স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিতকরণ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার আদায়ের প্রত্যয়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। রাজধানীর তথ্য ভবনের তৃতীয় তলায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠান দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাংবাদিক, সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন এমপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবীবুর রহমান হাবীব এবং রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মজিবুল হক মজু।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, অধিকার, মর্যাদা, কল্যাণ এবং স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে বর্তমানে গণমাধ্যম সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে। বর্তমান সরকারের শাসনামলে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে এর আগে গণমাধ্যম কখনো এতটা স্বাধীনতা ভোগ করেনি।
তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে যেন অপসাংবাদিকতা, মিথ্যা সংবাদ কিংবা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের সংস্কৃতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভুয়া নিউজ পোর্টাল ব্যবহার করে অপপ্রচার ও চাঁদাবাজির বিষয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পেশাদার সাংবাদিকদের স্বার্থেই এ ধরনের অপসংস্কৃতি রোধ করা প্রয়োজন।
রাজনীতি ও সাংবাদিকতার সম্পর্ক প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির মূল কাজ জনগণের সেবা করা। আর সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। তবে বিগত সময়ে যারা সাংবাদিকতার আড়ালে ফ্যাসিবাদের দালালি করেছে এবং গুম-খুন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের সহযোগী হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব ক্ষেত্রে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও সুস্থ ডিজিটাল মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে তথ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংবাদপত্রের মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ভবিষ্যতেও এ আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন এমপি সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণে ফাউন্ডেশনের মহতী উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি হাবীবুর রহমান হাবীব বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা। রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের উচিত সাংবাদিকদের সম্মান করা এবং তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতাকে আধুনিক শ্রম ও শিল্প আইনের আওতায় এনে পেশাটিকে একটি শক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনকে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল মৃত সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া। একই সঙ্গে অসহায় ও অসুস্থ সাংবাদিকদের মধ্যেও আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
বক্তারা বলেন, একজন সাংবাদিকের মৃত্যুর পর তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো পুরো সাংবাদিক সমাজের মানবিক দায়িত্ব। সাংবাদিকদের পরিবারকে সহযোগিতা এবং অসহায় ও অসুস্থ সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা বিভিন্ন সময় হামলা, হয়রানি, মামলা ও নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েন। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের জন্য জরুরি সহায়তা তহবিল গঠন এবং আইনি সহায়তার পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন।
একই সঙ্গে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা বাধা ছাড়াই সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা কমিটি অনুমোদন করা হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকতা, সমাজসেবা, মানবিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য আমন্ত্রিত অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব তালুকদার রুমি।
এ সময় সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডেইলি প্রেজেন্ট টাইমস-এর প্রধান সম্পাদক মো. ওমর ফারুক জালাল, দৈনিক ফলাফল-এর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, দুর্নীতি প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম হিরু, দৈনিক বঙ্গ সংবাদ -এর সম্পাদক ও প্রকাশক ডা. মির্জা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান তোফায়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মিরাজ হোসেন, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক, দৈনিক মুক্তির লড়াই পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান রনি, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, দৈনিক নবজীবন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক নুরুন্নাহার, মারিয়া ইসলাম, সারহিন আক্তার, দীপা আক্তার এবং কাজী রোকেয়া আক্তার কেয়া উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত জেলা কমিটি থানা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাব্বির আহম্মেদ রনি, আরজেএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, বিএনএন নিউজের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল বর্ণাঢ্য র্যাালি, কেক কাটা, আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান, মৃত সাংবাদিকদের পরিবারের মধ্যে চেক বিতরণ এবং অসহায় ও অসুস্থ সাংবাদিকদের আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান।
অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য সকাল, দুপুর ও বিকেলের খাবারের ব্যবস্থাও ছিল। বিভিন্ন পর্বে সাংবাদিকদের কল্যাণে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের অধিকার, পেশাগত নিরাপত্তা ও কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় নিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিগত পাঁচ বছর ধরে সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণে ফাউন্ডেশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং জীবনমান উন্নয়নে ফাউন্ডেশন আরও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিতকরণ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার আদায়ের প্রত্যয়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। রাজধানীর তথ্য ভবনের তৃতীয় তলায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠান দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাংবাদিক, সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। বুধবার (১৯ আগস্ট) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন এমপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবীবুর রহমান হাবীব এবং রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মজিবুল হক মজু। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, অধিকার, মর্যাদা, কল্যাণ এবং স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে বর্তমানে গণমাধ্যম সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে। বর্তমান সরকারের শাসনামলে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে এর আগে গণমাধ্যম কখনো এতটা স্বাধীনতা ভোগ করেনি। তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে যেন অপসাংবাদিকতা, মিথ্যা সংবাদ কিংবা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের সংস্কৃতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভুয়া নিউজ পোর্টাল ব্যবহার করে অপপ্রচার ও চাঁদাবাজির বিষয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পেশাদার সাংবাদিকদের স্বার্থেই এ ধরনের অপসংস্কৃতি রোধ করা প্রয়োজন। রাজনীতি ও সাংবাদিকতার সম্পর্ক প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির মূল কাজ জনগণের সেবা করা। আর সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। তবে বিগত সময়ে যারা সাংবাদিকতার আড়ালে ফ্যাসিবাদের দালালি করেছে এবং গুম-খুন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের সহযোগী হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব ক্ষেত্রে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও সুস্থ ডিজিটাল মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে তথ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংবাদপত্রের মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ভবিষ্যতেও এ আলোচনা অব্যাহত থাকবে। প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন এমপি সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণে ফাউন্ডেশনের মহতী উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ অতিথি হাবীবুর রহমান হাবীব বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা। রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের উচিত সাংবাদিকদের সম্মান করা এবং তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতাকে আধুনিক শ্রম ও শিল্প আইনের আওতায় এনে পেশাটিকে একটি শক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনকে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল মৃত সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া। একই সঙ্গে অসহায় ও অসুস্থ সাংবাদিকদের মধ্যেও আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়। বক্তারা বলেন, একজন সাংবাদিকের মৃত্যুর পর তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো পুরো সাংবাদিক সমাজের মানবিক দায়িত্ব। সাংবাদিকদের পরিবারকে সহযোগিতা এবং অসহায় ও অসুস্থ সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা বিভিন্ন সময় হামলা, হয়রানি, মামলা ও নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েন। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের জন্য জরুরি সহায়তা তহবিল গঠন এবং আইনি সহায়তার পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা বাধা ছাড়াই সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা কমিটি অনুমোদন করা হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকতা, সমাজসেবা, মানবিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য আমন্ত্রিত অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব তালুকদার রুমি। এ সময় সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডেইলি প্রেজেন্ট টাইমস-এর প্রধান সম্পাদক মো. ওমর ফারুক জালাল, দৈনিক ফলাফল-এর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, দুর্নীতি প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম হিরু, দৈনিক বঙ্গ সংবাদ -এর সম্পাদক ও প্রকাশক ডা. মির্জা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান তোফায়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মিরাজ হোসেন, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক, দৈনিক মুক্তির লড়াই পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান রনি, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, দৈনিক নবজীবন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক নুরুন্নাহার, মারিয়া ইসলাম, সারহিন আক্তার, দীপা আক্তার এবং কাজী রোকেয়া আক্তার কেয়া উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত জেলা কমিটি থানা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাব্বির আহম্মেদ রনি, আরজেএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, বিএনএন নিউজের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল বর্ণাঢ্য র্যাালি, কেক কাটা, আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান, মৃত সাংবাদিকদের পরিবারের মধ্যে চেক বিতরণ এবং অসহায় ও অসুস্থ সাংবাদিকদের আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান। অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য সকাল, দুপুর ও বিকেলের খাবারের ব্যবস্থাও ছিল। বিভিন্ন পর্বে সাংবাদিকদের কল্যাণে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের অধিকার, পেশাগত নিরাপত্তা ও কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় নিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিগত পাঁচ বছর ধরে সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণে ফাউন্ডেশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং জীবনমান উন্নয়নে ফাউন্ডেশন আরও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।