স্বাস্থ্য

ঋতু পরিবর্তনের সময় মধুর উপকারিতা ও সতর্কতা সম্পর্কিত তথ্য।
ঋতু পরিবর্তনে মধুর উপকারিতা ও সতর্কতা

০৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি স্বাস্থ্য ফিচার নিবন্ধে ঋতু পরিবর্তনের সময় মধুর ব্যবহার, উপকারিতা এবং সতর্কতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।ঋতু পরিবর্তনের সময় তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার পরিবর্তন ঘটে। গরম থেকে শীতের সময় সর্দি, কাশি, গলাব্যথা এবং শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। এই সময় খাদ্যাভ্যাসের দিকে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।মধু একটি পরিচিত প্রাকৃতিক খাবার, যা খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। এটি কেবল মিষ্টির বিকল্প নয়, এর মধ্যে বিভিন্ন প্রাকৃতিক শর্করা, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং উদ্ভিজ্জ উপাদান রয়েছে। তবে, মধু কোনো রোগের ওষুধ নয়।মধু খেলে সাময়িক ক্লান্তি বা শক্তির ঘাটতি অনুভব করলে কিছুটা শক্তি পাওয়া যেতে পারে। শীতকালে অনেকেই গরম পানীয়ের সাথে মধু খেতে পছন্দ করেন। মধুর ঘনত্ব গলার ভেতরে একটি আবরণ তৈরি করে, যা কাশির অস্বস্তি কিছুটা কমাতে সাহায্য করে।তবে, মধু খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতি বজায় রাখা জরুরি। এক বছরের কম বয়সী শিশুকে কোনো অবস্থাতেই মধু দেওয়া যাবে না, কারণ এতে খাদ্যবাহিত অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও মধু খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।ঋতু পরিবর্তনের সময় সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার, ফলমূল, শাকসবজি ও পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। মধু এসবের পাশাপাশি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।

Desk Reporter নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক কারাবন্দির মৃত্যু হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক কারাবন্দির মৃত্যু

একটি কারাবন্দি, জাকির হোসেন (৫০ বছর), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার সময় মারা গেছেন। তিনি আজ মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।জানা গেছে, বিকেল ৪টায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্ধ্যা ৫:৪৫টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কারারক্ষী আতিয়ার শেখ জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।জাকির হোসেন কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতি হিসেবে আটক ছিলেন। তাঁর বাসা রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায়। কারারক্ষী জানিয়েছেন, তিনি কোন মামলায় কারাগারে ছিলেন তা জানতে পারেননি।ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।গত দুই মাসে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্তত ২৬ কারাবন্দির মৃত্যু হয়েছে। অক্টোবরে ১০ জন এবং সেপ্টেম্বর মাসে ১৬ জন কারাবন্দি মারা গেছেন।

Desk Reporter নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
খুলনার দিঘলিয়ায় বিস্ফোরণের ঘটনায় জামায়াত সভাপতি আহত হয়েছেন।
খুলনার দিঘলিয়ায় বিস্ফোরণ, জামায়াত সভাপতি আহত

খুলনার দিঘলিয়ায় মঙ্গলবার ভোরে একটি মুড়ির প্যাকেট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে জামায়াত সভাপতি এম এম মনিরুল ইসলাম (৬৩) আহত হন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে পৌনে ছয়টার দিকে ফজর নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে ফেরার সময় তিনি বাড়ির দরজার সামনে একটি পলিথিনের প্যাকেটে মুড়ি দেখতে পান। প্যাকেটটি কেউ ভুলে রেখে গেছে মনে করে তিনি সেটি ঘরের ভিতরে নিয়ে আসেন এবং মেজের ওপর রাখেন।প্যাকেটটি মেজে রাখার সাথে সাথে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ জ্বলে যায় এবং ঘরের আসবাবপত্রও আগুন ধরে যায়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণ করে তাকে উদ্ধার করে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।দিঘলিয়া থানার ওসি অরুপ কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি অনুমান করেন, এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে দূর্বৃত্তরা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এই ঘটনার সিলসিলে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Desk Reporter নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
কাজু বাদাম কেনার সময় গুণগত মান চিনার উপায় নিয়ে তথ্য।
কাজু বাদাম কেনার সময় গুণগত মান চিনার উপায়

পুষ্টিগুণের কথা মাথায় রেখে অনেক মানুষ নিয়মিত কাজু বাদাম খায়। কাজু বাদাম সরাসরি খাওয়া হয় অথবা বিভিন্ন রন্ধনশৈলীতে ব্যবহার করা হয়।দোকান থেকে কাজু বাদাম কিনার সময় অনেকেই এটি আসল নাকি নিম্নমানের বা ভেজাল মেশানো বুঝতে পারেন না। শুধুমাত্র প্যাকেটের চকচক দেখে ভালো কাজু বাদাম চিনা যায় না। উচ্চ মানের কাজু বাদামের রং সাধারণত ফিকে সাদা বা ক্রিম রঙের মতো হয়।অতিরিক্ত হলদে রঙ, কালচে দাগযুক্ত বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক রঙের কাজু বাদাম দেখলে সতর্ক থাকতে হবে। এগুলি পুরনো বা নিম্নমানের হতে পারে। আসল কাজু বাদাম হলে তার হালকা স্বাভাবিক বাদামের গন্ধ পাওয়া যায়।কিনার সময় যদি তেলচিটে, বাসি বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক গন্ধ পায়, তাহলে সেটা কেনা থেকে বিরত থাকা উচিত। বাজারের সাধারণ দামের তুলনায় দাম যদি অস্বাভাবিক কম হয়, তাহলে তা কেনার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।প্যাকেটজাত কাজু বাদাম কিনার সময় সিল আছে কি না, উৎপাদন তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ এবং উৎপাদনকারী সংস্থার নাম দেখে নিতে হবে। প্যাকেট খোলা অবস্থায় বা সিল নষ্ট থাকলে তা কেনা উচিত নয়। কালো দাগ, ছত্রাকের চিহ্ন বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক তেলতেলে ভাব থাকলে সেই কাজু বাদাম এড়িয়ে চলতে হবে।কাজু বাদাম কেনার ক্ষেত্রে সব সময় পরিচিত ও বিশ্বস্ত দোকান থেকে কেনা উচিত। মনে রাখতে হবে, চোখে দেখে বা স্পর্শ করে সব ধরনের ভেজাল নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায় না। তাই প্যাকেটের তথ্য, সংরক্ষণের অবস্থা এবং বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতাও সমান গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।

Desk Reporter নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
ফ্রোজেন সবজি এবং স্বাস্থ্যকর রান্নার একটি বিমূর্ত চিত্র।
ফ্রোজেন সবজির স্বাস্থ্য ও ব্যবহারের তথ্য প্রকাশিত

২০২৬ সালের ২ নভেম্বর, ১১:৩৮ এ ফ্রোজেন সবজির স্বাস্থ্য, ব্যবহার এবং সংরক্ষণ সম্পর্কে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বাজারে বিক্রি হওয়া তাজা সবজির পুষ্টিগুণ অনন্য। তবে অনেক মানুষ প্যাকেটবন্দি ফ্রোজেন সবজি কিনে সময় বাঁচানোর জন্য রান্না করে।এ ধরনের সবজির স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে অনেকের প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফ্রোজেন সবজি এবং তরতাজা সবজির তুলনা করা যায় না। তারা উল্লেখ করেন, প্যাকেটবন্দি ফ্রোজেন সবজির স্বাস্থ্যগুণ একে অপরের মতো নয়।ফ্রোজেন সবজি কেনার সময় প্যাকেটের লেবেল ভালোভাবে পড়তে হবে এবং ব্যবহৃত প্রিজারভেটিসের পরিমাণে মনোযোগ দিতে হবে। সোডিয়ামের পরিমাণ পরীক্ষা করা জরুরি। যদি তাজা সবজি না থাকে তবে ফ্রোজেন সবজি রান্নায় ব্যবহার করা যায়। এই সবজি স্যুপ, পোলাও, পাস্তা এবং চাউমিনে ব্যবহার করা যেতে পারে।বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফ্রোজেন সবজি রান্নার জন্য ব্যবহার করা ভালো নয়। বাড়িতে ফ্রোজেন সবজি তৈরি করা যায়। বাজার থেকে সবজি কিনে ভালোভাবে ধুয়ে ছোট ছোট আকারে কেটে এয়ার টাইট কৌটো বা জিপলক ব্যাগে ভরে ডিপ ফ্রিজে রাখতে হবে।প্রয়োজন হলে ফ্রিজ থেকে বের করুন এবং রান্না করার আগে কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে ফ্রিজ থেকে বের করতে হবে। যদি ফ্রোজেন হয় তবে সরাসরি রান্না করুন। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

Desk Reporter নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
স্বাস্থ্য মন্ত্রী মাদারীপুরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী মাদারীপুরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সারদার মো. সাকাওয়াত হোসেন মঙ্গলবার সকালে মাদারীপুরের ৫০ শয্যার কালেকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপ্রত্যাশিতভাবে পরিদর্শন করেন।পরিদর্শনের সময় তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন চিকিৎসককে তাদের দায়িত্বস্থলে খুঁজে পাননি।এ কারণে তিনি দুইজন নার্সের স্থানান্তরের নির্দেশ দেন এবং অনুপস্থিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেন।মন্ত্রী হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কিছু সময় অপেক্ষা করেন কারণ UH&FPO নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত ছিলেন না।পরিদর্শনের পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরে জনসাধারণের অর্থ লুটপাট হয়েছে, যার ফলে স্বাস্থ্য খাত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।তিনি জানান, হাসপাতালগুলোর আউটসোর্সিং ব্যবস্থা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সংকটাপন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংখ্যা বাড়ানো হবে।মন্ত্রী আরও বলেন, হাসপাতালগুলোতে দালালদের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কালেকিনি হাসপাতাল পরিদর্শনের পর মন্ত্রী ২৫০ শয্যার মাদারীপুর জেলা হাসপাতালও পরিদর্শন করেন। এ সময় সেখানে মাদারীপুর-২ আসনের এমপি মো. জাহান্দার আলী মিয়া, জেলা প্রশাসক মারজিনা আক্তার, জেলা পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহী এবং অন্যান্য হাসপাতাল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Desk Reporter নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
সবুজ চা মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকরী একটি উপাদান।
সবুজ চা: মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকরী একটি উপাদান

৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি স্বাস্থ্য নিবন্ধে সবুজ চায়ের মুখের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।সবুজ চা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হিসেবে পরিচিত এবং এটি ভালো মুখের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক বাণিজ্যিক মাউথওয়াশে এমন কিছু রাসায়নিক রয়েছে যা ব্যাকটেরিয়া নির্মূলের পরিবর্তে মুখের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।মুখের ব্যাকটেরিয়া যা খারাপ গন্ধ এবং প্লাক তৈরির জন্য দায়ী, তা সময়ের সাথে সাথে দাঁত এবং মাড়ির জন্য গুরুতর ক্ষতি করতে পারে।সবুজ চায়ের শক্তিশালী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য এটিকে একটি চমৎকার মাউথওয়াশের উপাদান হিসেবে তৈরি করে এবং এর কোনও ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।সবুজ চায়ের ট্যানিনের উপস্থিতি মাড়ির স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।বাণিজ্যিক সবুজ চায়ের মাউথওয়াশ সাধারণত স্ট্যান্ডার্ড মাউথওয়াশের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হয়।একটি ঘরোয়া সবুজ চায়ের মাউথওয়াশ প্রস্তুত করা অর্থ সাশ্রয়ী এবং একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি হিসেবে কাজ করে।এই মাউথওয়াশ তৈরির জন্য ১ লিটার পানি, ৩ থেকে ৪টি সবুজ চা ব্যাগ এবং ২ টেবিল চামচ শুকনো পুদিনা পাতা প্রয়োজন।মাউথওয়াশ তৈরির প্রক্রিয়া হলো: পানি ফুটিয়ে, চা ব্যাগ এবং পুদিনা পাতা যোগ করতে হবে। পরে এটি রুমের তাপমাত্রায় ঠান্ডা করে ছেঁকে একটি বোতলে ভরে রাখতে হবে।ঘরোয়া মাউথওয়াশ ব্যবহারের পর সাধারণ পানির সাথে মুখ ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।এই তথ্য স্বাস্থ্যবিল্ডারজ থেকে প্রাপ্ত।

Desk Reporter নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
বগুড়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা চলছে।
বগুড়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত তিনজন হাসপাতালে ভর্তি

আজম উদ্দিন, একজন স্বাস্থ্যকর্মী, তাঁর স্ত্রী মৌসুমি আক্তার এবং মেয়ে আরাফি জান্নাত গত শনিবার রাতে জ্বরে আক্রান্ত হন। পরদিন পরীক্ষায় তিনজনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয় এবং তারা সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি হন।গত সোমবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৯ ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে এই তিনজন একই পরিবারের সদস্য। বগুড়া জেলার ধুনট ও শেরপুর উপজেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ধুনটে ২২২ জন এবং শেরপুরে ১৮৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন।শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৮ জন, টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৩ জন, শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন এবং ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। মে মাস থেকে রোববার পর্যন্ত শজিমেক হাসপাতালে ৭১৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে দুজন মারা গেছেন।বগুড়া সিটি করপোরেশন মশা নিধনে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে। সিটি করপোরেশন বছরে অন্তত ২৫০ লিটার মশার ওষুধ ব্যবহার করে এবং ২১টি ওয়ার্ডে ৫০টি ফগার মেশিন রয়েছে। তবে ফগার মেশিনের মধ্যে ২০টি নষ্ট এবং ৬০টি হ্যান্ড মেশিনের মধ্যে ২২টি নষ্ট।মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আরএমও ডা. রাশেদুল ইসলাম রনি জানিয়েছেন, ডেঙ্গু রোগী বাড়ায় হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে। জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফারজানুল ইসলাম বলেছেন, ডেঙ্গু রোগী যাতে না বাড়ে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

Desk Reporter নভেম্বর ৩, ২০২৬ 0
থাইরয়েড গ্রন্থির স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সম্পর্কিত তথ্য।
থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা: লক্ষণ ও চিকিৎসা পদ্ধতি

থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা হরমোন নিঃসৃত করে। থাইরয়েডের সমস্যা যেকোনো বয়সে দেখা দিতে পারে এবং নারী ও পুরুষ উভয়েই এতে আক্রান্ত হতে পারেন, তবে নারীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।থাইরয়েডজনিত রোগের মধ্যে হাইপোথাইরয়েডিজম ও হাইপারথাইরয়েডিজম উল্লেখযোগ্য। হাইপোথাইরয়েডিজমে শরীরে পর্যাপ্ত থাইরয়েড হরমোন তৈরি হয় না, যার লক্ষণগুলোর মধ্যে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা, কোষ্ঠকাঠিন্য, চোখের চারপাশে ফোলা ভাব, ত্বক শুষ্ক হওয়া, এবং মাসিকের অনিয়ম অন্তর্ভুক্ত।অন্যদিকে, হাইপারথাইরয়েডিজমে শরীরে অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন তৈরি হয়। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে ওজন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, বুক ধড়ফড়, এবং মাসিকের অনিয়ম অন্তর্ভুক্ত।থাইরয়েড রোগের কারণগুলোর মধ্যে অটোইমিউন রোগ, আয়োডিনের ঘাটতি বা অতিরিক্ত গ্রহণ, এবং থাইরয়েড গ্রন্থির প্রদাহ রয়েছে। হাশিমোটো থাইরয়েডাইটিস হাইপোথাইরয়েডিজমের একটি সাধারণ কারণ, এবং গ্রেভস রোগ হাইপারথাইরয়েডিজমের অন্যতম প্রধান কারণ।থাইরয়েড রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি রক্তে TSH এবং প্রয়োজন অনুযায়ী Free T4 পরীক্ষা করা হয়। হাইপোথাইরয়েডিজমের চিকিৎসায় সাধারণত থাইরয়েড হরমোন প্রতিস্থাপনের ওষুধ দেওয়া হয়, এবং হাইপারথাইরেডিজমের চিকিৎসায় অ্যান্টিথাইরয়েড ওষুধ, তেজস্ক্রিয় আয়োডিন অথবা অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া থাইরয়েডের ওষুধ গ্রহণ বা বন্ধ করা উচিত নয়। থাইরয়েডজনিত রোগের সময়মতো শনাক্তকরণ ও যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

Desk Reporter নভেম্বর ৩, ২০২৬ 0
মাইগ্রেন একটি স্নায়বিক সমস্যা যা মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
মাইগ্রেন: একটি স্নায়বিক সমস্যা এবং এর লক্ষণ

মাইগ্রেন একটি স্নায়বিক সমস্যা যা তীব্র মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। এটি সাধারণত ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।মাইগ্রেনের আক্রমণ সাধারণত নির্দিষ্ট বিরতিতে ঘটে এবং এর ব্যথা সাধারণত চার থেকে ৭২ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে।মাইগ্রেনের লক্ষণগুলোর মধ্যে বমি, আলো ও শব্দে অস্বস্তি অন্তর্ভুক্ত। এই লক্ষণ বারবার দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে কিছু অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতিদিন সাত থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন।পানির ঘাটতি কিছু মানুষের মাইগ্রেনের আক্রমণ উস্কে দিতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত গরম, আর্দ্রতা এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনও মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়াতে পারে।

Desk Reporter নভেম্বর ৩, ২০২৬ 0
বাংলাদেশে অপরিণত শিশুর জন্মের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশে অপরিণত শিশুর জন্মের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে

২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে পাঁচ হাজার ৫১৫টি অপরিণত শিশুর জন্ম হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ১১.৯ শতাংশ বেশি।গবেষণায় দেখা গেছে, তাপপ্রবাহের কারণে বাংলাদেশে অপরিণত শিশুর জন্মের হার সবচেয়ে বেশি। এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ময়মনসিংহে গড়ে ৩.৫৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এক হাজার ৪৭৯টি অপরিণত জন্ম ঘটেছে। প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে প্রায় ১৯টি অতিরিক্ত অপরিণত শিশুর জন্ম হয়েছে।ময়মনসিংহে প্রতি হাজারে ২৪টি এবং সিলেটে প্রতি হাজারে ১৬টি অপরিণত জন্মের হার ছিল। ঢাকা ও চট্টগ্রামে অপরিণত শিশুর জন্মের ৪৭ শতাংশ ঘটেছে।২০২০ সালে বাংলাদেশে মোট শিশুর ১৬.২ শতাংশ অপরিণত জন্ম নিয়েছিল। গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৪১ থেকে ২০৬০ সালের মধ্যে স্বাভাবিক এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার ৫০০ অপরিণত শিশুর জন্ম হতে পারে।

Desk Reporter নভেম্বর ৩, ২০২৬ 0
ডেঙ্গু ও হাম সংক্রান্ত স্বাস্থ্য উদ্বেগের প্রতীকী চিত্র।
ডেঙ্গু ও হামের কারণে ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ডেঙ্গুতে ৬ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ জন মারা গেছেন।ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৬ জনের মধ্যে ৩ জন ঢাকা থেকে, ২ জন ময়মনসিংহ থেকে এবং ১ জন সিলেট থেকে। বর্তমানে ৬,০১৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে ৪৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং মোট ১,৩৮,৮৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ বছর তিন লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৬ জনের নিশ্চিত সংক্রমণসহ মোট ১,৪৯২ জনের মধ্যে উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।হামের উপসর্গ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে মোট ১,২৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

Desk Reporter নভেম্বর ৩, ২০২৬ 0
ত্বকের যত্নের জন্য বিভিন্ন উপাদানের একটি বিমূর্ত চিত্র।
ত্বকের যত্নে সহজ কিছু টিপস

অনেক মানুষ নিয়মিত রূপচর্চা করতে পারেন না, যার ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং উজ্জ্বলতা হারায়। তবে, মাত্র পনেরো মিনিটে ত্বকের ক্লান্তি দূর করা সম্ভব।ভালো ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে হাইড্রেটিং ওয়াটার বা ফেশিয়াল মিস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। রাতে ঘুমানোর আগে ত্বক পরিষ্কার করা জরুরি এবং মেকআপ থাকলে তা ভালোভাবে তুলতে হবে।ত্বকের যত্নে ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে চাইলে গোলাপ জল এবং মুলতানি মাটি, টক দই, মধু এবং পাকা কলা মিশিয়ে মুখে লাগানো যেতে পারে। শুষ্ক ত্বকের জন্য ফেসিয়াল অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে।ত্বকের ধরন অনুযায়ী সিরাম বেছে নেওয়া উচিত এবং ময়েশ্চারাইজার সিরাম ব্যবহারের পর ব্যবহার করা উচিত। রাতে ত্বকের যত্ন নেওয়া উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।

Desk Reporter নভেম্বর ৩, ২০২৬ 0
শীতের ত্বকের যত্নের জন্য পরিবর্তন প্রয়োজন।
শীতের আগমনে ত্বকের যত্নে পরিবর্তন প্রয়োজন

বর্তমানে ঋতু হচ্ছে শরৎ, যখন তাপমাত্রা কমছে। শীতের আগমনে ত্বকের যত্নে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি।ঠান্ডা বাতাস এবং কম আর্দ্রতা ত্বকে শুষ্কতা সৃষ্টি করতে পারে, যা টান, চুলকানি বা রুক্ষতার কারণ হতে পারে। ঠোঁট এবং হাতও শুষ্ক ও ফাটা হতে পারে যদি আর্দ্রতা বজায় না রাখা হয়।ত্বকের যত্নের রুটিন পরিবর্তন করা গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ফেসওয়াশ ব্যবহারে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, তাই মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।মুখ ধোয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ময়েশ্চারাইজার লাগানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিম-ভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার হালকা লোশন থেকে বেশি কার্যকর হতে পারে।শীতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করাও জরুরি, কারণ UV রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিং লিপ বাম ব্যবহার করা চিটে ঠোঁট প্রতিরোধে সাহায্য করে।অতিরিক্ত গরম পানিতে স্নান করা এড়িয়ে চলা উচিত, যাতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট না হয়। হাত ধোয়ার পর এবং ঘুমানোর আগে হাতের ক্রিম ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Desk Reporter নভেম্বর ২, ২০২৬ 0
বাজারে বিভিন্ন প্রকার লবণ পাওয়া যায়।
লবণের স্বাস্থ্যকর ব্যবহারের পরামর্শ দিলেন ডা. অর্জুন শঙ্করন

বাজারে সাদা লবণের পাশাপাশি পিঙ্ক সল্ট, সৈন্ধব লবণ, বিট লবণ ও কেল্টিক লবণ পাওয়া যায়। লবণের রং, স্বাদ ও দাম আলাদা।ডা. অর্জুন শঙ্করন ইনস্টাগ্রামে লবণের ব্যবহার নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিদিনের রান্নায় আয়োডিনযুক্ত সাদা লবণ ব্যবহার করা উচিত।বিশুদ্ধ লবণ প্রাকৃতিকভাবে সাদা হয় এবং আয়োডিন যোগ করা হয়। আয়োডিন থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে সহায়তা করে এবং এর ঘাটতি গলগণ্ড ও থাইরয়েডের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।গর্ভাবস্থায় আয়োডিনের অভাব শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। প্যাকেটের গায়ে আয়োডিনযুক্ত লেখা আছে কি না, তা দেখে লবণ কেনা উচিত।ডা. শঙ্করনের পরামর্শ অনুযায়ী, দিনে এক চা চামচের কম লবণ খাওয়া উচিত। তিনি বলেন, দামি বা রঙিন লবণ মানেই বেশি স্বাস্থ্যকর নয়।অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কম সোডিয়ামযুক্ত লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে, এটি কিডনির সমস্যা বা পটাশিয়ামযুক্ত ওষুধ খাওয়া ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত নয়।

Desk Reporter নভেম্বর ২, ২০২৬ 0
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে ক্ষতির তথ্য প্রকাশ।
জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে ক্ষতির তথ্য প্রকাশ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে ক্ষতি বাড়ছে। ‘ল্যানসেট কাউন্টডাউন ২০২৬: স্বাস্থ্য ও জলবায়ু পরিবর্তন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।প্রতিবেদনটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তীব্র গরমের কারণে বাংলাদেশে আয়ক্ষতি ১ হাজার ৭৫০ কোটি মার্কিন ডলার হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ২ লাখ ১৭ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা।১৯৮৬ ও ২০০৫ সালের তুলনায় শিশুদের মধ্যে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি ১৬২ শতাংশ বেড়েছে। প্রবীণদের মধ্যে এই ঝুঁকি ১৩৬ শতাংশ বেড়েছে।২০২৩ সালে মানবসৃষ্ট সূক্ষ্ম কণাদূষণের কারণে আনুমানিক ২ লাখ ৩৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনটি ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতির সূচক বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছে।গতকাল রোববার ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সি৩ইআর) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।শৌর্য দাশগুপ্ত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গরমের কারণে প্রতিবছর গড়ে ২৬ বিলিয়ন শ্রমঘণ্টা নষ্ট হয়েছে।

Desk Reporter নভেম্বর ২, ২০২৬ 0
ভিটামিন ও খনিজ শরীরের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজের প্রয়োজনীয়তা

ভিটামিন ও খনিজ শরীরের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।ভিটামিন বি১ কার্বোহাইড্রেটকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে। ব্ল্যাক বিন, মসুর ডাল, টুনা মাছ এবং সূর্যমুখীর বীজে ভিটামিন বি১ পাওয়া যায়।ভিটামিন সি একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরে ফ্রি র‍্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং HDL কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন অন্তত ৭৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি প্রয়োজন, ২০০ মিলিগ্রাম গ্রহণ করা আরও ভালো। স্ট্রবেরি, ব্রকলি, সাইট্রাস ফল এবং ব্রাসেলস স্প্রাউটে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে।ভিটামিন ডি শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে এবং এর ঘাটতি অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়। ৫০ বছর বয়সী নারীদের জন্য নিয়মিত ২০০ ইউনিট ভিটামিন ডি প্রয়োজন। স্যামন ও টুনা মাছ এবং ফর্টিফাইড খাবার থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।আয়রন রক্তস্বল্পতা থেকে রক্ষা করে এবং মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। দৈনন্দিন চাহিদা পূরণের জন্য অন্তত ১৮ মিলিগ্রাম আয়রনের প্রয়োজন। লাল মাংস, ঝিনুক, মাছ এবং মুরগির মাংসে আয়রনের ভালো উৎস রয়েছে।ভিটামিন বি২ চর্বি, শর্করা এবং প্রোটিন ভেঙে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। ফর্টিফাইড সিরিয়াল, চর্বিহীন মাংস, সবুজ শাকসবজি এবং দুধে ভিটামিন বি২ পাওয়া যায়।ক্যালসিয়াম হাড়ের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি কমায়। ৫০ বছর বয়সের কাছাকাছি সময়ে প্রতিদিন ১,০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য প্রতিদিন ১,২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা উচিত। দুগ্ধজাতীয় খাবার, বিভিন্ন ধরনের ডাল এবং গাঢ় সবুজ শাকসবজি ক্যালসিয়ামের উৎস।

Desk Reporter নভেম্বর ২, ২০২৬ 0
বাংলাদেশের ভেনম রিসার্চ সেন্টার সাপের কামড়ের চিকিৎসা নিয়ে কাজ করছে।
বাংলাদেশে সাপের কামড়ের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ

বাংলাদেশের ভেনম রিসার্চ সেন্টার দুই বছর আগে সরকারের কাছে রাসেলস ভাইপারের অ্যান্টিভেনম তৈরির প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে, অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় তাদের গবেষণা কার্যক্রম থমকে রয়েছে।২০২৩ সালে দেশে প্রতি বছর সাড়ে চার লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হয় এবং সাড়ে সাত হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৭ সালে সাপের কামড়কে 'চরম উপেক্ষিত' সমস্যা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।বাংলাদেশে সাপে কাটা রোগীদের ৮৬ শতাংশ অপচিকিৎসার শিকার হন। প্রতি বছর ছয় হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসকের বদলে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভরতার কারণে মারা যায়।বর্তমানে বাংলাদেশে দক্ষিণ ভারত থেকে আনা সাপের বিষের প্রতিষেধক দিয়ে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা করা হয়। ভেনম রিসার্চ সেন্টার দুই প্রজাতির কোবরা, এক প্রজাতির কিং কোবরা, পাঁচ প্রজাতির ক্রেইট, এক প্রজাতির রাসেলস ভাইপার এবং দুই প্রজাতির পিট ভাইপারের বিষ সংগ্রহ করেছে।অধ্যাপক মো. আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, অ্যান্টিভেনম তৈরির জন্য সাপের বিষের মান নির্ধারণ করতে হয় এবং পাঁচ মিলিগ্রাম ভেনম প্রয়োজন। ভারতীয় অ্যান্টিভেনম বাংলাদেশের রোগীদের দেহে কম কার্যকর।বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে সাপের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্বাক্ষরকারী দেশ।

Desk Reporter অক্টোবর ২৬, ২০২৬ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সম্ভাবনার নতুন শ্রমবাজার সার্বিয়া

মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক  

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

Top week

ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা
অর্থনীতি

ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা

News অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0