Politics

পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতার চিত্র।
শফিকুর রহমানের আহ্বান: পোশাকশিল্পের অস্থিরতা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিক সরকার

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান পোশাকশিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র রোধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সোমবারের একটি ফেসবুক পোস্টে এই মতামত প্রকাশ করেন।শফিকুর রহমান মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পোশাকশিল্পে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে।তিনি বলেন, কোনো মালিক বা শ্রমিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। শফিকুর রহমান মনে করেন, এই ধরনের ঘটনায় শ্রমিকরা জড়িত নন।তিনি অভিমত দিয়েছেন যে, ষড়যন্ত্রকারীরা পরিস্থিতি উসকে দিয়ে পোশাকশিল্প ধ্বংসের চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬০০টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।শীত মৌসুমের আগে পোশাকশিল্পের সম্ভাবনা নষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি মালিক-শ্রমিকসহ সব পক্ষকে আন্তরিক ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

Desk Reporter নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও তরুণ সমাজের সংঘাতের চিত্র।
বাংলাদেশের সংবিধান ও তরুণ সমাজের রাজনীতিতে সংঘাতের বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালে প্রণীত হয় এবং এটি মুক্তিযুদ্ধের ফলাফল। তবে, সংবিধান কার্যপ্রক্রিয়ার দিক থেকে জনগণকে ক্ষমতাহীন করে এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছে।গণপরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ১৯৭২ সালের সংবিধানকে পাকিস্তানের ১৯৬২ সালের সংবিধানের মতো প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে রচিত বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা বলেন, সংবিধানে এক হাতে অধিকার দেওয়া হয়েছে এবং অন্য হাতে তা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে কয়েকবার বিস্ফোরণ ঘটে এবং ২০২৩ সালের গণ-অভ্যুত্থান ঘটে। তরুণরা বহু বছর ধরে রাষ্ট্রকে প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখে এবং পুলিশ, রাজনীতিবিদ, আমলা ও জ্যেষ্ঠ জনগোষ্ঠী তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত।বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি গুলিবর্ষণ ও নিপীড়ন করে। এই পরিস্থিতিতে রাজনীতির প্রক্রিয়া মানুষের নালিশ শুনতে ব্যর্থ হলে বিস্ফোরণ ঘটে।সংবিধান সংস্কার কমিশন ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ, শক্তিশালী স্থানীয় সরকার, মৌলিক অধিকারের সম্প্রসারণ ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের সুপারিশ করেছে। তবে, সংস্কার না হলে তরুণদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সংঘাত বৃদ্ধি পাবে এবং দঙ্গলবাজির নিপীড়ক সংস্কৃতি শক্তিশালী হতে পারে।

Desk Reporter নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
জাহেদ উর রহমান সরকারের চ্যালেঞ্জ ও পদক্ষেপ নিয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন।
জাহেদ উর রহমানের মতামত: বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জ ও পদক্ষেপ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান একটি মতামত লিখেছেন যেখানে তিনি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জ, অর্থনৈতিক পদক্ষেপ, আইন-শৃঙ্খলা এবং আইন সংশোধন সম্পর্কে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন।লেখক ৫ আগস্টকে একটি উল্লেখযোগ্য তারিখ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান সরকার আট মাস ধরে ক্ষমতায় আছে। চলতি অর্থবছরে সরকার ৪১ লাখ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করার পরিকল্পনা রেখেছে। প্রতিটি পরিবারের জন্য মাসিক আড়াই হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।লেখক জানিয়েছেন, ভিজিএফ ও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে চালের বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হয়েছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং ভোলার গ্যাসক্ষেত্র দ্রুত কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে।সরকার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়াতে প্রণোদনা ও নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, একজন সংসদ সদস্য এবং একজন প্রতিমন্ত্রীকে অভিযোগের ভিত্তিতে পদত্যাগ করতে হয়েছে।লেখক অভিযোগ করেছেন, হাসিনা সরকারের আমলে পুলিশের সামরিকীকরণ ঘটেছিল। ৫ আগস্টের আগে মাজার, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিসে হামলা হয়েছিল। সরকার সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং অর্ধেকের বেশি ভোটারের সমর্থন পেয়েছে।তিনি স্বীকার করেছেন, রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও দখলদারির অভিযোগ উঠছে। তৃণমূল পর্যায়ে চাঁদাবাজি চিহ্নিত করার কাজ চলছে। নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে কিছু আইন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।লেখক দাবি করেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্ব-পরিস্থিতি এবং আওয়ামী শাসনামলের লুটপাটের কারণে সংকটে পড়েছে। হাসিনা সরকার দেশী জ্বালানি সম্পদ উন্নয়নে যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

Desk Reporter নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
পাবনা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পাবনায় বিএনপির মতবিনিময় সভায় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

পাবনা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির সাংগঠনিক ও স্থানীয় নির্বাচনের আগে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় নাহিদ ইসলাম সরকারের ব্যর্থতা ও ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে আলোচনা করেছেন।নাহিদ ইসলাম গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, সরকার সঠিক সময়ে পরিকল্পনা নিতে ব্যর্থ হলে আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।তিনি বলেন, ন্যায্য আন্দোলনকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে হারানো যাবে না। সরকারের দায়িত্ব হবে আন্দোলনে ফ্যাসিস্টদের involvement থাকলে।নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সারাদেশে ফ্যাসিস্টের নেতাকর্মী পড়ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু বর্তমানে বিএনপির কন্ট্রোলে রয়েছে।সভায় তিনি কর্মসূচি পালন করার কথা উল্লেখ করেন, যা সরকারি দলের নৈরাজ্য, ব্যর্থতা এবং গণবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে। জনগণকে রাজপথে নামার আহ্বান জানানো হয়েছে, কারণ রাজপথেই সরকারকে জবাব দিতে হবে।নাহিদ ইসলাম জানান, সরকারের ব্যর্থতার কারণে ডিসেম্বর মাসে কিছু ঘটলে তা আওয়ামী লীগের সমঝোতার কারণ হবে। এনসিপি রাজপথে থেকে প্রতিহত করবে বলে জানিয়েছে।মতবিনিময় সভায় আলী আহসান জুনায়েদ, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, ইমরান ইমন এবং মাহিন সরকার উপস্থিত ছিলেন।

Desk Reporter নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
জামায়াত-ই-ইসলামির নারী অংশগ্রহণ নিয়ে টিআইবির সমালোচনা।
জামায়াতের নারী অংশগ্রহণ নিয়ে টিআইবির সমালোচনা

টিআইবি (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) জামায়াত-ই-ইসলামির নারী অংশগ্রহণের দাবি সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এই দাবি সত্য লুকানোর চেষ্টা।আরপিও (রিপ্রেজেন্টেশন অব পিপলস অর্ডিন্যান্স) অনুযায়ী, প্রতিটি দলের প্রতিটি কমিটিতে নারী সদস্যের জন্য ৩৩ শতাংশের লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন। এই লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে পূরণ করতে হবে।জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ১৯ সদস্যের মধ্যে এখনো কোনো নারী সদস্য নেই। জামায়াতে প্রতিটি স্তরে পুরুষদের জন্য একটি কমিটি এবং নারী কর্মীদের জন্য আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিকে নারীদের জন্য আলাদা রাখা হয়নি।ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত-ই-ইসলামি থেকে কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন করা হয়নি। টিআইবি মনে করে, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গবেষণার সত্য অস্বীকার করে এবং দলের মূল রাজনৈতিক রূপটিকে আড়াল করার চেষ্টা করছে।

Desk Reporter নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
জামায়াতে ইসলামীতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) একটি গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী'র সাংগঠনিক বিধিতে ২০৩০ সালের মধ্যে কমিটিতে অন্তত ৩৩% নারী সদস্যপদ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।তবে, ২০২৩-২০২৫ সময়কালে টিআইবির ডেটা অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী'র কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে ১৯ সদস্যের মধ্যে কোনো নারী সদস্য নেই।গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় কাজপরিষদে ২১ নারী সদস্য এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে ১২২ নারী সদস্য রয়েছেন। দলটির সদস্যদের মধ্যে প্রায় ৪৩% নারী রয়েছে।তবে, জামায়াতে ইসলামী কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী মনোনয়ন করেনি, বিশেষ করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে।গবেষণাটি আরও জানায়, জামায়াতে ইসলামীতে নারীদের জন্য স্বতন্ত্র কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কেন্দ্রীয় পরিষদে নারীদের উপস্থিতি নেই।টিআইবি'র সেক্রেটারি জেনারেল জামায়াতে ইসলামী'র বিবৃতিকে ভুল ও ভিন্নমূলক বলে দাবি করেছেন।

Desk Reporter নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
নয়াদিল্লিতে বিরোধী দলের সমাবেশের দৃশ্য।
নয়াদিল্লিতে বিরোধী দলের সমাবেশ, নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি

বিরোধী দলের জোট 'ইন্ডিয়া' রোববার রাজধানী নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে একটি মহাসমাবেশ আয়োজন করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশের জন্য বিরোধী নেতারা সকাল ১০টায় কনট প্লেসের মিন্টো রোড জংশনে জমা হয়ে খোলা জিপে রামলীলা ময়দানের দিকে যাত্রা শুরু করেন। নেতাদের পৌঁছানোর আগেই হাজার হাজার আন্দোলনকারী ময়দানে জমা হয়ে পুরো এলাকা ও বাইরের রাজপথ মানবসমূহে পূর্ণ হয়ে যায়।সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলের তেজস্বী যাদব।বিরোধীদের প্রধান দাবি ছিল বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল করা এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত সংশোধনী আইন প্রত্যাহার করা। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে বিভিন্ন নির্বাচনে ইভিএম ও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে ভোট চুরি করা হয়েছে।তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমার স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন না করে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছেন। মল্লিকার্জুন খাড়গে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কারিগরি কারচুপি ও বিপুল ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিমবঙ্গ হয়েছে এবং রাজ্যে এক কোটির বেশি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।বিরোধী দলগুলোর মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, ভুলবশত যাদের নাম বাদ পড়েছে তারা পুনরায় নিবন্ধন করতে পারবেন।

Desk Reporter নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের একটি চিত্র।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন আগামীকাল, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ, মোট ৩৫টি আসন প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের ২১৮টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি আসন রয়েছে। সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি আসন রয়েছে।ডেমোক্র্যাটদের বর্তমান আসনগুলো বজায় রাখতে হবে এবং নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে চারটি অতিরিক্ত আসন জিততে হবে।হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য ক্ষতির পরও নির্বাহী ক্ষমতার মাধ্যমে তাদের এজেন্ডা এগিয়ে নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রস্তুতি এপ্রিল থেকে চলমান রয়েছে।হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহায়তার উপর কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।নির্বাহী পদক্ষেপগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আমদানির উপর নতুন শুল্ক আরোপ এবং উইন্ড টারবাইন উৎপাদনের বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।বিদেশি ছাত্র এবং অস্থায়ী কর্মীদের জন্য ভিসার শর্তাবলী পরিবর্তনের বিষয়েও বিবেচনা করা হতে পারে।ডেমোক্র্যাটরা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, তবে তারা ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতার ব্যবহারের তদন্ত করতে পারবে।

Desk Reporter নভেম্বর ৩, ২০২৬ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সম্ভাবনার নতুন শ্রমবাজার সার্বিয়া

মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক  

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

Top week

ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা
অর্থনীতি

ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা

News অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0