দেশজুড়ে

ধনবাড়ীতে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা

মাদক-চাঁদাবাজি ও অনলাইন জুয়া বন্ধে গুরুত্বারোপ

হোসেন মাঝি আগস্ট ২০, ২০২৬ 0
মাদক-চাঁদাবাজি ও অনলাইন জুয়া বন্ধে গুরুত্বারোপ
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা

 

 

মো. পলাশ ইসলাম, ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ্ নূরজাহান আক্তার সাথীর সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দিল-আফরোজ। সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্র প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুস সালাম সিদ্দিক, ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ এম. আজিজুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি এস এম সোবহান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক (ভিপি), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম মহব্বত, উপজেলা বিএনপির সদস্য কামাল হোসেন তালুকদার মিন্টু, ধনবাড়ী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সৈয়দ সাজন আহমেদ রাজু, কার্যকরী সদস্য মো. পলাশ ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া সভায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ, ছাত্র প্রতিনিধি, সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্কুল-কলেজের শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ধনবাড়ী উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন অপরাধ ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে শহর ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট নিরসন, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং বন্ধ এবং ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে শুধু প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। অপরাধ প্রতিরোধে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদক ও অনলাইন জুয়ার মতো ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় সড়কে অবৈধ পার্কিং ও যানজট সৃষ্টিকারী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার এবং চুরি-ডাকাতিসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

সভায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত শোনা হয় এবং বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ্ নূরজাহান আক্তার সাথী উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। জনসাধারণের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।

মো: পলাশ ইসলাম 
ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল 
মোবা: ০১৯৫৩২৫৫০০৮ 
তারিখ: ২০-৮-২০২৬

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

দেশজুড়ে

View more
সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বিরোধীদলীয় নেতা
সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বিরোধীদলীয় নেতা

  বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার দুপুর সোয়া ১২টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই মতবিনিময় শুরু হয়। এতে যায়যায়দিন সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এন ই সি) আহ্বায়ক শফিক রেহমান, আমার দেশ সম্পাদক ও এনইসি যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন, নয়া দিগন্তের সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান, ওয়াদার শফিকুল আলম, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, সময়ের আলোর সৈয়দ শাহ নেওয়াজ করিম, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন, ঢাকা মেইলের হারুন জামিল, মোস্তফা কামাল মজুমদার, এদিন, ভোরের ডাকসহ বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকরা অংশ নিয়েছেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন।

News আগস্ট ২৪, ২০২৬ 0
ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযান, চারজন আটক

ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযান, চারজন আটক

গুদামের দরজা ভেঙে ‘১৯৭ বস্তা’ সার নিয়ে গেলেন কৃষক

গুদামের দরজা ভেঙে ‘১৯৭ বস্তা’ সার নিয়ে গেলেন কৃষক

রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য হাবীব আজমের বর্ণাঢ্য বিদায়

রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য হাবীব আজমের বর্ণাঢ্য বিদায়

সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ
সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ

  মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ  চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি   চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১৩০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধীন মনাকষা বিওপির একটি বিশেষ টহলদল শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের চালকিপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, জব্দ করা ১৩০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫২ হাজার টাকা। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। ৫৩ বিজিবি জানায়, চলতি আগস্ট মাসে বিভিন্ন অভিযানে ভারতীয় ৫২২ বোতল নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ এবং ১১৫ বোতল নেশাজাতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ জব্দ করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

News আগস্ট ২৩, ২০২৬ 0
দেশে ১০ ভাগ মানুষের হাতে ৯০ ভাগের চেয়ে বেশি সম্পদ

দেশে ১০ ভাগ মানুষের হাতে ৯০ ভাগের চেয়ে বেশি সম্পদ

মাদক-চাঁদাবাজি ও অনলাইন জুয়া বন্ধে গুরুত্বারোপ

মাদক-চাঁদাবাজি ও অনলাইন জুয়া বন্ধে গুরুত্বারোপ

দুর্গম ছোটহরিণায় বিজিবির মানবিক সহায়তা: ১৪ পরিবার ও এতিমখানায় ৭০ হাজার টাকার অনুদান বিতরণ

দুর্গম ছোটহরিণায় বিজিবির মানবিক সহায়তা: ১৪ পরিবার ও এতিমখানায় ৭০ হাজার টাকার অনুদান বিতরণ

মোংলায় চাঁদা না পেয়ে ড্রেজার শ্রমিককে মারধর করে টাকা ছিনতাই
মোংলায় চাঁদা না পেয়ে ড্রেজার শ্রমিককে মারধর করে টাকা ছিনতাই

  বাগেরহাটের মোংলায় চাঁদা না পেয়ে মো. আলমগীর শেখ (২৭) নামের এক ড্রেজার শ্রমিককে মারধর নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আলমগীর শেখ মোংলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। রোববার রাত ১০টার দিকে উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের উত্তর বাঁশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে । অভিযোগে আলমগীর শেখ জানান, তিনি বালু কাটার ড্রেজারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন ইমলাদ গাজী (৩৫), শামীম ফকির (৩৫) ও বাচ্চু ফকির (৪৪)। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তার ওপর ক্ষুব্ধ হন। পরে রাতে বাড়ি ফেরার পথে তিন রাস্তার মোড়ে অভিযুক্তরা আরো কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তার পথ রোধ করেন। এ সময় তাকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার পকেটে থাকা ৪ হাজার ৮৭০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এসময় তারা বলেন, ড্রেজারে কাজ করতে হলে নিয়মিত চাঁদা দিতে হবে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. মানিক বলেন, "আমি কয়েকজনকে আলমগীরকে মারধর করতে দেখেছি। এ সময় তার কাছে টাকা দাবি করা হচ্ছিল। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যান।" মোংলা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম বলেন, "ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।b

News আগস্ট ১৮, ২০২৬ 0
নারীদের জন্য চালু হলো ‘পিংক বাস’ সার্ভিস, চলবে ১৪ রুটে

নারীদের জন্য চালু হলো ‘পিংক বাস’ সার্ভিস, চলবে ১৪ রুটে

ভুয়া জমিদাতা সদস্য মনোনয়নের অভিযোগে ইউএনও সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ভুয়া জমিদাতা সদস্য মনোনয়নের অভিযোগে ইউএনও সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বন্ধ ময়মনসিংহের ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, পরিচালক দায় দিলেন ড. ইউনূসের

বন্ধ ময়মনসিংহের ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, পরিচালক দায় দিলেন ড. ইউনূসের

0 Comments