উন্নয়ন প্রকল্প পাসের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রকল্পের গুণগত মান বাড়াতে ১৩টি নির্দেশনা জারি করেছে পরিকল্পনা বিভাগ। সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির সময় বিনিয়োগের আর্থিক সুফল, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবেশগত প্রভাব, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
নির্দেশনায় সরকারি সংস্থাগুলোকে এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। এতে প্রকল্প গ্রহণের আগে ব্যয়ের বিপরীতে কী পরিমাণ সুফল পাওয়া যাবে, জনগণের অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যয় হবে এবং প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদে কতটা টেকসই হবে, তা মূল্যায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি প্রকল্পের ডিপিপিতে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার বা ভ্যালু ফর মানি (ভিএফএম) নিশ্চিত করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রকল্পের মানদণ্ড, সম্ভাবনা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও বিশ্লেষণ সংযুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পে বিনিয়োগের বিপরীতে আর্থিক রিটার্ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সম্ভাবনাও মূল্যায়ন করতে হবে।
জারিকৃত নির্দেশনায় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা চিহ্নিত করার পাশাপাশি ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।
প্রতিবন্ধীদের জন্য উন্নয়ন প্রকল্পের অবকাঠামো সহজে ব্যবহার উপযোগী করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রকল্পের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী র্যাম্প, লিফট, প্রতিবন্ধীবান্ধব শৌচাগারসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখার কথা বলা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং কার্বন ক্রেডিট-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) প্রতিবেদন প্রস্তুত ও জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন অবকাঠামোর সমন্বয় থাকতে হবে। প্রকল্পগুলো যাতে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়টিও ডিপিপিতে তুলে ধরতে হবে।
জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা ও আগাম পরিকল্পনা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে পরিকল্পনা বিভাগ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির সময় এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নির্দেশনার ফলে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থ বরাদ্দের বিষয় নয়, বরং প্রকল্পের প্রকৃত সুফল, অর্থনৈতিক প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতাও বিবেচনায় আসবে। এতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, প্রকল্পের মান বাড়ানো এবং সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) তিন লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ইনভেস্টমেন্টর করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ আমার দেশকে বলেন, যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কারণ এসব প্রকল্পের অর্থায়নে বড় একটি অংশই আসে ঋণ থেকে, যা শেষ পর্যন্ত জনগণকেই পরিশোধ করতে হয়। তাই প্রকল্প অনুমোদনের আগে এর সম্ভাব্য সুফল, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত আর্থিক রিটার্ন যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা উচিত।
তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এসব বিষয় যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হতো না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের যৌক্তিকতা ও কার্যকারিতা উপেক্ষিত হয়েছে। এখন থেকে এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করেই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদন দেওয়া উচিত।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারভুক্ত আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান যুক্ত হতে যাচ্ছে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনটির খসড়া পর্যালোচনায় গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে। বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সুনির্দিষ্ট মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনের খসড়া পরিমার্জন করা হচ্ছে। নতুন আইন যেন স্বাধীন সাংবাদিকতা কিংবা গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে। পাশাপাশি যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিধান রাখা হবে। মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা ও সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো আলাদা করে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দেশের মূল দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষায় গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞাও আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আইনের অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে যাতে কাউকে হয়রানি করা না যায়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল কনটেন্ট অপসারণে লিখিত কারণ দর্শানোর প্রস্তাব নতুন খসড়ায় মোবাইল কোর্টের কোনো বিধান না রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া এবং কনটেন্ট অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রস্তাবও এসেছে। সভায় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের নতুন সদস্য কাঠামোয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মেটা, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়। পরিমার্জিত খসড়াটি শিগগিরই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। সভায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা বলেন, সাইবার অপরাধ ও হুমকি প্রতিরোধের পাশাপাশি নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের ভারসাম্য বজায় রেখেই সময়োপযোগী সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির বিশেষ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সভায় আইসিটি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামানসহ সরকারের নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে চীন ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক দর্শন এক ও অভিন্ন। চীনের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম। ক্ষমতায় কোন দল আছে সেটি নয়, বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলই চীনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ-চীন পার্টি ও রাষ্ট্র শাসনবিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধন এবং ‘যেখানে ইতিহাস ভবিষ্যৎকে আলোকিত করে; চীন-বাংলাদেশ রাজনৈতিক দল প্লাস’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান ও মন্ত্রী লিউ হাইশিং এ মন্তব্য করেন। ঢাকায় চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) ড. লিউ ইউয়িন পরিচালিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি খোরশেদ আলম, ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন। সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেনÑ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও কয়েকজন সংসদ সদস্য। সেমিনারে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি গতকাল রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করেন লিউ হাইশিং। এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরেও শ্রদ্ধা জানান তিনি। গত মঙ্গলবার রাতে তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন চীনের এ প্রভাবশালী নীতিনির্ধারক। সেমিনারে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দল সরকারে আছে কি না, তা বিবেচনায় না নিয়ে সব প্রধান রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী চীন। দুদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিতে পারে। চীনা মন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এক কোটি ৫০ লাখ ডলার থেকে বেড়ে ২,৩০০ কোটি ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে সড়ক, সেতু ও টানেলসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সহযোগিতা দুদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। তিনি আরো বলেন, তিস্তা নদী পুনরুদ্ধার ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং মোংলা বন্দর শিল্পপার্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি দুই দেশের জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনবে বলে আশা করে চীন। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ আরো এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দল, সরকার, ব্যবসায়ী, গবেষক, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন লিউ হাইশিং। নতুন উদ্বোধন হওয়া বাংলাদেশ-চীন পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজ সেন্টার দুদেশের শাসনব্যবস্থা, নীতি ও উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। চীনা মন্ত্রী বলেন, দুদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে নতুন যুগের অগ্রগতির শক্তিতে পরিণত করতে বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। সেমিনারে চীনা নেতা বলেন, চীনে একটি প্রবাদ আছে, ‘বর্তমানকে বোঝার জন্য অতীতকে আয়নার মতো দেখা উচিত; অতীত ছাড়া বর্তমানের অস্তিত্ব সম্ভব নয়।’ ইতিহাস আমাদের এমন এক মূল্যবান বন্ধুত্ব উপহার দিয়েছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে আছে। এ বছর চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। লিউ হাইশিং বলেন, শতবর্ষী একটি বড় দল হওয়া সত্ত্বেও সিপিসি এখনো তার পূর্ণ প্রাণশক্তিতে ভরপুর এবং দলটি প্রতিনিয়ত নিজেকে আরো শক্তিশালী করার উপায় খুঁজে চলেছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী বলেন, বিএনপি দুদেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভিত্তি রচনা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। আর সে সম্পর্ককে এগিয়ে নেন খালেদা জিয়া। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুদেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাপারে চীনের নীতিকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে সমর্থন করি। চীন বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন সহযোগী। ‘এক চীন’ নীতির প্রতি আমাদের সমর্থন অকুণ্ঠ। লিউ হাইশিংয়ের এ সফর দ্বিপক্ষীয় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। গোলাম পরওয়ার তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে দুদেশের ‘পার্টি টু পার্টি’ সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার পরিবর্তন হয়, কিন্তু দলের কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। তিনি বলেন, দারিদ্র্যবিমোচন, জনকল্যাণ ও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আমরা চীনের সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করি। চীনা নীতির ভূয়সী প্রশংসা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে আমরা বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল একই সুরে কথা বলি। অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার চীনা নীতি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়তে আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে দুদেশের নতুন প্রজন্মের মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনা মন্ত্রীর সাক্ষাৎ চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং গতকাল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং চীন-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদারের আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষর এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। কুনমিং ও চট্টগ্রামকে সংযুক্ত করার প্রস্তাবিত করিডোর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরসহ বহুমাত্রিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান তিনি। এ সময় রাষ্ট্রপতি চীনের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। চীনের মন্ত্রী এ সময় সবুজ জ্বালানি, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ইত্যাদি বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি ১,০০০ শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতালের অর্থায়ন ও নির্মাণে সহযোগিতা করায় চীনকে ধন্যবাদ জানান এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে চীনের অব্যাহত সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন। চীনের মন্ত্রী এ বিষয়ে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন। লিউ হাইশিং বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় এই সম্পর্ক আরো জোরদার হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় এবং বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন লিউ হাইশিং। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর কাছে শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন লিউ হাইশিং। জবাবে প্রধানমন্ত্রীও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংকে শুভেচ্ছা জানান। বৈঠকে লিউ হাইশিং বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরের সময় দুদেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন যুগের যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সে ঘোষণার আলোকে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরো সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে সিপিসির এই মন্ত্রী বলেন, ঢাকার প্রতি বেইজিংয়ের অঙ্গীকার অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরো গভীর ও শক্তিশালী হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনার প্রতিও আস্থা প্রকাশ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়। দীর্ঘদিন ধরে দুদেশের জনগণের হৃদয়ে এ সম্পর্কের বিশেষ স্থান রয়েছে। এই ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা এগিয়ে নেওয়া এখন আমাদের দায়িত্ব। নতুন প্রজন্মের হাত ধরে দুদেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার এ ঐতিহ্য আরো এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বৈঠকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে উভয়পক্ষ। লিউ হাইশিং বলেন, দুদলের সম্পর্ক আরো বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে চীন আগ্রহী। এ সময় তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। এছাড়া বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। পাশাপাশি রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রতি চীনের সমর্থনের কথা জানান লিউ হাইশিং। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ১৩ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ, জনমিতি ও পরিবেশের ওপর সৃষ্ট চাপের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ সংকট সমাধানে তিনি চীনের সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে লিউ হাইশিং বলেন, চীন রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে অবগত রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের কথা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অবহিত করবেন।
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই চূড়ান্ত করা হবে এবং আগামী জানুয়ারি মাস থেকে শ্রমিকেরা বর্ধিত হারে বেতন পাবেন। নিম্নতর মজুরি বোর্ডের প্রথম সভায় মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মজুরি বোর্ড কার্যালয়ে বোর্ডের প্রথম সভা শুরু হয়। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলা সভা শেষে সাংবাদিকদের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। নিম্নতর মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পিরোজপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দ আজাদ সুবহানী জানান, আমাদের চিন্তাভাবনা শ্রমিকদের পক্ষেই। শ্রমজীবীদের পক্ষেই আলোচনা হচ্ছে এবং অচিরেই তাদের জন্য সুখবর মিলবে। আগামী সপ্তাহে বোর্ডের দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শ্রমিকদের দাবি করা নতুন মজুরির পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন ও বিশ্লেষণ করা হবে। প্রথম সভা শেষে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি—উভয় পক্ষই আন্দোলনরত শ্রমিকদের কাজে ফেরার ও রাজপথের আন্দোলন প্রত্যাহারের আহবান জানিয়েছেন। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন বলেন, যারা রাস্তায় আন্দোলন করছেন, তাদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই আলোচনা চলছে। তাই আন্দোলন ছেড়ে কাজে ফেরা উচিত। অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার জানান, বিভিন্ন কারখানায় এখনও বকেয়া বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ কাজ করছে। এই কারণে পুরো পোশাকখাতেই যেন নতুন মজুরি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে বিষয়ে বোর্ডে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান তিনি। তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের চলমান অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে গত এক নভেম্বর ছয় সদস্যের নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। আজ নতুন বোর্ডের প্রথম সভাতেই ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি চূড়ান্ত করার এই সিদ্ধান্ত এলো।