্রীদের খরজের ব্যায়ভার ও বহন করে  থাকেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মকর্তা কর্মচারী বৃন্দ। নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীরা নৃত্য, সংগীত, আবৃত্তি ও নাটক পরিবেশন করেন, যা দর্শকদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি, অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আয়োজন পূর্বক বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই মুখরিত হয়ে ওঠে কলেজ ক্যাম্পাস। কেউ এসেছিলেন সেজে, কেউবা সাধারণ পোশাকে। নবীন বরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয় পুরো ক্যাম্পাসে। এছাড়াও নবীন বরণ উপলক্ষে আগত নতুন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় সকাল থেকেই মুখরিত ছিল পুরো ক্যাম্পাস। নতুন পরিবেশে নতুন মানুষদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বিভাগগুলোতে চলছিল পরিচিতি পর্ব। বিভাগগুলোতে আগত নতুন শিক্ষার্থীদের প্রথমেই ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান। শিক্ষার্থীরা এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অত্র কলেজের সুযোগ-সুবিধা, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ও সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন। কলেজের প্রশাসন নবাগত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে সব ধরনের সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে নতুন শিক্ষার্থীদের শুভ কামনা জানিয়ে মধ্যার্ন ভোজের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিক ভাবে সমাপ্তি ঘোষণা করেন। প্রেরক, আঃজলিল  স্টাফ রিপোর্টার

News নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
সিরাজগঞ্জে বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার
সিরাজগঞ্জে বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

  সিরাজগঞ্জে আত্মসমর্পণকারী তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১২ (এসআরবি)। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি ও এসআরবি-১২'র অধিনায়ক আতিকুর রহমান মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন। উদ্ধার অস্ত্র ও গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে, ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন ও ৯৫টি দেশীয় অস্ত্রসহ ৮টি ওয়াকিটকি। অধিনায়ক আতিকুর রহমান বলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া, সলঙ্গা ও পাবনা জেলার সাথিয়া এবং আতাইকুলা থেকে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এই অস্ত্র ও গোলাবারুদগুলো আত্মসমর্পনকারী চরমপন্থিদের হেফাজতে ছিল। তারা গত ১ নভেম্বর সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের উপস্থিতিতে এসআরবির কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

News নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
বদলী বাতিলের দাবী জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলেছেন সুশীল সমাজ।।
বদলী বাতিলের দাবী জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলেছেন সুশীল সমাজ।।

স্টাফ রিপোর্টার,হবিগঞ্জ।   হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের সহকারী কমিশনার( ভূমি )  মেহরাব হোসেন প্রায় ৭  মাস পূর্বে বানিয়াচংয়ে যোগদান করেন।  এসিল্যান্ডের পদ শূণ্য থাকায় দীর্ঘদিন ইউএনও দায়িত্ব থাকলে ও অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।  তিনি যোগদান করার পর অফিসের সেবায় পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে। ৭ মাসের মাথায়  সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহরাব হোসাইনের বদলিতে হতাশ সাধারণ মানুষ। বানিয়াচং উপজেলা ভূমি   অফিসে দায়িত্ব পালনকালে পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও জনবান্ধব প্রশাসনিক সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছেন ভূমি কর্মকর্তা মেহরাব হোসাইন।বানিয়াচং উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি ভূমি অফিস সহ বানিয়াচং উপজেলা  পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, সেবার মান উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি   কমানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেন। বৃহৎ জনগোষ্ঠীর এই উপজেলার মানুষের আচার-আচরণ, সামাজিক বাস্তবতা ও স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করেন তিনি।স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর আন্তরিক আচরণ, সহজে কথা বলার সুযোগ এবং প্রশাসনিক সেবা প্রদানে মনোযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে   আস্থা তৈরি করেছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অনেকের কাছে একজন জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।তবে মাত্র ৭ মাস দায়িত্ব পালনের পর হঠাৎ তাঁর বদলির খবরে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড়। সবার একই কথা জনস্বার্থে সহকারী কমিশনার (ভূমি)  এর বদলীর আদেশ বাতিল করা হোক।   অনেকের প্রত্যাশা ছিল, তিনি আরও কিছুদিন বানিয়াচং উপজেলায় দায়িত্ব পালন করবেন এবং  ভূমি সেবার ক্ষেত্রে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হতেন।সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, বানিয়াচংয়ের মতো বৃহৎ জনগোষ্ঠীর উপজেলায় ভূমি প্রশাসনের সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মেহরাব হোসাইনের মতো জনবান্ধব ও সেবামুখী কর্মকর্তাকে আরও কিছুদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হোক।সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই—প্রশাসনিক সেবা যেন  সহজ, স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব হয়।   সাধারণ বেশে চলাফেরা করা সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তার বদলী বাতিল করতে ফেসবুকে আকুল আবেদন জানিয়েছেন স্হানীয়রা। উপজেলা নাগরিক কমিটি বদলী বাতিলের দাবীতে জেলা প্রশাসক হবিগঞ্জকে স্মারক লিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবং স্মারক লিপির কপি মাননীয় সংসদ সদস্য গরীবের ডাক্তার সাখাওয়াত হাসান জীবন ও বিভাগীয় কমিশনার সিলেটকে দেওয়ার হবে বলে জানা গেছে।

News নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
নতুন রূপে ফিরছে আজিমপুরের ‘আজব ভবন
নতুন রূপে ফিরছে আজিমপুরের ‘আজব ভবন

  রাজধানীর আজিমপুরে দাঁড়িয়ে রয়েছে পাকিস্তান আমলে নির্মিত এক ব্যতিক্রমী ভবন। বাইরে থেকে সাধারণ দোতলা স্থাপনা মনে হলেও ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে একের পর এক বিস্ময়। প্রতিটি কক্ষের ভেতরে রয়েছে সিঁড়ি, আর সেই সিঁড়ি বেয়ে উঠলেই মেলে আরেকটি শোয়ার ঘর। অদ্ভুত এই নির্মাণশৈলীর কারণেই ভবনটির নাম হয়েছে ‘আজব ভবন’। সময়ের পরিক্রমায় হারিয়ে যেতে বসা এই স্থাপনাটি এবার ফিরছে নতুন রূপে। সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি ভবনটিকে হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষণেরও পরিকল্পনা করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। জানা গেছে, ভবনটি ১৯৫৪ সালে নির্মিত। পাকিস্তান আমলে এটি ‘এমএলএ হাউস’ নামে পরিচিত ছিল। বুধবার (৪ নভেম্বর) সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দুই তলা এ ভবনটির প্রতিটি শোয়ার কক্ষে ঢুকতেই চোখে পড়ে একটি করে সিঁড়ি। কক্ষে রয়েছে ওয়াশরুম ও রান্নাঘর। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলে দেখা যায়, নিচের কক্ষের ছাদের ওপর তৈরি করা হয়েছে আরেকটি শোয়ার ঘর। সেই ঘরেও রয়েছে আলাদা ওয়াশরুম ও রান্নাঘর। ভবনটির এমন ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলীর কারণে লোকমুখে এর নাম ‘আজব ভবন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আজিমপুর সরকারি অফিসার্স কলোনির এ ব্লকে ২০টি কক্ষের এই ভবনের তিনটি কক্ষে থাকেন তিনজন নিরাপত্তাকর্মী। অন্য একটি কক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছে কলোনির নিরাপত্তা ইনচার্জের কার্যালয় হিসেবে। ভবনটির বিভিন্ন অংশে চলছে রং করার কাজ। কেউ ব্যস্ত আঙিনা পরিষ্কারে, আবার কেউ ভবনের আশপাশের অংশ গোছানোর কাজে নিয়োজিত। সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজের কারণে ভবনটিতে এখন দেখা যাচ্ছে নতুন রূপ। গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলীর এই ভবনটিকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে। ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থাপত্যশৈলী বিবেচনায় ভবনটিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজিমপুরের স্থানীয় বাসিন্দা হৃদয় হাসান বলেন, এই ভবনটা অনেক আগে থেকেই দেখে আসছি। ভবনটা দেখতে অন্যগুলোর মতো নয়। এর প্রতিটি ঘরের ভেতরে সিঁড়ি। ওপরেও আলাদা ঘর রয়েছে। সব মিলিয়ে একটু ব্যতিক্রম। এ কারণে এটাকে আজব ভবন বলে চিনি। এখন রং করার পর দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে। আগে এটা যারা দেখেননি, তারা ভবনটির গঠন দেখে অবাক হবেন। আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগ-১-এর ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট মোহাম্মদ কায়েস মিয়া বলেন, আশপাশের ভবনগুলোর তুলনায় এটি কিছুটা অপরিচ্ছন্ন দেখায়। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য বজায় রাখতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে ভবনটির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হচ্ছে। তবে ভবনটি পরিত্যক্ত। শুনেছি ব্রিটিশ আমলে উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা এখানে বসবাস করতেন। এবিষয়ে আজিমপুর গণপূর্ত উপবিভাগ-১-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সৌরভ বিশ্বাস  বলেন, এই ভবনটি প্রায় ৮০ বছর পুরোনো। এটাকে হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। আপাতত ভবনটির বাইরের অংশের রং ও মেরামতের কাজ করে সৌন্দর্যবর্ধন করা হচ্ছে। পাশের ভবনগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটিকে দৃষ্টিনন্দন করা হবে। ভবনটির ভেতরে আপাতত কোনো কাজের পরিকল্পনা নেই। ভবিষ্যতে জাদুঘর বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নকশা ও নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

News নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে শ্রমিকদের তাণ্ডব, সাংবাদিক-পুলিশসহ আহত ১০
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে শ্রমিকদের তাণ্ডব, সাংবাদিক-পুলিশসহ আহত ১০

  ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি, কালো তালিকাভুক্তি বন্ধসহ ৩ দফা দাবি আদায়ে ২ ঘণ্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে বিক্ষুব্ধ পোশাকশ্রমিকেরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে সাভারের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। পরে বেলা ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।   সরেজমিনে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুর এলাকা ঘুরে জানা যায়, সকালে পদ্মার মোড় এলাকায় বিক্ষুব্ধ পোশাকশ্রমিকেরা জড়ো হয়ে সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশ ও বিজিবি তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। তখন আন্দোলনরত শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। সাড়ে ১০টার দিকে হেমায়েতপুর-সিংগাইর সড়কে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পর স্টার টেলিভিশনের সাংবাদিক সোহন সিরাজী, ৭১ টিভির সাংবাদিক রায়হান বিন ও ক্যামেরাম্যান উজ্জ্বল হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে শ্রমিক-পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ১০ জন আহত হন। এদিকে, আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় কয়েকটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করেন। পরে কারখানাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলে শ্রমিকেরা সড়কে বেরিয়ে আসেন। এরপর পোশাকশ্রমিকেরা বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। বর্তমানে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর ও সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বেলা ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পোশাকশ্রমিকদের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান নূর জানান, শ্রমিকেরা ৩ দফা দাবি নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

News নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
মিরপুরে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষ: নিরাপত্তার স্বার্থে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ
মিরপুরে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষ: নিরাপত্তার স্বার্থে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ

  রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেছেন পোশাক শ্রমিকেরা। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেওয়ায় যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এমআরটি পুলিশ জানায়, সকাল থেকেই ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে বর্তমানে এই স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামাও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশন বাদে মেট্রোরেলের অন্যান্য সব স্টেশনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত ও স্বাভাবিক হলে স্টেশনটি পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

News নভেম্বর ৩, ২০২৬ 0
রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজে প্লাস্টিক বোতলের বিনিময়ে চারা গাছ বিতরণ, পরিবেশ রক্ষায় বিডি ক্লিনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজে প্লাস্টিক বোতলের বিনিময়ে চারা গাছ বিতরণ, পরিবেশ রক্ষায় বিডি ক্লিনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

  মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: প্লাস্টিক দূষণ রোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজে ব্যতিক্রমধর্মী পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি ‘বোতলের বিনিময়ে গাছ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিডি ক্লিন রাঙ্গামাটি টিমের আয়োজনে এ কর্মসূচিতে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল জমা দিয়ে বিনিময়ে চারা গাছ সংগ্রহ করেন অংশগ্রহণকারীরা।  ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা, বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব এবং পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়।কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল যত্রতত্র ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বোতল সংগ্রহের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমানো এবং মানুষকে পরিবেশবান্ধব কাজে উদ্বুদ্ধ করা। প্লাস্টিক বর্জ্য যে পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি, তা তুলে ধরার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকর উপায় সম্পর্কেও অংশগ্রহণকারীদের সচেতন করা হয়।প্লাস্টিক বোতল দিন, চারা গাছ নিন,এমন আকর্ষণীয়   স্লোগানে পরিচালিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল জমা দিয়ে বিনিময়ে একটি করে চারা গাছ গ্রহণ করেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্যকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপাদান হিসেবে না দেখে সঠিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে চারা গাছ বিতরণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়নের প্রতি মানুষের   আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়।কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্লাস্টিক বোতল দিয়ে তৈরি বিভিন্ন প্রদর্শনীও উপস্থাপন করা হয়। এসব প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা, প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব এবং প্লাস্টিক বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনীগুলো শিক্ষার্থী ও উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ নাসিমুল হক, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মনোয়ার কবীর এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক জনাব অনির্বাণ বড়ুয়া।  তাঁদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ এ পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ রক্ষার শপথ গ্রহণ করেন।  এ সময় তারা প্লাস্টিক বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলা, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত হওয়া এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। চারা গাছ সংগ্রহের মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন পৃথিবী গড়ার নতুন অঙ্গীকার তৈরি হয়। আয়োজকদের এ উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করা এবং পরিবেশ রক্ষায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।পরিবেশ দূষণ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্লাস্টিক বর্জ্য নদী, খাল, জলাশয় ও মাটির পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ পরিস্থিতিতে প্লাস্টিক   বর্জ্যের ব্যবহার কমানো, ব্যবহৃত বোতল নির্দিষ্ট স্থানে সংগ্রহ করা এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।বিডি ক্লিন রাঙ্গামাটি টিমের এ ব্যতিক্রমী কর্মসূচি সেই সম্মিলিত উদ্যোগেরই একটি ইতিবাচক উদাহরণ। ছোট ছোট সচেতনতামূলক উদ্যোগ এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত   ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব,এমন বার্তাই তুলে ধরে কর্মসূচিটি। ‘সবুজ হোক মন, সবুজ হোক পৃথিবী,এ প্রত্যয়কে সামনে রেখে পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান আয়োজকরা।

News নভেম্বর ৩, ২০২৬ 0
সাভারে শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে ২৬৪টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
সাভারে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ২৬৪টি কারখানায় ছুটি

আজ সোমবার ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ২৬৪টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্প পুলিশের এসপি মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।শ্রমিকেরা সকাল থেকে ফ্যাক্টরির সামনে ইট-পাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিক্ষেপ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আশুলিয়ার কয়েকটি কারখানায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।আর্টিস্টিক ডিজাইন লিমিটেড ফ্যাক্টরির সামনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ করছেন।এছাড়া, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করেছেন।গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, বিজিবি সদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

Desk Reporter নভেম্বর ২, ২০২৬ 0
খাগড়াছড়িতে চলমান সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের চিত্র।
খাগড়াছড়িতে চলমান সড়ক অবরোধ ও সশস্ত্র সংঘর্ষ

খাগড়াছড়ি-দিঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়কে চলমান অবরোধ রবিবার দশম দিনে প্রবেশ করেছে।রবিবার দুটি সংগঠন অবরোধ সাময়িকভাবে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে, একই দিনে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি নতুন করে সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে।মিতালি চাকমা তার অসুস্থ মাকে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু গত রাতে অপর একটি গ্রুপের পক্ষ থেকে পাল্টা অবরোধের ঘোষণা দেওয়ায় তার জন্য সমস্যা তৈরি হয়েছে।স্থানীয় কলেজের অধ্যাপক মো. মুনিরসহ অনেকেই এই অবরোধের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন।অবরোধের কারণে স্থানীয় জনগণের মৌলিক প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে রবিবার অবরোধ সাময়িকভাবে lifted করা হয়েছে।অপরদিকে, শনিবার ও রবিবার লংগোলমারা এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। তবে, এই গুলিবর্ষণের ফলে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।স্থানীয় পুলিশ স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, গুলিবর্ষণের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতার কারণে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।

Desk Reporter নভেম্বর ২, ২০২৬ 0
শিবগঞ্জে এসআরবির অভিযানে কফ রিলিফ, ফায়ারডিল ও বিদেশি মদ উদ্ধার
শিবগঞ্জে এসআরবির অভিযানে কফ রিলিফ, ফায়ারডিল ও বিদেশি মদ উদ্ধার

   মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৫-এর অভিযানে ৯৮ বোতল কফ রিলিফ, ৯৬ বোতল ফায়ারডিল সিরাপ এবং ২০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার ১৩ নম্বর ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সতেরো রশিয়া চামা গ্রামের একটি আমবাগান থেকে এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এসআরবি সূত্রে জানা গেছে, সিপিসি-১, চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি আভিযানিক দল নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, ওই এলাকার একটি   আমবাগানে পরিত্যক্ত অবস্থায় কয়েকটি প্লাস্টিকের বস্তা পড়ে রয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বস্তাগুলো তল্লাশি করে ৯৮ বোতল কফ রিলিফ, ৯৬ বোতল ফায়ারডিল, ১২ বোতল ম্যাজিক মোমেন্টস গ্রেইন ভদকা এবং ৮ বোতল রয়্যাল স্ট্যাগ সুপিরিয়র হুইস্কি উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল ও আশপাশে সন্দেহভাজন কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

News নভেম্বর ২, ২০২৬ 0
আসাদুজ্জামান নূর ছিলেন ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সাংস্কৃতিক খুঁটি ও চালিকাশক্তি: এনসিপি
আসাদুজ্জামান নূর ছিলেন ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সাংস্কৃতিক খুঁটি ও চালিকাশক্তি: এনসিপি

  আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ও হত্যা এবং দুর্নীতির মামলায় কারারুদ্ধ আসাদুজ্জামান নূরকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় কয়েকটি গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার দলটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন এনসিপির দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি মাচরাঙা টেলিভিশনসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে ছাত্র-জনতার ওপর হত্যাযজ্ঞ ও নজিরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কারারুদ্ধ সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে ‘সংস্কৃতিকর্মী’ কিংবা ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব’ পরিচয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দলটি।  এনসিপির বক্তব্য, সংস্কৃতি কেবল শিষ্টাচার নয়; এটি স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী বয়ান তৈরির অন্যতম বড় হাতিয়ার। দলটির দাবি, আসাদুজ্জামান নূর শুধু একজন অভিনয়শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক খুঁটি ও চালিকাশক্তি। বিজ্ঞপ্তিতে আরো অভিযোগ করা হয়, ছাত্র-জনতার ওপর চালানো গণহত্যা ও রাষ্ট্রীয় গুমের মতো গুরুতর অপরাধে কারারুদ্ধ আসাদুজ্জামান নূরকে মানবিকতার প্রলেপ দিয়ে গণমাধ্যমে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। দলটির মতে, শহীদদের রক্তের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা, নির্যাতিত হাজারো পরিবারের অনুভূতির প্রতি উপহাস এবং ফ্যাসিবাদের ভয়াবহ অপরাধ আড়াল করার অপচেষ্টার অংশ এটি। এনসিপি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সহযোগী, রাজনৈতিক অপরাধী ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের অপরাধ লঘু করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালনকে গণমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেছে দলটি। বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি অবিলম্বে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এনসিপির মতে, গণমাধ্যমের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের প্রবণতা রোধে কমিশন গঠন জরুরি।

News নভেম্বর ১, ২০২৬ 0
ডিজিটাল মিডিয়া ফোরামের (ডিএমএফ) নতুন নেতৃত্ব: সভাপতি দেলোয়ার, সাধারণ সম্পাদক মানিক
ডিজিটাল মিডিয়া ফোরামের (ডিএমএফ) নতুন নেতৃত্ব: সভাপতি দেলোয়ার, সাধারণ সম্পাদক মানিক

  ডিজিটাল সাংবাদিকতার পেশাগত মানোন্নয়ন, অনলাইন গণমাধ্যমের বিকাশ এবং সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন ডিজিটাল মিডিয়া ফোরামের (ডিএমএফ) ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে দ্য বিজনেস ডেইলির মো. দেলোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গ্লোবাল টেলিভিশনের মহিউদ্দিন মানিক মনোনীত হয়েছেন। গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর বনশ্রীতে ডিএমএফের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতিতে ও মতামতের ভিত্তিতে এই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কমিটি ঘোষণা করেন ডিএমএফের উপদেষ্টা ও দৈনিক ইনকিলাবের অনলাইন ইনচার্জ নুরুল ইসলাম। এছাড়া নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য স্টার নিউজের হেড অব ডিজিটাল মইন বকুল এবং বাংলা ৫২ নিউজের প্রকাশক কাজী আওলাদ হোসেন। সহসভাপতি: তামজিদ মির্জা (রুপালী বাংলাদেশ), আরেসুল ইসলাম রাসেল (ডিবিসি নিউজ) ও পরান মাঝি (জাগো নিউজ)। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: সৈয়দ জাফরান হোসেন নূর (দৈনিক নয়া দিগন্ত)। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মোরশেদ আলম (বাংলাভিশন)। সাংগঠনিক সম্পাদক: মো. শামছুল আলম (দূরবীন নিউজ) এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক: মিঠুন (সদ্য সংবাদ)। অর্থ সম্পাদক: মইন উদ্দিন রাতুল (দীপ্ত টিভি) এবং সহ-অর্থ সম্পাদক: রুহুল আমিন (দৈনিক যুগান্তর)। দপ্তর সম্পাদক: মেহেদী হাসান রনি (টাইমস্ টুডে) এবং উপদপ্তর সম্পাদক: মারুফ হোসেন (চ্যানেল ওয়ান)। আইন সম্পাদক: আলাউদ্দিন আল আজাদ (গ্লোবাল টিভি)। প্রচার সম্পাদক: আলাউদ্দিন মিয়া (চ্যানেল ওয়ান)। নারীবিষয়ক সম্পাদক: নুরুন্নাহার চৌধুরী কলি (ভিওডি বাংলা)। স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক: তৌহিদুল ইসলাম তারেক (এখন টিভি)। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক: আজাদ হোসেন (এশিয়া পোস্ট)। আইসিটি সম্পাদক: মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম তুষার (ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন)। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক: মোহাম্মদ আবদুল মজিদ সুজন (দ্য ডেইলি এলাইভ)। ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক: আবু রায়হান ইফাত (চ্যানেল আই)। পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক: রবিউল ইসলাম (স্বদেশ প্রতিদিন)। সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক: শিবলী আহমেদ (এনপিবি নিউজ)। কার্যনির্বাহী সদস্যবৃন্দ: ফখরুল ইসলাম (দৈনিক ইত্তেফাক), আবু সালেহ মুসা (দৈনিক যুগান্তর), ওয়ালিউল হাসনাত (টাইমস্ টুডে), নুসরাত জাহান ঐশী (জাতীয় অর্থনীতি), তাবারাক হোসাইন (দৈনিক সময়ের কাগজ) এবং আকাশ বিশ্বাস (এশিয়ান টেলিভিশন)। নতুন এই কমিটি সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা ও অনলাইন মাধ্যমের অগ্রযাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংগঠনের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা।

News নভেম্বর ১, ২০২৬ 0
শেরেবাংলা নগরের জাতীয় যুব মেলা স্থগিত, জেলায়-উপজেলায় হবে আয়োজন
শেরেবাংলা নগরের জাতীয় যুব মেলা স্থগিত, জেলায়-উপজেলায় হবে আয়োজন

  রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে পূর্বনির্ধারিত সাত দিনব্যাপী ‘জাতীয় যুব মেলা’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় মেলাটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে দেশের সব জেলা ও উপজেলায় যুব মেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী ১ নভেম্বর দেশজুড়ে জাতীয় যুব দিবস পালিত হবে। এ উপলক্ষে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চারজন সংগঠক ও ১০ জন সফল আত্মকর্মীকে জাতীয় যুব পুরস্কার দেওয়া হবে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকবেন বলে জানান তিনি। যুব দিবস উপলক্ষে সারা দেশে ১২ হাজার নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে দেশি-বিদেশি ৫৫টি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে একটি চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ মেলার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে তিন থেকে পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে আমিনুল হক বলেন, দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ফুটসাল মাঠ নির্মাণ করা হবে।

News অক্টোবর ২৯, ২০২৬ 0
মালয়েশিয়া যেতে লাগতে পারে ৭ লাখ টাকা
মালয়েশিয়া যেতে লাগতে পারে ৭ লাখ টাকা

  মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা এলেও অভিবাসন ব্যয় নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকায় তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। এরই মধ্যে কর্মীপ্রতি সাত থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা খরচ হতে পারে—এমন প্রচারণা চালিয়ে সম্ভাব্য কর্মীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ শুরু করেছে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সি ও মধ্যস্বত্বভোগী। এতে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের খরচ অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বাস্তবসম্মত অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণের পাশাপাশি অর্থ পরিশোধের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক করা প্রয়োজন। তা না হলে এজেন্সিগুলো ইচ্ছামতো অর্থ আদায় করতে পারে। অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বলছে, আগের নির্ধারিত ব্যয় বাস্তবসম্মত ছিল না। নতুন করে ব্যয় নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। গত ১৫ অক্টোবর অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয় মন্ত্রণালয়। এরপর সম্ভাব্য কর্মীদের মধ্যে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম শুরুর ঘোষণাও আসে। তবে কর্মীপ্রতি মোট খরচ, বিভিন্ন ধাপের ফি এবং অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় অনিশ্চয়তা কাটছে না। ব্যয় নিয়ে এজেন্সিগুলোর দাবি শ্রমশক্তি খাতের ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত আগের অভিবাসন ব্যয় বাস্তবসম্মত ছিল না। ২০২২ সালেও এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। এবারও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যয় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আগে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর চাহিদাপত্র সংগ্রহে ব্যয় হতো ২-৩ হাজার রিঙ্গিত। এখন তা বেড়ে ৮-১০ হাজার রিঙ্গিত হয়েছে। কোনো কোনো ব্যবসায়ীর হিসাবে এই ব্যয় ১০ থেকে ১২ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত উঠেছে। ফলে কর্মীপ্রতি খরচও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা। তথ্যানুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত মোট অভিবাসন ব্যয় ছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। এর মধ্যে ছিল পাসপোর্ট ফি, মেডিকেল পরীক্ষা ফি, রিক্রুটিং এজেন্সির সার্ভিস চার্জ, রেজিস্ট্রেশন ফি, কল্যাণ ফি, বিমা বা ইন্স্যুরেন্স ফি। কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। বিভিন্ন স্তরে দালাল ও এজেন্সির সিন্ডিকেটের জন্য ওই সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের খরচ দাঁড়িয়েছিল ৫-৬ লাখ টাকা। অথচ নেপালের নাগরিকদের খরচ হয় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। ইন্দোনেশিয়ান কর্মীদের খরচ হয় এক থেকে দেড় লাখ টাকা। ফিলিপাইন নাগরিকদের খরচ হয় পঞ্চাশ থেকে আশি হাজার টাকা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাব-এজেন্সির তালিকাভুক্ত এক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক বলেন, তিনি ইতিমধ্যে এক হাজারের বেশি পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন। আরো পাসপোর্ট সংগ্রহ চলছে। তার দাবি, আগ্রহীদের অন্তত সাত লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। চূড়ান্ত ব্যয় নির্ধারিত না হওয়ায় এই অঙ্ক আরো বাড়তে পারে বলেও জানানো হয়েছে। ওই ব্যবসায়ীর ভাষ্য, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি থেকে চাহিদাপত্র সংগ্রহে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছেন বড় ব্যবসায়ীরা। এর বাইরে সংশ্লিষ্ট মধ্যস্বত্বভোগীদেরও অর্থ দিতে হয়। ফলে ছোট এজেন্সিগুলোর পক্ষে কম খরচে কর্মী পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ হলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে। তার আশঙ্কা, বর্তমান প্রক্রিয়ায় অভিবাসন ব্যয় আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। কর্মীদের জন্য আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে ব্যয় নির্ধারণ করা বাস্তবসম্মত বলেও মনে করেন তিনি। কর্মীদের দুশ্চিন্তা এদিকে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা সম্ভাব্য কর্মীদের মধ্যেও বাড়তি খরচের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সুনামগঞ্জের আলমাছ আলী গ্রামে মুদি দোকান চালিয়ে সংসার চালান। আড়াই বছর ধরে তিনি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার অপেক্ষায় ছিলেন। সম্প্রতি এক প্রতিবেশী তাকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে পাসপোর্ট জমা দিতে বলেন। খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে সাত লাখ টাকার বেশি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়। ঢাকার রামপুরার বাসিন্দা মুন্না মিয়া একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর খবর দেখে পরিচিত একটি রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। মুন্না বলেন, এবার খরচ বেশি হবে জানিয়ে তাকে প্রাথমিকভাবে সাত থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।  সরকার নির্ধারণ করবে নতুন ব্যয় মন্ত্রণালয়ের ১৫ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিসহ মোট ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ। তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেরাই মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করা, চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ, কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। অন্যদিকে, কলিং ভিসা ও ই-ভিসাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাজে বোয়েসেল ও তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি সহায়তা দেবে। এরপর বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কর্মীদের বিএমইটি ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি নিজস্ব লাইসেন্সের অধীনে তাদের নির্বাচিত কর্মীদের বিএমইটি ছাড়পত্র নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রসেসিং অথবা সার্ভিস এজেন্সিগুলো প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার কথাও জানানো হয়। তবে কর্মীপ্রতি অভিবাসন ব্যয় কত হবে এবং কারা বিনা খরচে যাওয়ার সুযোগ পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।  মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগের নির্ধারিত ব্যয় সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। তাদের দাবি, প্রায় ৭৯ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হলেও একটি এজেন্সির প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভের সুযোগ ছিল। এরপরও কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ঠেকানো যায়নি। এজেন্সি মালিকরা যেন কর্মীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা না নেয় এজন্য নতুন করে আরেকটি অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করার চিন্তা করছে মন্ত্রণালয়। ওইপি ব্যবস্থায় অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর আমার দেশকে বলেন, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য দ্রুত বাস্তবসম্মত অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের (ওইপি) মাধ্যমে পুরো অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা উচিত। তার মতে, মূল এজেন্সি ও সাব-এজেন্সির সার্ভিস চার্জসহ কোন খাতে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। প্রয়োজনে পরীক্ষামূলকভাবে ওইপি সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা যেতে পারে। এখনই যারা পাসপোর্ট সংগ্রহ করছেন, তাদের কার্যক্রমও খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন তিনি। পাসপোর্ট জমা দেওয়া কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে কত টাকা দাবি করা হচ্ছে, তা যাচাই এবং প্রয়োজনে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে অভিযান চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই বিশেষজ্ঞ। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, আগের নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় বাস্তবসম্মত ছিল না এবং এটা কেউ মানেনি। সরকারি সংস্থা বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর খরচ আনুমানিক এক লাখ ৫৫ হাজার থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা হতে পারে। তবে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর ব্যয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ করে নির্ধারণ করা হবে। আগেও বেড়েছিল ব্যয় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ২০০৮ সালে বন্ধ হওয়ার আট বছর পর ২০১৬ সালে আবার চালু হয়। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় দেশটি। ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নতুন সমঝোতা চুক্তির পর ২০২২ সালে আবার কর্মী পাঠানো শুরু হয়। তবে ২০২৪ সালের ১ জুন ফের বন্ধ হয়ে যায় শ্রমবাজারটি। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করা হয়। সে সময় সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় ছিল ৩৩ হাজার ৩৭৫ টাকা। কিন্তু কর্মীদের কাছ থেকে নেওয়া হতো দুই থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালে শ্রমবাজার চালুর পর প্রথমে ২৫টি এবং পরে ১০১টি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে তখনও কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কয়েক লাখ টাকায় পৌঁছায়।

News অক্টোবর ২৯, ২০২৬ 0
হাসিনার পালানোর ভিডিও ধারণ নিয়ে আলোচনায় আসা সাবেক লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার
হাসিনার পালানোর ভিডিও ধারণ নিয়ে আলোচনায় আসা সাবেক লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার

  রাজধানীর তুরাগ নদী থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির (তাওসিফ সৌরি) মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে রাজধানীর উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী সংলগ্ন তুরাগ নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে উত্তরখান থানার ওসি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান এশিয়া পোস্টকে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, টঙ্গী নৌ পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেছে, আমরা তাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি মরদেহটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির। সাবেক এই কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তিনি আরও বলেন, তাহসিফ সপরিবার উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। গত মঙ্গলবার তিনি নিখোঁজ হন। তার বাবার নাম কে এম এনায়েত হেলাল। এদিকে নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। তার বয়স আনুমানিক ২৮ বছর। পরনে ছিল সাদা পায়জামা ও কালো জামা। হাতে ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। মুখে হালকা দাড়ি ছিল। পকেটে পাওয়া আইফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরি। তার বাসা রাজধানীর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে। এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিমানবাহিনীর দুই কর্মকর্তা আলোচনায় আসেন। তাদের একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফী। তিনি বিমানবাহিনীর কুর্মিটোলা এয়ারবেইসের অফিসার্স মেসের একটি কক্ষের জানালা থেকে দৃশ্যটি ধারণ করেছিলেন বলে জানা গেছে। অন্যজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরি, যিনি ভিডিওটি ফেসবুকে নিজের টাইমলাইন থেকে প্রকাশ করেছিলেন। এ ঘটনায় দুজনকেই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। রিফাত আশরাফী বিমানবাহিনীর প্রশাসন শাখার কর্মকর্তা ছিলেন বলেও জানা গেছে। জানা গেছে, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্যটি একটি নির্দিষ্ট অ্যাঙ্গেল থেকে ধারণ করা হয়েছিল। ভিডিওটির সূত্র ধরে বিমানবাহিনীর এয়ার ইন্টেলিজেন্স তদন্ত শুরু করে। তদন্তে ভিডিও ধারণের অ্যাঙ্গেল, অবস্থান ও ক্যামেরা ঘোরানোর ধরন বিশ্লেষণ করে কোন কক্ষ থেকে এবং কে দৃশ্যটি ধারণ করেছিলেন, তা শনাক্ত হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত আশরাফী তার অফিসকক্ষের জানালা থেকে ছবিটি তোলার কথা স্বীকার করেন। তাহসিফ সাউরিও পোস্ট দেওয়ার কথা জানান।

News অক্টোবর ২৯, ২০২৬ 0
রাঙামাটিতে জাল উত্তরাধিকার সনদে ক্ষতিপূরণ দাবি, আটক সুমন
রাঙামাটিতে জাল উত্তরাধিকার সনদে ক্ষতিপূরণ দাবি, আটক সুমন

  মোঃ কামরুল ইসলাম,রাঙামাটি প্রতিনিধি: রাঙামাটিতে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে জাল উত্তরাধিকার সনদ দাখিল ও প্রকৃত ওয়ারিশদের তথ্য গোপন করে অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে সুমন তঞ্চঙ্গা নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা।   এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সুমন তঞ্চঙ্গা, পিতা তপন তঞ্চঙ্গা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়ার জন্য একটি আবেদন করেন। আবেদনে তিনি তার চাচা মৃত সুভাষ তঞ্চঙ্গার ওয়ারিশ হিসেবে নিজেকে দাবি করেন। এ সময় প্রকৃত ওয়ারিশদের নাম আড়াল করে একটি জাল উত্তরাধিকার সনদ দাখিল করেন বলে অভিযোগ ওঠে।আবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে ভূমি   অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সৈয়দ আবু হুরায়রা আদর দাখিল করা উত্তরাধিকার সনদটি জাল বলে শনাক্ত করেন। এতে জাল সনদ ব্যবহার করে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের চেষ্টা এবং মিথ্যা তথ্য সরবরাহের বিষয়টি সামনে আসে।জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৪(১)(চ) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।   এর পরিপ্রেক্ষিতে নিয়মিত মামলা দায়েরের উদ্দেশ্যে তাকে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বিতরণে প্রকৃত ওয়ারিশদের অধিকার সুরক্ষা এবং জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অপচেষ্টা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই-বাছাইয়ের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে এ ঘটনায়।

News অক্টোবর ২৯, ২০২৬ 0
বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকিতে শাহজালাল বিমানবন্দর
বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকিতে শাহজালাল বিমানবন্দর

  দেশের প্রধান আকাশপথ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যেখানে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা দেশি-বিদেশি বহু ফ্লাইট উঠা-নামা করে। তাতে লাখ লাখ মানুষ আসা-যাওয়া করে। কিন্তু বিমানবন্দরটির সংরক্ষিত এয়ারসাইডে বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছে। রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও অ্যাপ্রোন এলাকায় অবাধে চলছে শত শত যানবাহন। যার কোনো ট্র্যাকিং নেই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে।  অনিয়ন্ত্রিত এমন যান চলাচলে স্পর্শকাতর এলাকায় গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বিমানবন্দরের যাত্রী নিরাপত্তায়। তবুও বাধ্যতামূলক ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) স্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ নেই। এয়ারলাইন্সগুলো বেবিচকের তাগিদ ও আলটিমেটাম আমলে না নেওয়ায় সংকট আরও বাড়ছে। থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধনে গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির মিটিংয়েও বিষয়টি উঠে আসে বলে জানা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এয়ারসাইডে নজরদারির বাইরে এসব যান চলাচলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। হুমকিতে পড়তে পারে উড়োজাহাজের নিরাপদ চলাচল ও যাত্রীদের জীবন। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এয়ারসাইড এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোন যান কোথায় যাচ্ছে, কত গতিতে চলছে এবং অনুমোদিত এলাকায় রয়েছে কি না- এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা জরুরি। রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় একটি যানবাহনের ভুল চলাচলও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বেবিচকের নির্দেশনা বাস্তবায়নে এয়ারলাইন্সগুলোর গড়িমসি নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। দ্রুত সব যানবাহনকে কেন্দ্রীয় নজরদারির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত তদারকি ও নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বেবিচক সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম যুগান্তরকে বলেন, ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) স্থাপনের জন্য এয়ারলাইন্সগুলোকে অনেকবার সময় দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে একাধিকবার তাগাদাও দেওয়া হয়েছে। এবার আর ছাড় দেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভিটিএস যুক্ত না করলে যানবাহন প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, বিশ্বের আধুনিক বিমানবন্দরগুলোয় এ ধরনের প্রযুক্তি বহু বছর ধরেই ব্যবহার হচ্ছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিটিএস চালু হলে এয়ারসাইড এলাকায় চলাচলকারী সব অনুমোদিত যানবাহনকে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে ভিটিএস না থাকায় যেসব গাড়ি এয়ারসাইডে চলাচল করছে, সেগুলোর গতিবিধি কার্যকরভাবে মনিটরিং করা যাচ্ছে না। তিনি জানান, কোন এয়ারলাইন্স কতটি গাড়িতে ভিটিএস স্থাপন করেছে এবং কতটি বাকি রয়েছে, কোম্পানিগুলোর কাছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। তথ্য পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার, এয়ার এস্ট্রা, স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইন্সসহ বিমানবন্দরে অপারেশন পরিচালনাকারী বিভিন্ন দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্স ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার প্রধানদের বারবার নির্দেশনা দিলেও সেটি তারা মানছে না। জানা যায়, অ্যাপ্রোন এলাকায় উড়োজাহাজ ও অন্যান্য যানবাহনের গতিবিধি নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ এবং দুর্ঘটনা এড়াতে সদ্য স্থাপিত সিএনএস-এটিএম ও এ-এসএমজিসিএস প্রযুক্তির আওতায় ভিটিএস স্থাপন বাধ্যতামূলক করে বেবিচক। চলতি বছরের ১৫ জুনের মধ্যে সব যানবাহনে ভিটিএস বসিয়ে তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও তারা গড়িমসি করে। পরে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বারবার নির্ধারিত সময় পার হলেও এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেনি। বরং প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতেই অনীহা দেখাচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বেবিচকের এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে ২৬ অক্টোবর আরেকটি ‘অতিব জরুরি’ চিঠি ইস্যু করা হয়। যুগান্তরের হাতে আসা সেই চিঠির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পরিচালক মো. শামসুল হকের সই করা জরুরি চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ২৭ অক্টোবরের (মঙ্গলবার) মধ্যে শতভাগ গাড়িতে ভিটিএস সংযোজন সম্পন্ন করে তালিকা জমা দিতে হবে। সেই সময়সীমাও শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু কোনো উড়োজাহাজ কোম্পানি ভিটিএসযুক্ত তাদের যানবাহনের তালিকা দেয়নি। এমন বাস্তবতায় ৭ ডিসেম্বরের পর ভিটিএস ছাড়া কোনো যানবাহন এয়ারসাইডে চলাচলের অনুমতি পাবে না বলে থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধনসংক্রান্ত স্টিয়ারিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এবার নির্ধারিত তারিখের মধ্যে ভিটিএস স্থাপন না করলে এয়ারসাইডে যানবাহন চলাচলজনিত কোনো দুর্ঘটনা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে এর একক দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে। বেবিচকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ট্র্যাকার স্থাপন করা হলে রাডারব্যবস্থার মাধ্যমে পৃথকভাবে প্রতিটি যানবাহনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যাবে। কোনো গাড়ি বিপজ্জনক এলাকায় অবস্থান করলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক করা সম্ভব হবে। এতে আধুনিক নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করা যাবে এবং বিমান ওঠানামার নিরাপত্তা আরও জোরালো হবে। কিন্তু এয়ারলাইন্সগুলো নিজেরাই নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও ভিটিএস স্থাপন না করার বিষয়ে জানতে চাইলে এয়ার অ্যাস্ট্রার হেড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড এয়ারলাইন সিকিউরিটি গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) এবিএম সারওয়ার জামান যুগান্তরকে বলেন, ভিটিএস বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এ কারণে কিছুটা সময় লাগছে। আশা করছি, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর আগেই আমরা ভিটিএস স্থাপন করতে পারব। অপরদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বলছে, কার্যক্রম চলমান। খুব শিগ্গিরই তারা তালিকা বেবিচকে জমা দিয়ে দেবে। অতীতেও ঘটেছে একাধিক দুর্ঘটনা : ভিটিএস না থাকায় অতীতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে। গত বছরের নভেম্বরে শাহজালালে একটি পুশকার্টের ধাক্কায় এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং উড়োজাহাজের নোজ হুইল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ফ্লাইটটি বাতিল করতে হয়। এর আগে ২০২২ সালে বিমানের হ্যাঙ্গারে একটি বোয়িং-৭৩৭ বের করার সময় অবস্থানরত আরেকটি বোয়িং-৭৭৭ উড়োজাহাজকে ধাক্কা দেয়। একই বছর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ট্রলি বিমানের একটি উড়োজাহাজে আঘাত হানে। প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং না থাকায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রযুক্তি তৈরি, কিন্তু প্রয়োগ নেই : বেবিচক সূত্র জানায়, শাহজালাল বিমানবন্দরে অ্যাডভান্সড সারফেস মুভমেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (এএসএমজিসিএস) এবং ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। কন্ট্রোল টাওয়ারে প্রতিটি গাড়ির গতি, অবস্থান ও রুট রিয়েল-টাইমে দৃশ্যমান করার সব ব্যবস্থা আছে। কিন্তু উড়োজাহাজগুলোর গ্রাউন্ড সাপোর্ট যান, ক্যাটারিং ও কার্গো ভ্যানগুলোয় পৃথক ট্র্যাকার না বসানোয় এ প্রযুক্তির পূর্ণ সুবিধা নেওয়া যাচ্ছে না। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারে কর্মরত নিয়ন্ত্রকরা রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে, অ্যাপ্রোন ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত কিংবা চলাচলরত বিমান ও অন্যান্য যান্ত্রিক যান শনাক্ত করতে পারে। যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে প্রয়োজনীয় শনাক্তকরণ প্রযুক্তি নির্মাণের সময় থেকেই সংযোজিত থাকে। তবে গাড়ি, বাস বা অন্য সেবা যান শনাক্ত করতে সেগুলোর গায়ে বিশেষ ভেহিকেল ট্র্যাকার স্থাপন করতে হয়। ইতোমধ্যে শতাধিক ভেহিকেল ট্র্যাকার ও সংশ্লিষ্ট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন বিমানবন্দরের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা।

News অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0
নিজ কার্যালয়ে আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর, ড্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ
নিজ কার্যালয়ে আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর, ড্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ

  রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে তার নিজ কার্যালয়ে ঢুকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে আইইডিসিআর পরিচালকের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি অভিযোগ করেন, ড্যাবের কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে তার কক্ষে ঢুকে মব সৃষ্টি করে তাকে মারধর করেছেন। ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নিজের কক্ষে কয়েকজনের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন আইইডিসিআর পরিচালক। এ সময় আট থেকে নয়জন ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তারা কাজী আহমেদকে চেয়ার থেকে টেনে তুলে মারধর শুরু করেন। এদিকে, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ। তবে পরিচালকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে হারুন আল রশিদ বলেন, ‘ওর (কাজী আহমেদ) ও তো কিছু দোষ আছে।’ কী ধরনের দোষ জানতে চাইলে মুঠোফোনে থাকা একটি ছবি দেখিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, বর্তমান সরকারের আমলে কাজী আহমেদ কীভাবে জনস্বাস্থ্যবিদ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে নিজের কার্যালয়ে বৈঠক করেন। মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইইডিসিআরের পরিচালকসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। করোনা মহামারির সময় নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে তিনি পরিচিতি পান। পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন। হামলার সময় পরিচালকের কক্ষে উপস্থিত এক জনস্বাস্থ্যবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের তিনি আগে কখনো আইইডিসিআরে দেখেননি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে তার নিজ কক্ষে মারধরের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। প্রসঙ্গত, আইইডিসিআর দেশের রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সংক্রামক রোগ নিয়ে গবেষণা এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সতর্কবার্তা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনসহ (সিডিসি) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সম্প্রতি তিনি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়েও গবেষণা করেছেন।

News অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0
গুলিস্তান-সদরঘাট সড়কে হকারমুক্ত রাখার ঘোষণা, দোকান বসালেই গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি
গুলিস্তান-সদরঘাট সড়কে হকারমুক্ত রাখার ঘোষণা, দোকান বসালেই গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি

  রাজধানীর গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক সম্পূর্ণ হকারমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত স্থানের বাইরে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে দোকান বসালে মালামাল জব্দের পাশাপাশি প্রয়োজনে গ্রেপ্তার করা হবে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর গুলিস্তানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, হকারদের ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট কিছু ফুটপাত, নৈশকালীন মার্কেট ও হলিডে মার্কেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এসব নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও দোকান বসানো যাবে না। বিশেষ করে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত পুরো সড়ক দখলমুক্ত রাখা হবে। মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। উচ্ছেদের পর আবারও ফুটপাত দখলের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবদুস সালাম বলেন, হকারদের বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হয়েছে। তাঁদের সংগঠনের নেতাদের সঙ্গেও একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। এরপরও উচ্ছেদ করা জায়গায় নতুন করে দোকান বসানো হচ্ছে। তাই এখন কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, নির্দেশনা অমান্য করে রাস্তা বা ফুটপাত দখল করলে মালামাল জব্দ করা হবে। প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চলবে। এর আগে বুধবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত গুলিস্তানের ঢাকা ট্রেড সেন্টার ও ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেটসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় ডিএসসিসি। এ সময় ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে পে-লোডারসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে অবৈধ অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি ফুটপাত দখল করে রাখা বিভিন্ন মালামাল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে সংস্থাটির চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, শতাধিক উচ্ছেদকর্মী ও ছয় প্লাটুন পুলিশ অংশ নেন। অভিযান পরিচালনা করেন ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জোনায়েদ কবীর সোহাগ, সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাছিবা খান এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম। পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি।

News অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0
ঝিকরগাছায় জমির বিরোধে হামলায় এক যুবক নিহত আহত ৩।
ঝিকরগাছায় জমির বিরোধে হামলায় এক যুবক নিহত আহত ৩।

  যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলায় আশিকুজ্জামান (২৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা ও ভাইসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে উপজেলার সোনাকুড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আশিকুজ্জামান ওই গ্রামের আছিরউদ্দিনের ছেলে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে মঙ্গলবার রাতে সোনাকুড় গ্রামের নজরুল (৫০), ফজলুর রহমান (৪৫), মনিরুজ্জামান (৩৫) ও আরিফুজ্জামান (৩১) প্রতিপক্ষের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে আশিকুজ্জামান, তাঁর ভাই আশরাফুজ্জামান (৫০) ও বাবা আছিরউদ্দিন (৭০) আহত হন। পরে স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ১টা ২০ মিনিটে চিকিৎসক আশিকুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আশরাফুজ্জামান ও আছিরউদ্দিন যশোর জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে, একই ঘটনায় অভিযুক্ত পক্ষের ফজলুর রহমানও আহত হয়েছেন। তাঁকেও যশোর জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত আশিকুজ্জামানের মরদেহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রেরক, আঃজলিল  স্টাফ রিপোর্টার

News অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0
যশোরের শার্শায় বাবার মৃত্যুর ১৫ মিনিট আগে এক পুত্রসন্তান জন্ম।
যশোরের শার্শায় বাবার মৃত্যুর ১৫ মিনিট আগে এক পুত্রসন্তান জন্ম।

  আঃজলিল,স্টাফ রিপোর্টারঃ---- যে ঘরে নতুন প্রাণের আগমনে আনন্দধ্বনি ওঠার কথা, সেই ঘরটিই আজ শোকে স্তব্ধ। যে বাবা সন্তানের মুখ দেখে বুকে জড়িয়ে ধরার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তিনি পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। বাবার মৃত্যুর মাত্র ১৫ মিনিট আগে পৃথিবীর আলো দেখা নবজাতক ও স্বজন হারানোর এই নির্মম পরিহাসে শোকে মুহ্যমান একটি পরিবার। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশি ইউনিয়নের কন্যাদাহ গ্রামে। নিহত হাবিবুর রহমান (২৫) ওই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে এবং তাঁর স্ত্রী মিম খাতুন (১৭) পার্শ্ববর্তী সেতাই গ্রামের ফারুক হোসেনের মেয়ে। হাবিবুর বেনাপোল বন্দরে শ্রমিকের কাজ করতেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর তীব্র জ্বর ও শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাবিবুর বাগআঁচড়ার একটি স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে প্রথমে যশোর জেনারেল হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। রাজধানীর মগবাজারের রাজমনু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। এদিকে স্বামীর সুস্থ হয়ে ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মিম প্রসববেদনায় কাতর হয়ে তখন ভর্তি ছিলেন বাগআঁচড়া নার্সিং হোম ক্লিনিকে। স্বামীর মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর ঠিক ১৫ মিনিট আগে তিনি এক পুত্রসন্তান জন্ম দেন। একদিকে মায়ের কোলে নবজাতকের প্রথম কান্না, অন্যদিকে স্বজনদের চোখে প্রিয় মানুষকে হারানোর অশ্রু। যে সন্তানের জন্মসংবাদ শুনে বাবার মুখে হাসি ফোটার কথা, সেই সন্তান জন্মের মুহূর্তেই হারাল পিতৃস্নেহ। প্রসূতির শারীরিক অবস্থা ও মানসিক আঘাতের কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়নি। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই সংবাদটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে হাবিবুরের বাবা হযরত আলীসহ স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। শোকের এমন কঠিন বাস্তবতায় দিশেহারা পুরো পরিবার। ছেলেকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়া বাবা হযরত আলী বলেন, “আমার বুকজুড়ে আজ শুধু শূন্যতা। একদিকে আমার আদরের ছেলেটা চলে গেল, অন্যদিকে ঘরে এল নতুন প্রাণ। কোনটাকে কীভাবে মেনে নেব, বুঝতে পারছি না। আমার এতিম নাতিটার দিকে তাকালেই বুক ফেটে কান্না আসে।” যে শিশুর জন্ম ঘিরে থাকার কথা ছিল বাবার উচ্ছ্বাস ও আত্মীয়স্বজনের আনন্দ, সেই শিশুকে এখন সামলাতে হবে স্বামী হারানোর শোক আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। হাবিবুরের আকস্মিক মৃত্যু ও এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্থানীয়রা শোকাহত পরিবারটির প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং নবজাতকটির সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য দোয়া করেছেন। পরে সোমবার সকাল ১১টায় জানাজা শেষে নিহত হাবিবুর রহমানকে স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। প্রেরক, আঃজলিল  স্টাফ রিপোর্টার

News অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সম্ভাবনার নতুন শ্রমবাজার সার্বিয়া

মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক  

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

Top week

ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা
অর্থনীতি

ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা

News অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0